ফিচার

উইন্ডোজ ১০-এর আকর্ষণীয় কিছু ফিচার

মেহেদী হাসান
বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সফটওয়্যার উইন্ডোজ। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস অনেক আগেই প্রযুক্তিবিশ্বে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। উইন্ডোজের একের পর এক সংস্করণ বাজারে ছেড়েছে। প্রতিটা সংস্করণেই নতুনত্বের ছোঁয়া। থার্ডপার্টি সফটওয়্যারগুলোকে একে একে পরবর্তী উইন্ডোজ সংস্করণের সাথে জুড়ে দিতে বিল গেটস কোম্পানি বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছে। উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ সেভেন, উইন্ডোজ এইট, উইন্ডোজ নাইনের পর বাজারে এখন চলছে উইন্ডোজ ১০। ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই এটি রিলিজ হয়। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ১০ দ্রুত গতির সুনাম কুড়িয়েছে। আগের অপারেটিং সিস্টেমগুলোর চেয়ে এটি অনেক এগিয়ে। উইন্ডোজ ১০-এ কম্পিউটার স্টার্ট হতে সময় নেয় মাত্র কয়েক সেকেন্ড। এটি অনেক দ্রুত গতিতে ডাটা ট্রান্সফার করতেও সম। ফলে জনপ্রিয়তার বিশেষ ধাপটিই অপারেটিং সিস্টেমটি অতিক্রম করলো। বরাবরের মতো উইন্ডোজ ১০-এও যুক্ত হয়েছে নতুন ও আকর্ষণীয় বিশেষ কিছু ফিচার। চলুন জেনে নিই উইন্ডোজ ১০-এর সেসব ফিচার সম্পর্কে।

স্টার্ট মেন্যু
উইন্ডোজ ৮-এর স্টার্ট মেন্যু বাদ দিয়ে মাইক্রোসফট সবচেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হয়েছে। যদিও মাইক্রোসফটের ঘোষণা ছিল স্টার্ট মেন্যুর দিন প্রায় শেষের পথে। তবুও তারা স্টার্ট বাটনকে ফিরিয়ে এনেছিল উইন্ডোজ ৮ এর পরের সংস্করণেও। কিন্তু সেখানে কিছু সিস্টেমের অভাব বোধ করে ব্যবহারকারীরা। সেজন্য পরিপূর্ণভাবে স্টার্ট মেন্যু ফিরিয়ে এনেছে মাইক্রোসফট, আর নতুন আঙ্গিকে অ্যাপ্লিকেশন লিস্টের সঙ্গে অ্যাপ টাইল দিয়ে সাজিয়ে নতুন স্টার্ট মেন্যু যুক্ত করে উইন্ডোজ ১০-এ।

ক্রোটানা
অ্যাপল-এর সিরি আর গুগলের গুগল অ্যাসিস্টেন্টের মতো মাইক্রোসফটও তাদের অপারেটিং সিস্টেমের সাথে কথা বলার জন্য তৈরি করেছে ক্রোটানা। আর এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মুখে বলেই খুঁজে নেয়া যাবে পছন্দের ছবি কিংবা গান। আবার বাসার পাশের রেস্টুরেন্টের ঠিকানা কিংবা বার্থ ডে’র তারিখও জানাতে পারবে চমৎকার অ্যাপ্লিকেশন ক্রোটানা।

মাইক্রোসফট স্টোর
গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোর-এর মতো উইন্ডোজ-১০ এর সঙ্গে রয়েছে মাইক্রোসফট স্টোর-এর সম্পর্ক। মাইক্রোসফট এখন আগের তুলনায় বেশ মনোযোগী অ্যাপ্লিকেশন স্টোর সাজাতে। এখান থেকে অনেক মজার মজার অ্যাপ ও গেম ব্যবহার করতে পারবে ব্যবহারকারীরা।

টাচস্ক্রিন
স্মার্টফোনকে অনেকেই কম্পিউটারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বা মেইল চেক করা কম্পিউটারের তুলনায় সহজ স্মার্টফোনে। এর অন্যতম কারণ টাচস্ক্রিন। যদিও মাইক্রোসফট ফোন ততটা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারেনি। আর সেই দিকে ল্য রেখে মাইক্রোসফট এবার উইন্ডোজ ১০’কে সাজিয়েছে স্মার্টফোন ও ট্যাবে ব্যবহার উপযোগী করেই। সেেেত্র উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সমর্থিত টাচস্ক্রিন ডিভাইসে স্বচ্ছন্দেই ব্যবহার করা যাচ্ছে উইন্ডোজ ১০।

