প্রতিবেদন

দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করায় শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক
বিশ্বে ক্রমশ প্রভাবশালী হয়ে ওঠা নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেশে-বিদেশে ক্রমেই বাড়ছে। তাকে নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে এমন চিত্র দেখা যায়।
বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বরাবরই ব্যাপক আলোচনা চলে দেশে ও দেশের বাইরে Ñ কী নেতৃত্বগুণের কারণে শেখ হাসিনা একটানা ১১ বছর দেশ শাসন করছেন? টানা তিন বারসহ চার বারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যের পেছনে কী চমক রয়েছে? কিভাবে তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে নিচ্ছেন? কী কারণে দেশ-বিদেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে? এরকম হাজারো প্রশ্ন রয়েছে মানুষের মনে।
সাম্প্রতিক একটি জরিপে উঠে এসেছে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার কথা। কলরেডি নামের দেশীয় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে ১০ শতাংশ বেড়ে ৮০ শতাংশ হয়েছে।
অতীতেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জরিপে নানা সময়ে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এমনকি তিনি প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের একজন হিসেবেও তালিকায় উঠে আসেন। ‘দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড-২০১৯’ নামে দীর্ঘ এক দশক ধরে তৈরি করা তালিকাটি প্রকাশ করে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার। এর আগে ২০১৮ সালে বিশ্বের শীর্ষ মতাধর ১০০ নারীর তালিকায় ৪ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বছরের ডিসেম্বরে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস তালিকাটি প্রকাশ করে। ২০১৬ সালে ফোর্বস ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় শেখ হাসিনা ছিলেন ৩৬তম। রিচার্ড ও ব্রাইয়েনের ‘উইমেন প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী’ বইতে তার প্রশংসা করা হয়েছে। এবার দেশী প্রতিষ্ঠান কলরেডি’র জরিপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বাড়ার বিষয়টি আবারও জনমনে পরিষ্কার হলো।
গত ২৫ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। জরিপের ফল উপস্থাপন করেন কলরেডি’র প্রধান গবেষক অধ্যাপক আবুল হাসনাৎ। তিনি জানান, সরকারের ৬ মাস পূর্তি উপলে গত ৮ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টেলিফোনের মাধ্যমে ১ হাজার ২৫৫ জনের মধ্যে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ পুরুষ, ২৪ শতাংশ নারী। জাতীয় নির্বাচনের আগে ও পরে দুটি জরিপ পরিচালনা করেছিল সংস্থাটি।
জরিপের ফলাফলে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিগত ৬ মাসের কর্মকা-ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ৭৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। আগের জরিপে এ হার ছিল ৭০ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ মানুষ সরকারের সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ মনে করছেন নির্ধারিত সময়ে মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন। এর বাইরে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ৭ দশমিক ১৯ শতাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ দুর্নীতি প্রতিরোধকে সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছেন।
আবুল হাসনাৎ বলেন, জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিরা সরকারের সার্বিক বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ বৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
জরিপে বলা হয়েছে, ৫৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সরকার আগের চেয়ে ভালো করছে। ৩৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ মনে করেন, সরকার আগে যা ছিল, এখনো তাই আছে। ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ মনে করেন, সরকার আগের চেয়ে খারাপ বা খুব খারাপ করছে।
একই জরিপে উঠে এসেছে, বর্তমান সরকারের প্রথম ৬ মাসে সবচেয়ে সফল মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ৪১ শতাংশ মানুষ মনে করেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের কাজে সবসময় সক্রিয় ছিলেন।
আবুল হাসনাৎ বলেন, সফল মন্ত্রীদের তালিকায় ২০ জনের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন ওবায়দুল কাদের। ২৯ শতাংশ ব্যক্তির মতে, শিামন্ত্রী দীপু মনি দ্বিতীয় সফল মন্ত্রী।
জরিপের গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে আবুল হাসনাৎ দাবি করেন, টিআইবি গবেষণায় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে না। তারা এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। আমাদের তা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ফ্যাকাল্টি কাজী আহমেদ পারভেজ ও কলরেডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ আবুল কালাম।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার বিষয়টি বিদেশি সংস্থার জরিপেও উঠে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) পরিচালিত এক জরিপের ফলাফলে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। দেশের ৬৬ শতাংশ নাগরিক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। পাশাপাশি ৬৪ শতাংশ নাগরিক আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানান।
