কলাম ফিচার

শেখ হাসিনার কারাবন্দি দিবসে ১/১১ কুশীলবদের বিচার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারান্তরীণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস পালন করেছে আওয়ামী লীগ। দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দেয়ার প্রত্যয় এবং আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৬ জুলাই দিবসটি পালন করে আওয়ামী লীগ।
দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর ধানমন্ডির সুধাসদনের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিন জাতীয় সংসদে স্থাপিত সাবজেলে কারারুদ্ধ থাকেন তিনি। আটকের ১ বছরেরও বেশি সময় পর স্থায়ীভাবে মুক্তি পান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে আওয়ামী লীগ এই দিনটিকে কারান্তরীণ ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
দিবসটি উপলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দণি আওয়ামী লীগ এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দাবি করেছেন, বিএনপির জন্যই দেশে ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল। বিএনপির মুখে সরকারের ব্যর্থতার কথা মানায় না। নিজেদের শাসনামলে লুটপাট-দুর্নীতি ও দুঃশাসনের জন্য বিএনপির লজ্জা হওয়া উচিত। তবে দেশের রাজনীতিতে আর যাতে কখনও অগণতান্ত্রিক শক্তি হস্তপে করতে না পারে সেজন্য ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।
এসময় তিনি ১/১১-এর কুশীলবদের বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তারের পেছনে যারা জড়িত ছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান।
হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত তাদের পশ্চিমা মিত্রদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। সবদেশেই এ ধরনের ষড়যন্ত্র থাকে। এ নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না।
তিনি বলেন, বিএনপির দুঃশাসনের কারণেই ওয়ান-ইলেভেন সৃষ্টি হয়েছিল। কারণ তারা কোনোভাবে একবার মতায় গেলে মতা ছাড়তে চায় না। বিএনপি ১৯৯১ সালে মতায় এসে জোর করে ১৯৯৬ সালে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল। কিন্তু গণআন্দোলনের মুখে খালেদা জিয়াকে মতা ছাড়তে হয়েছিল।
হানিফ বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২০০১ সালে মতায় এসে বিএনপি আবারও মতায় থাকার ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং দলীয় লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিল। যার ফলে অগণতান্ত্রিক শক্তি দেশের রাজনীতিতে হস্তপে করার সুযোগ পেয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে ষড়যন্ত্র আগেও ছিল, এখনও আছে। আমাদের দেশেই শুধু নয়, বিদেশেও প্রতিটি সরকারকে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। আমাদের দেশও সেই চ্যালেঞ্জের বাইরে নয়।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর মতো রাজনৈতিক শক্তি দেশে আর নেই। দেশের রাজনীতিতে আর যাতে কখনও অগণতান্ত্রিক শক্তি হস্তপে করতে না পারে সেজন্য ওয়ান-ইলেভেনের ষড়যন্ত্রকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া উচিত।
হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার মতো সামর্থ্য আওয়ামী লীগের রয়েছে। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের মধ্যে বিভক্তি ছিল। এখন দলে সে ধরনের কোনো সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে যেমন বেশি ঐক্যবদ্ধ, তেমনি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে দলের তৃণমূল আরও বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
ঢাকা মহানগর দণি আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং শিা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর দণি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, সেনা সমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হন। প্রথমে তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়। এ সময় কারাগারের অভ্যন্তরে শেখ হাসিনা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন চিকিৎসকরা শেখ হাসিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর পরামর্শ দেন। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্রমাগত চাপ, আপসহীন মনোভাব ও অনড় দাবির পরিপ্রেেিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
শেখ হাসিনাকে ২০০৮ সালের ১১ জুন ৮ সপ্তাহের জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি পেয়েই চিকিৎসার উদ্দেশে যুক্তরাষ্ট্র যান তিনি। চিকিৎসা শেষে একই বছরের ৬ নভেম্বর দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। কয়েক দফায় জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর পর দেশে ফিরলে তাঁকে স্থায়ী জামিন দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।