অ্যাকশন সেন্টার
স্মার্টফোন প্রতি মুহূর্তেই আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে মেইল বা অ্যাপ আপডেটের তথ্য নোটিফিকেশনের মাধ্যমে। উইন্ডোজ ১০ বর্তমানে সেই সুবিধা করে দিয়েছে। অ্যাকশন সেন্টারও আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে মেইল কিংবা অপারেটিং সিস্টেম ও বিভিন্ন অ্যাপের আপডেটেড তথ্য। এছাড়া রিমাইন্ডার হিসেবেও ব্যবহার করা যায় অ্যাকশন সেন্টারকে।

মাইক্রোসফট এজ
উইন্ডোজ-এর অন্য সংস্করণগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করা হয়। কিন্তু গতি আর নিরাপত্তার দিক থেকে এটি ছিল বেশ পিছিয়ে। তাই মাইক্রোসফট এবার ইন্টারনেট ব্রাউজার হিসেবে এনেছে মাইক্রোসফট এজ। গতির দিক থেকে এটি ইতোমধ্যে ব্যবহারকারীদের নজর কেড়েছে। এছাড়া ওয়েবপেজ মার্কাপ ও রিডিং মোড-এর মতো নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে মাইক্রোসফট এজ-এ।

সিকিউরিটি মেইনটেন্যান্স
মাইক্রোসফট অপারেটিং সিস্টেমের অন্যান্য সংস্করণে নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলেও ব্যবহারকারীদের আলাদা নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রয়োজন হতো। নিরাপত্তাব্যবস্থা আরো জোরদার করতে উইন্ডোজ ১০-এ এসে মাইক্রোসফট ডিভাইস গার্ড, মাইক্রোসফট পাসপোর্ট এবং উইন্ডোজ হ্যালো Ñ এই ৩টি নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু করে।

ভার্চুয়াল ডেক্সটপ
উইন্ডোজ ১০-এর ভার্চুয়াল ডেক্সটপ সুবিধা চালু করেছে মাইক্রোসফট। এটি মাইক্রোসফটের নতুন বিশেষ ফিচার। এর সাহায্যে একসঙ্গে অনেকগুলো ডেক্সটপ ওপেন করে মুহূর্তেই এক অ্যাপ্লিকেশন থেকে অন্য অ্যাপ্লিকেশনের কাজ শুরু করা যায়। আর ফিচারটির ব্যবহারও সহজ।

এক্সবক্স অ্যাপ
গেমপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে মজার বিষয় সম্ভবত এটিই। এক্সবক্স-এর ব্যবহার উপযোগী অনেক অ্যাপ এখন কম্পিউটারেই ডাউনলোড করা যায়। আবার অনেক গেম রয়েছে যেগুলো খেলা যায় উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমের কম্পিউটারে।

আইরিশ স্ক্যানার
ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানিং-এর পাশাপাশি উইন্ডোজ ১০ চোখের আইরিসও স্ক্যান করতে পারে। আর এই কারণেই কম্পিউটার অন করার সময় কীবোর্ডে আপনার পাসওয়ার্ড টাইপ করা বাধ্যতামূলক নয়।

গেট হেলপ
গেট হেলপ অ্যাপ-এর মাধ্যমে অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে যেকোনো হেলপ নেয়া যায় এবং মাইক্রোসফটের অনলাইন সাপোর্টে ও সরাসরি যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া উইন্ডোজ ১০-এ কিছু কীবোর্ড শর্টকাট ও আপডেট করা হয়েছে, আগের সংস্করণে কমান্ড প্রম্পটে কীবোর্ড শর্টকাট বন্ধ ছিল। নতুন সংস্করণে কমান্ড প্রম্পটে কপি ও পেস্ট-এর শর্টকাটগুলো ব্যবহার করা যায়, যার ফলে দ্রুত কাজ করা যায়।