প্রতিবেদন

ঈদকেন্দ্রিক গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত খামারিরা

বিশেষ প্রতিবেদক
ঈদুল আজহা খুবই নিকটে। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঈদুল আজহার বড় প্রস্তুতি বা আয়োজনের মধ্যে রয়েছে কোরবানির পশু কেনা। অতীতে দেশি-বিদেশি পশু দিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করলেও গত কয়েক বছর যাবৎ এবং এবার কোরবানি করার মতো পর্যাপ্ত পশু দেশেই উৎপাদন করা হয়েছে। এ কারণে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল আজহার পশু কোরবানিকে কেন্দ্র করে দেশে গরু মোটাতাজা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
এ প্রক্রিয়ায় দু’ভাবে পশু মোটাতাজা করা হয়। এর একটি হলো প্রাকৃতিক উপায়ে আধুনিক মানের পরিকল্পিত পুষ্টিকর খাবার দিয়ে, অন্যটি হলো কৃত্রিম উপায়ে বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপায়ে পশু ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নানা ধরনের ওষুধপত্র প্রয়োগ করে।
পুষ্টিকর খাবার, অধিক যতœ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে অনেক গৃহস্থ। প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করা এসব গরু ও অন্যান্য পশুর চাহিদা বাড়ছে। তবে অধিক লাভের আশায় এবং ‘ট্যাবলেট ব্যবসায়ীদের’ ফাঁদে পড়ে কোনো কোনো কৃষক গরু মোটাতাজা করে থাকে। কেউ কেউ স্টেরয়েড বা হরমোন প্রয়োগ করে গরু মোটাতাজা করে। বিশেষত খামার পর্যায়ে এই প্রবণতা বেশি। সরকারের কড়া অবস্থানের কারণে গত কয়েক বছরে ক্ষতিকর ট্যাবলেট খাইয়ে কৃত্রিম উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়া অনেক কমে এসেছে, কিন্তু একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি। অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যক্তি এসব ট্যাবলেট খাইয়ে অল্প দিনের মধ্যেই গরুকে মোটা দেখিয়ে বিভিন্ন হাটে বিক্রির প্রস্তুতি নেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিন দিন ক্রেতাদের সচেতনতায় খামারিরাও এখন আগের মতো গরুকে এসব ট্যাবলেট খাওয়ান না। তারপরও এ ধরনের অবৈধ ওষুধ আনা থেমে নেই। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র সক্রিয়। তাদের প্ররোচনায় অল্প সময়ে কম খরচে ট্যাবলেট দিয়ে গরু মোটাতাজা করছে কিছু অতি লোভী খামারি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) তৎপরতার কারণে এই অবৈধ ওষুধ ধরাও পড়ছে। বিজিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ওষুধের প্রবেশ ঠেকাতে এবং দেশের খামারিদের সুরায় ঈদের এই সময়ে আরও বেশি কড়া নজরদারি থাকবে সীমান্তে।
খামারিরা জানায়, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু গৃহস্থ ও মৌসুমি গরু ব্যবসায়ী এসব ট্যাবলেটের মূল ক্রেতা। এসব মৌসুমি ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা করতে গরু মোটাতাজাকরণে রাসায়নিক দ্রব্য ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ব্যবহার করে। তাছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অসাধু কিছু ব্যবসায়ী ট্যাবলেট খাইয়ে অল্প সময়ে গরু মোটাতাজা করার উদ্যোগ নেয়। গমের ভূসি, খৈল ও অন্য পশুখাদ্যের দাম বেশ চড়া হওয়ার সুযোগ নেয় সুযোগসন্ধানীরা।
