রাজনীতি

ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না জাতীয় পার্টি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেনাশাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদের হাতে গড়া জাতীয় পার্টির জন্ম সেনাছাউনিতে হলেও নানা কারণে সারাদেশে এ দলের কিছুটা হলেও জনভিত্তি রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর ও দেশের উত্তরাঞ্চলে জাপার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাছাড়া বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ নেয়নি। আর নানা নাটকীয়তার পর সেই নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে নেমে সফলতার মুখ দেখেনি। পক্ষান্তরে দশম সংসদের পুরো মেয়াদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ছিল জাপা। সংসদে ও সংসদের বাইরে জনস্বার্থে কথা বলার অবারিত সুযোগ ছিল দলটির। বিশেষ করে বিএনপির নিষ্ক্রিয়তার সুযোগটি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগাতে পারতো জাপা; যদিও তারা তা পারেনি।
মনে করা হয়ে থাকে যে, দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মন্ত্রিত্বের স্বাদ গ্রহণ করার কারণে জাপা প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ফলে বিএনপির অনুপস্থিতিতে জাপা রাজনৈতিক মাঠ দখল করতে পারেনি। মাঠে এখনও রাজনৈতিক শূন্যতা রয়েই গেছে।
নানা কারণে রাজনীতির মাঠে বিএনপির শূন্য স্থানটুকু দখল করতে পারেনি জাপা। ভবিষ্যতে পারবে কি না সেটাও বলা কঠিন। দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধ বরাবরই ছিল এবং এরশাদের অনুপস্থিতিতে এ বিরোধ আরো প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
এরশাদের মৃত্যুর পর তাঁর হাতে গড়া দল জাপার ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতোমধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জাপার সংসদীয় দলের নেতা রওশন এরশাদ ও এরশাদের ছোট ভাই জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের মধ্যে দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে বলে জানা গেছে। এরই মধ্যে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশাও দলে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই জাপাকে চালিত করার পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এগুচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অংশ জাতীয় পার্টির চেয়ে বেশি আসন পায়নি দলটি। ফলে চলতি সংসদেও জাপা প্রধান বিরোধী দলের আসনে। কিন্তু দল হিসেবে এরশাদের জাতীয় পার্টি শক্ত অবস্থানে দাঁড়াতে পারেনি। কারণ দলের নেতা এরশাদ সকালে এক কথা বিকেলে আরেক কথা বলতেন। তাই জাপার কিছুটা জনপ্রিয়তা থাকলেও নেতা হিসেবে জনমনে এরশাদের গ্রহণযোগ্যতা তেমন একটা ছিল না। ফলে তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে জাপার শক্ত অবস্থানের একটা সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে কেউ কেউ মনে করলেও সে আশাও ইতোমধ্যে ফিকে হতে শুরু করেছে। কারণ, দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেয়ার কিছুদিন পর এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ তা প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছেন। এতে দলটির নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাস্তবতা বলে, এরশাদের জীবনের শেষ ৬ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাপার শক্ত অবস্থান গড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ‘ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থে’ আজীবন জাপা চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা এরশাদের ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদল, দলের ভেতর গ্রুপিং এবং সরকারি দলের কৌশলের সঙ্গে পেরে না ওঠার কারণে জাতীয় পার্টি সেই অবস্থান থেকে যোজন যোজন দূরে।