২০১৮ সালের ১০ এপ্রিল থেকে ২১ মে’র মধ্যে পরিচালিত আইআরআই’র জরিপের প্রতিবেদনের একটি কপি একাদশ সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতি আশানুরূপভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৬২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় দেশ সঠিক পথে আছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ৬৯ ভাগ নাগরিক।
প্রতিবেদনে তখন আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ৬৬ ভাগ নাগরিকের কাছে জনপ্রিয় শেখ হাসিনা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি ৬৪ ভাগ নাগরিকের সমর্থন রয়েছে।
আইআরআই’র ওই জরিপে দেশের মোট জনসংখ্যাকে কিছু স্তরে ভাগ করে কয়েকটি পর্বে বাছাই করা হয় (মাল্টি স্টেজ স্ট্রেটিফাইড প্রবাবিলিটি স্যাম্পল) এবং তাদের সঙ্গে সরাসরি অথবা বাসায় (ইন পারসন/ইন হোম) ফোন করে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণার জন্য স্তরগুলো দেশের বিভাগ ও জেলা এবং গ্রাম ও শহর হিসেবে ভাগ করে নেয়া হয়। এই গবেষণার জন্য ৫ হাজার মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি।
গবেষণা সংস্থা আইআরআই’র ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬৪ ভাগ নাগরিক মনে করে, দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
২০১৫ সালে ব্রিটিশ কাউন্সিল, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) যৌথ আয়োজনে পরিসংখ্যানেও একই কথা বলা হয়। প্রতিবেদন জানানো হয়, ৭৫ ভাগ তরুণের মতে, বাংলাদেশ আগামী ১৫ বছরে আরো উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে এবং তাদের মধ্যে ৬০ ভাগ তরুণ মনে করে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে ৭২ দশমিক ৩ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার পে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ২৬ দশমিক ৬ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় খালেদা জিয়ার পে ‘ভালো মত’ প্রকাশ করেন।
২০১৫ সালে আইআরআই প্রকাশিত অপর এক জরিপ অনুসারে, ৬৭ ভাগ নাগরিক দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখেন।

শীর্ষ প্রভাবশালী মুসলিমদের
তালিকায় শেখ হাসিনা
বিশ্বের শীর্ষ মুসলিম ব্যক্তিত্বের চলতি বছরের তালিকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। ‘দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড-২০১৯’ নামে দীর্ঘ এক দশক ধরে তৈরি করা তালিকাটি প্রকাশ করে জর্ডানের রয়্যাল ইসলামিক স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টার।
এ তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আর ‘মুসলিম ম্যান অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ।
প্রকাশ্যে ইসরাইলি সেনাদের আঘাত করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পাওয়া ফিলিস্তিনি কিশোরী আহমেদ তামিমিকে ঘোষণা করা হয়, ‘মুসলিম উইমেন অব দ্য ইয়ার।’
তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ প্রভাবশালী মুসলিম রাজনীতিক হিসেবে উল্লেখ করা হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা। তার ব্যাপারে তালিকার ‘পলিটিক্স’ অংশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ গরিব মুসলিম দেশে শেখ হাসিনার প্রধান অগ্রাধিকার হল দারিদ্র্য দূরীকরণ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তিনি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে তৃতীয়বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।’
অবশ্য ‘দ্য মুসলিম ফাইভ হান্ড্রেড-২০১৯’ তালিকা প্রকাশের পরপরই স্বাধীন বাংলাদেশে অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরপর তিন বার এবং সব মিলিয়ে চতুর্থ বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। নিজের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সাহসী কর্মকা- দিয়ে আরো আগেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক েেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা।
অন্যান্য জরিপে শেখ হাসিনা
ও আওয়ামী লীগের অবস্থান
২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে করা ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং রিসার্চ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)-র গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের (দশম জাতীয় সংসদ) অধীনে দেশ সঠিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে এবং জীবনমানের উন্নয়ন হচ্ছে বলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন দেশের অধিকাংশ নাগরিক। এই জরিপে অংশ নেয়া ৬৪ ভাগ উত্তরদাতা তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটেছে বলে মত দিয়েছেন। পূর্ববর্তী জরিপ গবেষণায় ব্যবহৃত ২৫ হাজার বাংলাদেশির ‘টেলিফোন ব্যাংক’ থেকে এই ১০০৫ জনের সঙ্গে টেলিফোন-ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে জরিপ পরিচলানা করা হয়।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট-আরডিসি পরিচালিত গবেষণা অনুসারে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৭২ দশমিক ৩ ভাগ উত্তরদাতা শেখ হাসিনা সম্পর্কে ভালো মতামত প্রদান করেন, পান্তরে বিএনপি দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার পে ভালো মতামত প্রদান করেছেন মাত্র ২৬ দশমিক ৬ ভাগ উত্তরদাতা।