পাশর্^বর্তী দেশ থেকে সীমান্তের একাধিক পয়েন্ট দিয়ে চোরাই পথে দেশে আনা হচ্ছে গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট। অন্য সময়ের চেয়ে কোরবানির ঈদে এই ট্যাবলেটের ব্যবসাটা জমজমাট থাকে। আর সেই সুযোগ নিতে চায় চোরাকারবারিরা। অল্প সময়ে কম খরচে ট্যাবলেট দিয়ে গরু মোটাতাজা করতে অতি লোভী খামারিরা ফাঁদে পা দেয়।
প্রতি বছর কোরবানির সময় পশুর চাহিদা বৃদ্ধি পায়। আর কোরবানির ঈদ সামনে রেখে এক শ্রেণির অসাধু খামারি গরু মোটাতাজাকরণে মরিয়া হয়ে ওঠে। অনেক কম মূল্যে আর কম সময়ে গরু মোটাতাজা করে বাজারে ওঠাতে পারে বলে এর চাহিদাও বাড়ে। আর এই চাহিদাকে পুঁজি করে একটি চক্র চোরাচালানের মাধ্যমে গরু এবং গরু মোটাতাজাকরণ ওষুধ আনতে তৎপর হয়। যদিও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দেশে এবার কোরবানিযোগ্য পর্যাপ্ত পশু রয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেয়া সাম্প্রতিক তথ্যে জানা যায়, গত বছর কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ৫ লাখ। এর মধ্যে দেশীয় পর্যায়ে জোগান ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৩টি পশুর। গত বছরও চাহিদার তুলনায় ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৩টি গবাদি পশু বেশি ছিল। এবার গত বছরের চাহিদার সঙ্গে ৫ শতাংশ হিসাব বাড়িয়ে চাহিদা করা হয়েছে ১ কোটি ১১ লাখ গবাদি পশু। তার বিপরীতে জোগান আছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু। এ বছরও চাহিদার চেয়ে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৩টি পশু বেশি আছে।
সূত্র জানায়, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে কোটি-কোটি টাকার গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট প্রবেশ করাতে মরিয়া চোরাকারবারিরা। আর সেই অপতৎপরতা ঠেকাতে সীমান্তে কড়া নজর রাখছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। কোরবানিকে কেন্দ্র করে ভারতীয় গরু বা গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেটসহ অন্যান্য বিষয়ে ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিজিবিসহ সীমান্তবর্তী অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিবন্ধিত খামারি ও গ্রামাঞ্চলে ব্যবসায়ীরা হৃষ্টপুষ্ট গরু প্রস্তুত করেন। নিবন্ধিত খামারে সাধারণত গরুকে প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা ও সুস্থ রাখতে খড়, তাজা ঘাস, খুদের ভাত, সিদ্ধ আলু, মসুর ও খেসারি ডাল এবং ভূষিসহ পুষ্টিকর বিষমুক্ত খাবার দেয়া হয়। এ ধরনের গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ। কিন্তু গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ী প্রাকৃতিক নিয়মে গরু পালন করে না। তারা কোরবানির ২-৩ মাস আগে অস্বাস্থ্যবান গরু কিনে তিকর নিষিদ্ধ ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করার পন্থা অবলম্বন করে। এসব গরুর মাংস মানবদেহের জন্য খুবই তিকর।
আশার কথা হলো, এ বছর খামারিদের কাছে যথেষ্ট ভালো মানের হৃষ্টপুষ্ট সুস্থ গরু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিদের সচেতনতা বেড়েছে বলে এসব ট্যাবলেটের ব্যবহারও অনেকটা কমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞ পশুচিকিৎসকদের মতে, গরুকে মোটাতাজাকরণের ওষুধ খাওয়ালে গরু দেখতে মোটা হয় ঠিকই, শরীরে চামড়ার নিচে পানি জমে ফুলে যায় কিংবা চর্বি বেড়ে যায়। গরুর মুখম-ল ফুলে যায়। আসলে মাংস একটুও বাড়ে না।
