ফিচার

কোরবানি নিয়ে জরুরি মাসয়ালা

মুফতি মোহাম্মদ আল বারি
ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। আর হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ পালনীয় কাজ হলো পশু কোরবানি প্রদান করা। হজরত ইসমাইল (আ.)-এর আমল থেকে আল্লাহর আদেশে প্রতিটি সক্ষম মুসলমান ঈদুল আজহা অর্থাৎ হজের সময় পশু কোরবানি করে থাকেন; যা তার ওপর ফরজ। হাদিস শরিফে বলা আছে, সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। কোরবানি করার সময় মুখে নিয়ত করা ও দোয়া উচ্চারণ করা জরুরি নয়। তবে নিয়ত করে এবং মুখে ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে পশু জবাই করলে কোরবানি জায়েজ হয়ে যাবে।

কোরবানি যাদের ওপর ওয়াজিব
যার ওপর জাকাত ওয়াজিব, তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব। আবার যার সাড়ে ৫২ তোলা রুপা অথবা সাড়ে ৭ তোলা স্বর্ণ বা সমপরিমাণ মূল্যের সম্পত্তি আছে, তার জন্যও কোরবানি ওয়াজিব। কিন্তু ওয়াজিব না হওয়া সত্ত্বেও কেউ যদি কোরবানি করে, তবে নফল কোরবানির সওয়াব হবে।

মাসয়ালা
কোরবানি শুধু নিজের প থেকে ওয়াজিব হয়। এমনকি নাবালেগ সন্তান যদি ধনী হয়, তবুও তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়। যদি কেউ সন্তানের প থেকে কোরবানি করতে চায়, তবে তা নফল কোরবানি হবে। কিন্তু নাবালেগের সম্পদ থেকে কিছুতেই কোরবানি করবেন না।

মাসয়ালা
কোনো প্রবাসী প্রবাস থেকে কোরবানির জন্য নিজ দেশে টাকা পাঠালে প্রবাসে তার জন্য আর কোরবানি ওয়াজিব নয়। তবে সেখানেও কোরবানি দিতে চাইলে অসুবিধা নেই।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি
মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করা জায়েজ। তবে জীবিত ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকলে, নিজের নামে না করে বাবা-মা বা অন্য কারো নামে অথবা মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করলে নিজের ওপর অর্পিত ওয়াজিব আদায় হবে না। কোনো ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হলে তিনি তা পালন না করলে গুনাহ হবে। তদ্রুপ ওয়াজিব কোরবানি আদায় না করে ওই টাকা দান করে দিলে ওয়াজিব আদায় না করার গুনাহ হবে।
তবে হ্যাঁ, কোনো এলাকায় যদি বেশি অভাব থাকে, কোরবানির পশু কেনার েেত্র টাকা কম ব্যয় করে বাকি টাকা দান করে দিতে পারবেন।

কোরবানির সময়
১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজের সন্ধ্যা পর্যন্ত Ñ এই ৩ দিন কোরবানি করার সময়। কিন্তু প্রথম দিন কোরবানি করা সর্বাপো উত্তম, তারপর দ্বিতীয় দিন এবং তারপর তৃতীয় দিন।

পশু জবাই
নিজের কোরবানির পশু নিজ হাতেই জবাই করা মোস্তাহাব। যদি নিজে জবাই করতে না পারেন, তবে অন্যের দ্বারা জবাই করার সময় নিজে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ভালো। কোরবানি দাতা নারীর পর্দার ব্যাঘাত হয় বলে যদি সামনে উপস্থিত না থাকতে পারে, তবে তাতে কোনো তি নেই।

মাসয়ালা
কোরবানি করার সময় মুখে নিয়ত করা ও দোয়া উচ্চারণ করা জরুরি নয়। যদি মনে মনে চিন্তা করে নিয়ত করে এবং মুখে শুধু ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে জবাই করে তবুও কোরবানি জায়েজ হয়ে যাবে।

ভাগে কোরবানি দেয়া প্রসঙ্গ
গরু, মহিষ ও উট এই তিন প্রকার পশুর এক একটিতে এক থেকে ৭ জন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি করতে পারবেন। এখানে শরিক জোড়-বেজোড় করতেই হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে কোরবানি জায়েজ হওয়ার জন্য শর্ত হলো কারো অংশ যেনো ৭ ভাগের ১ ভাগের চেয়ে কম না হয় এবং কারো যেনো গোশত খাওয়ার নিয়ত না হয়। সবার যেনো কোরবানির নিয়ত থাকে। অবশ্য যদি কারো আকিকার নিয়ত হয়, তবে তাও জায়েজ আছে। কিন্তু যদি শুধু গোশত খাওয়ার নিয়ত হয়, কোরবানি বা আকিকার নিয়ত না হয়, তবে তার কোরবানি জায়েজ হবে না। এভাবে যদি শুধু একজনের অংশ ৭ ভাগের ১ ভাগের চেয়ে কম হয়, তবে সবার কোরবানি নষ্ট হয়ে যাবে।

মাসয়ালা
যদি গরু ক্রয় করার সময় অন্যকে শরিক করার ইচ্ছা না থাকে, একা একাই কোরবানি করার নিয়ত থাকে, পরে অন্যকে শরিক করতে চায় এমতাবস্থায় যদি ওই ক্রেতা গরিব হয় অর্থাৎ তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব না হয়, তবে পরে সে অন্য কাউকেও শরিক করতে পারবে না, একা একাই পশুটি কোরবানি করতে হবে। আর যদি ওই ক্রেতা ধনী হয় অর্থাৎ তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়, তবে ইচ্ছা করলে পরে অন্য শরিকও মিলাতে পারবে। (তবে নেক কাজে যতটুকু পারা যায় জায়েজ থাকলেও নিয়ত পরিবর্তন না করাই ভালো।)

কোরবানির গোশত বণ্টন
কোরবানির গোশত ৩ ভাগ করে ১ ভাগ নিজের, ১ ভাগ আত্মীয়স্বজনের ও ১ ভাগ গরিবদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া মোস্তাহাব। কোরবানির চামড়া বা তার নগদ অর্থ গরিব-দুঃখীদের দান করে দিতে হবে। এ ব্যাপারে বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত এতিম, অসহায় ও গরিব শিার্থীদের কথা খেয়াল করা উচিত। কারণ তারা এর মাধ্যমে দ্বীনি শিা অর্জনে বিশেষভাবে উপকৃত হয়। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত মানুষদেরও দেয়া যেতে পারে।