প্রতিবেদন

ঈদকেন্দ্রিক নতুন নোটের বৈধ-অবৈধ বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদুল আজহায় প্রধান কাজ পশু কোরবানি। তবে ঈদকে রাঙাতে সব দিকেই খেয়াল রাখে মানুষ। নতুন জামা-জুতো থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি সাজাতেও মনোযোগ দেন অনেকে। ঈদের সালামি দিতে ও নিতে নতুন নোট পছন্দ কারো কারো। তারা ছোট ছেলেমেয়েদের নতুন নোটে ঈদের সালামি দিয়ে আনন্দ পান।
মানুষের এই চাহিদা মাথায় রেখে প্রতি বছর দুই ঈদে নতুন টাকা বাজারে ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবারের ঈদুল আজহা উপলে গত ১ আগস্ট থেকে বাজারে নতুন নোট ছাড়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৮ আগস্ট পর্যন্ত একজনে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নতুন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন। এছাড়া বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় এ সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম স্বদেশ খবরকে বলেন, সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ছাড়া ১ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত নতুন নোট বিনিময় করা যাবে। চাহিদা অনুযায়ী এবার পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন নোট সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন নোট ছাড়া নিয়ে গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কমিউনিকেশন ও পাবলিকেশন বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, যা একই দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বরাবর পাঠানো হয়।
জানা গেছে, এবার ঈদ-উল আজহা উপলে বাজারে ১৮ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। গত রোজার ঈদে ১৭ হাজার কোটি টাকার নতুন নোট বিনিময়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, একই ব্যক্তি যাতে একাধিকবার নতুন টাকা নিতে না পারে সেজন্য এবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে বায়োমেট্রিক বা হাতের ছাপ পদ্ধতিতে তথ্য সংরণের ভিত্তিতে জনসাধারণের মাঝে নতুন নোট বিনিময় করা হচ্ছে। মূলত দালাল রুখতেই এ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম।
বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) সাঈদা খানম স্বারিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলে ১ থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন অফিসের কাউন্টারের মাধ্যমে জনসাধারণের মাঝে নতুন নোট বিনিময় করা হবে। এছাড়া ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা থেকেও একই সময়ে ১০, ২০, ৫০ ও ১০০ টাকা মূল্যমান পর্যন্ত নতুন নোট বিশেষ ব্যবস্থায় বিনিময় করা হবে। একই ব্যক্তি একাধিকবার নতুন নোট গ্রহণ করতে পারবে না। তবে নোট উত্তোলনকালে কেউ ইচ্ছা করলে কাউন্টার থেকে মূল্যমান নির্বিশেষে যেকোনো মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা গ্রহণ করতে পারবেন।

যেসব শাখায় পাওয়া যাচ্ছে
তফসিলি ব্যাংকগুলোর ৩০টি শাখার মাধ্যমে নতুন নোট বিনিময় করা হচ্ছে। শাখাগুলো হলোÑ এনসিসি ব্যাংকের যাত্রাবাড়ী শাখা, জনতা ব্যাংকের আবদুল গণি রোড করপোরেট শাখা, অগ্রণী ব্যাংকের জাতীয় প্রেসকাব করপোরেট শাখা, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের মিরপুর শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখা, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের বসুন্ধরা সিটি (পান্থপথ) শাখা, উত্তরা ব্যাংকের চকবাজার শাখা, সোনালী ব্যাংকের রমনা করপোরেট শাখা, ঢাকা ব্যাংকের উত্তরা শাখা, আইএফআইসি ব্যাংকের গুলশান, ন্যাশনাল ব্যাংকের মহাখালী শাখা, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোহাম্মদপুর শাখা, জনতা ব্যাংকের রাজারবাগ শাখা, পূবালী ব্যাংকের সদরঘাট শাখা, সাউথইস্ট ব্যাংকের কাকরাইল শাখা, ওয়ান ব্যাংকের বাসাবো শাখা, ব্র্যাক ব্যাংকের শ্যামলী শাখা, ডাচ-বাংলা ব্যাংকের দণিখানের এসএমই অ্যান্ড এগ্রিকালচার শাখা, দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংকের বনানী শাখা, ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখা, দ্য সিটি ব্যাংকের বেগম রোকেয়া সরণি শাখা, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নন্দীপাড়া শাখা, প্রাইম ব্যাংকের এলিফ্যান্ট রোড শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নারায়ণগঞ্জ শাখা, এক্সিম ব্যাংকের শিমরাইল শাখা, ইসলামী ব্যাংকের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের গাজীপুর চৌরাস্তা শাখা, উত্তরা ব্যাংকের সাভার শাখা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাভার শাখা ও ট্রাস্ট ব্যাংকের কেরানীগঞ্জ শাখা।

ঈদকেন্দ্রিক নতুন নোটের অবৈধ বাজার
ঈদকে রাঙাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রতিবারের মতো এবারও মানুষের চাহিদা অনুযায়ী নতুন টাকার নোট সরবরাহ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তারপরও প্রতিবারের মতো এবারও বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে চলছে নতুন টাকার অবৈধ লেনদেন। তাছাড়া গুলিস্তান, সদরঘাটসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চলছে নতুন টাকার জমজমাট ব্যবসা। এর প্রয়োজনীয়তা ও অবৈধ লেনদেনের নেপথ্য কারণ সম্পর্কে সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিত শহীদ রাজু স্বদেশ খবরকে বলেন, অনেক অনুরোধ করার পরও ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকার নতুন নোট ব্যাংক থেকে পান না। তাই অনেকেই কিছু বাড়তি টাকা দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী নতুন টাকার নোট বাজার থেকে সংগ্রহ করে নিতে পারেন অনায়াসে।
এ প্রসঙ্গে একাধিক বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক স্বদেশ খবর প্রতিবেদককে একই ধরনের কথা বলেছেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন টাকার নোট না পাওয়ার কারণে তারাও ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও গ্রাহকদের চাহিদামতো নতুন টাকার নোট দিতে পারেন না।