কলাম

গুজব রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নাগরিকসমাজকে অধিকতর সচেতন হতে হবে

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর অন্যতম হলো ‘গুজব ও গণপিটুনি’। গুজবের কারণে বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনির ঘটনা ঘটছে। এতে নৃশংসভাবে অন্তত ৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আহতের সংখ্যা আরো বেশি। কী নির্মম নিষ্ঠুরভাবে মানুষ মানুষকে পিটিয়ে মারছে! অবুঝ শিশুর মা-কে পর্যন্ত নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে।
গণপিটুনির এসব ঘটনা ঘটছে শুধু গুজব সৃষ্টির মাধ্যমে। গুজব হলো এক ধরনের ভ্রান্ত প্রপাগান্ডা, যার সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক নেই। মিথ্যা, ভিত্তিহীন গল্পের মাধ্যমে সমাজে গুজবের সৃষ্টি হয়। অধুনা যা ‘পদ্মাসেতুতে বাচ্চা ছেলেমেয়ের মাথা লাগবে’ গল্পে এসে ঠেকেছে। দেশজুড়ে ‘ছেলেধরা’ বা ‘পদ্মাসেতুতে মাথা লাগা’র যে গুজব ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই গুজবে আতঙ্কিত দেশের মানুষ। বিশেষত ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা বেশ দুশ্চিন্তায়। গ্রামের স্কুলগুলোতে শিশুদের উপস্থিতি অনেক কমে গেছে। আবার ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির আতঙ্কও সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। পথেঘাটে সব জায়গায় একই আলোচনা – ছেলেধরা এবং গণপিটুনির আতঙ্ক।
জানা গেছে, গত ৯ জুলাই থেকে পদ্মাসেতুতে মাথা লাগার গুজবটি ছড়িয়ে পড়ে। অথচ আধুনিক যুগে মানুষ সন্দেহের ভিত্তিতে মানুষকে হত্যা করবে Ñ এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ এক অমার্জনীয় অপরাধ। ইতোমধ্যেই সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে এ ধরনের অন্ধ গুজবে কান না দেয়ার জন্য সতর্ক ও সজাগ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার ও প্রশাসন আইন নিজে হাতে তুলে না নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে এবং কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করা হচ্ছে যে, যে বা যারা এ ধরনের নির্মম হত্যাকা-ে অংশগ্রহণ করবে, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে।
দেশে বিভিন্ন সময় গুজব সৃষ্টি করে নানা অঘটন ঘটানো হয়েছে। সরকারবিরোধী স্বার্থান্বেষী মহল সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষকে মর্মাহত করেছে। অবশ্য ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। গুজব ও গণপিটুনি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠে নেমেছে।
আমরা আশা করি, মানুষের সচেতনতা এবং সরকারের উদ্যোগ গ্রহণের ফলে আমরা অচিরেই গুজবের গজব থেকে মুক্তি পাব। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য সবাইকে এখনই সজাগ ও সচেতন হবে। পরিবার-স্কুল-কলেজে এ ব্যাপারে ছেলেমেয়েদের সতর্ক করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং নাগরিকসমাজকেও এ ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গুজববিরোধী প্রচার-প্রচারণা এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও নাগরিকসমাজের অধিক সচেতনতাই পারে এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।