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদ এ দেশের রাজনীতিতে নানা কারণেই আলোচিত। তবে ঘন ঘন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তিনি বিভিন্ন সময় সমালোচিতও হয়েছেন। কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করেছেন। কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকেছেন। এই ইস্যুতে তার জীবদ্দশাতেই জাতীয় পার্টি ভেঙে তিন টুকরা হয়েছে। যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটে ছিলেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সকাল-বিকেল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রাজনীতির মাঠে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেন এরশাদ। নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলেও শেষ পর্যন্ত এমপি নির্বাচিত হন। তার দল জাতীয় পার্টি (জাপা) বিরোধী দলের আসনে বসে। এরশাদ নিজে হন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। এমনকি জাপা নেতাদের পদ-পদবি নিয়েও কম জল ঘোলা করেননি এরশাদ। মহাসচিব পদে কয়েক দফা রদবদল করেন। কখনো জিয়াউদ্দিন বাবলু, কখনো রুহুল আমিন হাওলাদার তো কখনো মশিউর রহমান রাঙ্গাকে বসান এ পদে।
এরশাদ তার নিজের ছোট ভাই জি এম কাদের আর স্ত্রী রওশন এরশাদকে নিয়েও নানা সময়ে দোটানায় ভুগেছেন। দশম সংসদ নির্বাচনের পর ছোট ভাই জি এম কাদেরকে জাপার কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। পরে স্ত্রী রওশনের চাপে তাকে করেন সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান। একইভাবে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার পদে স্ত্রী ও ভাইকে বসানো নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগেছেন এরশাদ। সমস্যা হয়েছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন সংসদীয় আসনের দলীয় মনোনয়ন নিয়েও। সর্বশেষ জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা নিয়ে দুই দফা সিদ্ধান্ত বদলান তিনি। শেষ পর্যন্ত এরশাদের জীবদ্দশায় ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জাপার উত্তরাধিকারী ঘোষণা দিয়েছিলেন। এরশাদের মৃত্যুর কিছুদিন পর জি এম কাদেরকে জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা। এতে জাতীয় পার্টি স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছলো বলে মনে করছিল দলটির নেতাকর্মীরা। কিন্তু গোল বেঁধেছে রওশন এরশাদকে নিয়ে। তিনি সম্প্রতি তার প্যাডে লিখিত বিবৃতিতে ঘোষণা দেন, জি এম কাদের জাপার চেয়ারম্যান নন!
গত ১৮ জুলাই রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জি এম কাদেরকে দলের নতুন চেয়ারম্যান বলে ঘোষণা দেয়া হয়। জাতীয় পার্টির প থেকে বলা হয়, দলের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জি এম কাদের জাপার চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারম্যান ঘোষণার পর জি এম কাদের বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো দ্বন্দ্ব, মতভেদ ও বিভেদ নেই। জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ।
এইচএম এরশাদ জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন। এখন তাঁর মৃত্যুর পর কে থাকবেন ওই পদে, এ প্রশ্নের উত্তরে জি এম কাদের বলেছিলেন, দলের সংসদীয় কমিটিতে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
উল্লেখ্য, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান। এর আগে সর্বশেষ গত ৪ মে ছোট ভাই জি এম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা দিয়েছিলেন; যা মৃত্যুর আগে আর পরিবর্তন করেননি। এরশাদের ওই সিদ্ধান্তে দলের জ্যেষ্ঠ অনেক নেতাই অখুশি ছিলেন। তবে এ নিয়ে এরশাদের জীবদ্দশায় বড় ধরনের কোনো দ্বন্দ্ব তৈরি হয়নি, যদিও এরশাদের অবর্তমানে কে ধরবেন দলের হাল – তা কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় ছিল। দলে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে সামনে রেখে দু’টি বলয় গড়ে ওঠে তখন থেকেই। দু’পরে দ্বন্দ্ব প্রায়শই প্রকাশ্যে চলে আসত।
জি এম কাদেরকে জাপা চেয়ারম্যান ঘোষণাকালে পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী জি এম কাদের আজ (১৮ জুলাই) থেকে জাপার চেয়ারম্যান। এরশাদ জীবদ্দশায় দলের গঠনতন্ত্রের ২০-এর ১/ক ধারা অনুযায়ী ওনার অবর্তমানে জি এম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যান ঘোষণা করে গেছেন।