এ ব্যাপারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু স্বদেশ খবরকে বলেন, আমাদের চাহিদার চেয়ে ১০ লাখের মতো পশু বেশি আছে। আমরা দেশীয় পশু কোরবানি দিতে সম। তাই ভারতীয় পশু বা এসব অবৈধ ওষুধ চোরাই পথে যেন না আসে আর আমাদের খামারির যেন তি না হয় তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় কোরবানিযোগ্য গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ, যার মধ্যে কোরবানিযোগ্য গরু-মহিষের সংখ্যা ৪৫ লাখ ৮২ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭২ লাখ। এছাড়াও ৬ হাজার ৫৬৩ অন্যান্য পশু রয়েছে। ফলে এবারও দেশীয় পশুতেই কোরবানি দেয়া সম্ভব বলে জানা গেছে। কারণ আসন্ন ঈদ-উল-আজহায় ১ কোটি ১০ লাখ পশুর কোরবানি হতে পারে বলে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় জানানো হয়। চোরাইভাবে গরু বা অন্যান্য পশু এসে দেশীয় খামারিরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নোটিশ জারি এবং টিম গঠন করে খামারিদের প্রশিণ দেয়া হচ্ছে। সঙ্গে খামারিদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে অবৈধ ওষুধের ব্যবহারে ঠেকানো হয়। এসব নির্দেশনা কোনো খামারি না মানলে তার বিরুদ্ধে মৎস্য ও পশুখাদ্য আইন অনুযায়ী তাৎণিক ব্যবস্থা নেয়া হয়। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সব খামারকে নিবন্ধন করা হয়। কোরবানির আগে দেশব্যাপী ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। যাদের দায়িত্ব, ঈদের তিন দিন আগে থেকেই গরুর স্বাস্থ্য এবং কোনো প্রকার অবৈধ উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে কি না তা পরীা করা। এই টিমগুলো কোরবানির হাটেও কাজ করবে।
মৎস্যখাদ্য, পশুখাদ্য আইন ধারা ১৪-এ বলা হয়েছে, গবাদি পশুর হৃষ্টপুষ্টকরণে কোনো প্রকার হরমোন স্টেরয়েড এবং তিকর রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক জানান, বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো ট্যাবলেট তৈরি ও আমদানি কোনোটাই হয় না। চোরাইপথে যেন না আসে আমরা এ নিয়ে মিটিং করেছি। নির্দেশনা দিয়েছি। সীমান্তে নজরদারি বেড়েছে। প্রয়োজনে ওষুধের দোকানে অভিযান চলবে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের কোনো পশু বর্তমানে স্টেরয়েড বা ওষুধ ব্যবহার করে মোটাতাজা করা হয় না।
তিনি আরও জানান, গত ৩ বছর ধরে বিজিবি, পুলিশ এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে নজরদারি চলছে। যার কারণে মার্কেটে স্টেরয়েড দেয়া গরুর অস্তিত্ব তারা খুঁজে পাননি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর কোরবানির হাটে পশুর প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রতিটি ছোট হাটে অন্তত একটি, বড় হাটে দুটি করে মেডিকেল টিম থাকবে। রাজধানীর প্রতিটি টিমে একজন ভেটেরিনারি সার্জন, একজন টেকনিক্যাল কর্মী (ভিএফএ/ইউএলএ) এবং একজন করে শেরেবাংলা নগর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্ন ভেটেরিনারি সার্জন থাকবেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর
গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেটগুলো মূলত ঈদের দুই মাস আগে থেকেই আসা শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জুলাই মাসে দুটি অভিযানে হিলি সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ট্যাবলেট। গত ২ জুলাই হিলি সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারত থেকে অবৈধ পথে নিয়ে আসার সময় ২৯ হাজার ৮৫০ পিস গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি। সীমান্তের ঘাসুড়িয়া এলাকা থেকে ট্যাবলেটগুলো জব্দ করা হয়।