শেষ কথা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিক অগ্রগতি আর সম্মানের পথটি দিন দিন প্রশস্ত করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও মানুষের উন্নয়নের কাজে নিজেকে পুরোপুরি সঁপে দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার জন্যই সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পায় আওয়ামী লীগ। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচনের পর নৌকা মার্কার এটাই সবচেয়ে বড় জয়। ২৯৮ আসনের মধ্যে ২৫৯টি আসনে এককভাবে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। আর মহাজোটের অন্য শরিকদের আসনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মোট জয় পাওয়া আসন ২৮৮টি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ১৯৯৬ সালে। ২০০১ সালে মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে নির্দলীয় নিরপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে মতা হস্তান্তর করেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয় বিএনপির কাছে। পরে ২০০৬ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার মতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মতা গ্রহণ করে। প্রায় ২ বছর মতায় থাকার পর ওই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মজীবন প্রায় চার দশকের। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ৩টি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে মেয়াদে তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এইচএম এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়। ১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন। ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনায় দায়িত্ব নেয়ার পর তার সরকার ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের জন্য আইন প্রণয়ন করে। এই আইনের আওতায় স্থাপিত ট্রাইব্যুনাল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করে এবং রায়ও কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক ঘোষিত উন্নয়নের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দৃঢ়চিত্তে কাজ করে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সরকারের ধারাবাহিকতার কারণে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা সূচকে বাংলাদেশের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা এখন দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও স্বীকৃত। টানা তৃতীয়বার এবং চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফলভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনকালে সামাজিক কর্মকা-, শান্তি ও স্থিতিশীলতার েেত্র অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা ও দেশ সম্মানিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের সংঘাত অবসানের েেত্র অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো শেখ হাসিনাকে হুপে-বোয়ানি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ মেডেল প্রদান করে। এছাড়া ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে ‘শান্তির বৃ’ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্ট গ্লোবাল ফোরাম নারীর মতায়নের জন্য তাঁকে ‘রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার’ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে’ ভূষিত করে। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫’ পুরস্কারে ভূষিত করেছে। নির্যাতনের মুখে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে তিনি ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ খেতাব অর্জন করেছেন।
শেখ হাসিনার এতসব অসামান্য অর্জনের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান স্বদেশ খবরকে বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার জন্যই দেশ-বিদেশে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্রমেই বাড়ছে। তিনি আজ কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং বৈশ্বিক পরিম-লে জলবায়ুসহ নানা ইস্যুতে সফলভাবে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও শেখ হাসিনা সফলতার সাথে চীন-ভারত-আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন।
ড. মীজানুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা-ই মিন করেন, তা-ই করেন। শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণ ছাড়া তাঁর কিছুই চাওয়া-পাওয়ার নেই। তিনি মানুষের কল্যাণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের কথা ভেবেই নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আওয়ামী লীগের ভিশন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত দেশে পরিণত হবেই।