রওশন এরশাদ বা তার অনুসারী নেতাদের ওই সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি। তবে ওই ঘোষণার কিছুদিন পরও রওশনের নিরবতায় দলটির চলমান দ্বন্দ্ব মিটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ওই সংবাদ সম্মেলনের পর ২০ জুলাই দুপুরে ভাবী রওশনের গুলশানের বাসভবনে যান জি এম কাদের। দেবর-ভাবী প্রায় দুই ঘণ্টা একান্তে কথা বলেন। যদিও ওই সাক্ষাতে পারিবারিক নানা বিষয়ে আলাপ হয়েছে বলে দাবি করেন কাদের। এ বিষয়ে তখন রওশনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জি এম কাদের বলেন, রওশন আমার অভিভাবক। তার সঙ্গে রাজনৈতিক বৈঠক নয়, দেখা করতে গিয়েছিলেন। একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম।
বিরোধীদলীয় নেতা কে হচ্ছেন – এ প্রশ্নে জি এম কাদের বলেন, সংসদীয় দল এবং দলীয় ফোরামে আলোচনায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি, নাকি রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেতা হবেন – এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি জাপা চেয়ারম্যান। দলে রওশন এরশাদের অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি (রওশন) আমাদের অভিভাবক। দলে তিনি সম্মানের স্থানে থাকবেন। ভাবীকে (রওশন) অসম্মান করার কথা তো ভাবতেও পারি না।
এদিকে জি এম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান – গত ২২ জুলাই মধ্যরাতে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে হাতে লেখা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ লিখেছেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মারফত আমরা জানতে পেরেছি জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।’
‘ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্বপালনকালে জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্র ধারা ২০ (২)-এর খ-এ দেয়া মতা প্রয়োগ করতে পারবেন। যথা মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাগরিষ্ঠদের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০ (২) এর ‘ক’ কে উপো করা যাবে না। আশা করি, বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিবৃতিতে দলের সব নেতাকর্মীকে গঠনতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
বিবৃতিতে এ ঘোষণার প্রতি একমত পোষণকারী ৭ জন সংসদ সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য সেলিম ওসমান, লিয়াকত হোসেন খোকা, রওশন আরা মান্নান, প্রেসিডিয়াম সদস্য নাসরিন জাহান রতœা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য মীর আব্দুস সবুর আসুদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু এতে রওশন এরশাদ ছাড়া আর কারো সই নেই।
জাপার একটি সূত্র জানিয়েছে, দলীয় ফোরামে আলোচনা ছাড়াই জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণায় ক্ষুব্ধ নেতারা ১৯ জুলাই রওশন এরশাদের কাছে যান। এর বিরুদ্ধে পদপে নিতে তারা তাঁকে অনুরোধ করেন। কিন্তু রওশন এরশাদ তাদের বলেছিলেন, এ বিষয়ে পরে তিনি ভাববেন।
জাপার নেতারা জানিয়েছেন, রওশন এরশাদ এবং জি এম কাদেরের দূরত্ব বহু দিনের। একসময়ে রওশন এরশাদ ছিলেন বিএনপির সঙ্গে জোটের পপাতী, জি এম কাদের ছিলেন এর বিপ।ে পরে রওশন আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকলে জি এম কাদের সরকারের সমালোচক হিসেবে আবির্ভূত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সাবেক সেনাশাসক জেনারেল এইচ এম এরশাদ ছিলেন জাপার ‘প্রাণশক্তি’। আমৃত্যু দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে যাওয়া এরশাদের মৃত্যুতে দলের শক্তি অনেকটাই য় হয়েছে। তবে পূর্ণ শক্তিতে দলকে একতাবদ্ধ রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন দলটির অনেক নেতাকর্মী। এ জন্য যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন তারা।
তবে জাতীয় পার্টির এরশাদ-উত্তর নেতৃত্ব তাঁর ছোট ভাই জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের নাকি স্ত্রী রওশন এরশাদ নেবেন, এই নিয়ে ঠা-া যুদ্ধ চলছিল। জি এম কাদের নিজেকে ‘ভারমুক্ত’ করে চেয়ারম্যান ঘোষণা দেয়ার মধ্য দিয়ে সে প্রশ্নের অবসানও হয়েছিল। যদি রওশন এরশাদের বিবৃৃতি সত্য হয়, তবে সামনের দিনগুলোতে জাপার জ্যেষ্ঠ নেতারা জি এম কাদেরের নেতৃত্ব মেনে চলে কিনা সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে এরশাদপরবর্তী জাতীয় পার্টির সামনের দিনগুলোতে রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। দলটির বর্তমান নেতৃত্ব সে চ্যালেঞ্জসমূহ কিভাবে মোকাবিলা করেন তা-ই এখন দেখার বিষয়।