হিলি-মংলা ক্যাম্প কমান্ডার শাহাজান আলী জানান, চোরাকারবারিরা বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকটি পলিথিনে ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে ব্যাগ থেকে ২৯ হাজার ৮৫০ পিস গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯ লাখ টাকা। এছাড়াও ১১ জুলাই একই এলাকা থেকে আমদানিনিষিদ্ধ ১ লাখ পিস গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্বদেশ খবর প্রতিবেদককে জানান, সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার ও গরু মোটাতাজাকরণ ট্যাবলেটের চোরাচালান রুখতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। আমরা খুবই সতর্ক আছি। বেসামরিক সোর্সও নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আমাদের সঙ্গে পুলিশ ও র‌্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে। তাছাড়া সীমান্ত ব্যবস্থাপনার কারণে চোরাচালান ধীরে ধীরে কমে আসছে। বিশেষ করে এখন সীমান্তে অনেক উন্নত প্রযুক্তি এবং ফাড লাইট ও সিসিটিভি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে পুলিশ-র‌্যাবেরও নানা ধরনের টহল রয়েছে। তবুও অনেক পণ্য অনেক সময়ই চলে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। চোরাকারবারিরা সবার দৃষ্টি এড়িয়ে বার বার এ ধরনের নিষিদ্ধ ট্যাবলেট আনার তৎপরতা করে যায়।

নিষিদ্ধ ট্যাবলেটে মোটাতাজা
গরু যেভাবে চেনা যাবে
নিষিদ্ধ ক্ষতিকারক ট্যাবলেটে মোটাতাজা করা গরু চিনতে হলে নিতে হবে কিছু কৌশল। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. এ বি এম খালেদুজ্জামান জানান, ট্যাবলেট খাইয়ে মোটাতাজা করা গরুর চামড়ায় আঙ্গুল দিয়ে চাপ দেয়ার পর আঙ্গুলের ছাপ লেগে থাকবে। চামড়ার নিচে পানি জমে থাকার কারণে দ্রুত চামড়াটা আগের অবস্থায় ফিরে আসে না। এমনটা হলে বুঝতে হবে যে গরুটিকে মোটাতাজা করতে হরমোন বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে যদি সুস্থ সবল গরু হয় তাহলে চাপ দিলে সঙ্গে সঙ্গে আগের অবস্থায় ফিরে আসবে।
তিনি বলেন, ট্যাবলেট খাওয়ানো গরুর চাহনি ড্রাউজি বা ঘুমন্ত হবে। চোখ দেখলে মনে হবে গরুটা ঘুমিয়ে যাচ্ছে। চোখের চাহনি চঞ্চল বা পরিষ্কার হবে না। এছাড়াও গরুটিকে খুব কান্ত মনে হবে। সুস্থ গরু চঞ্চল হয়, নড়াচড়া করে। কিন্তু স্টেরয়েড বা হরমোন দেয়া গরু তেমন নড়াচড়া করবে না।
এসব বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ছাড়াও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় পশুরোগ অনুসন্ধানাগারে গরুর রক্ত পরীা করে জানা সম্ভব যে হরমোন বা স্টেরয়েড দেয়া হয়েছে কি না।
কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের একাধিক ভেটেরিনারি অফিসার জানিয়েছেন, পাম ট্যাবলেট ও স্টেরয়েডজাতীয় ইনজেকশন গরুর শরীরের কোষকে দ্রুত বিভাজিত করে। লিভার, হার্ট, কিডনির ওপর প্রেসার পড়ে। দৃশ্যত গরু মোটা দেখালেও প্রকৃতপে ওই গরুর মাংসের গুণগত মান কমে যায় এবং তা মানুষের শরীরের জন্য তিকর। গরু বিক্রয়ের আগে সাধারণত ওসব ইনজেকশন ব্যবহার করার ফলে তা সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আগে জবাই করায় তা গরুর শরীরে থেকে যায় এবং পরে মানুষের শরীরে চলে যায়। তাই এসব গরু না কেনার আহ্বান জানান ভেটেরিনারি কর্মকর্তারা।