ফিচার

ক্যারিয়ারে সফলতার জন্য বদভ্যাস ত্যাগ করুন

স্বদেশ খবর ডেস্ক
কর্মস্থলে প্রত্যেক কর্মীরই উচিত প্রতিষ্ঠান ও নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকা। যদিও অনেকে এ বিষয়গুলো মানলেও বাস্তবে এমন সব কর্মকা- চালান, যা তাদের ক্যারিয়ারে বিরূপ প্রভাব ফেলে। এ লেখায় থাকছে তেমন কিছু অভ্যাস, যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ত্যাগ করা উচিত।

রাজনৈতিক আলাপ
শুধু রাজনীতির আলোচনা করতে গিয়ে বহু মানুষ কর্মস্থলে বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করেন। এটি অনেকেরই স্বভাবগত অভ্যাস। যদিও রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা কোনো কাজের বিষয় নয়। এতে প্রচুর সময় ও শ্রম যেমন ব্যয় হয় তেমন কাজের পরিবেশও নষ্ট হয়। তাই সবারই নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস নিজের কাছেই রাখা উচিত। এজন্য অন্যকে প্রভাবিত করার চেষ্টা বাদ দেয়া উচিত। কর্মস্থলের সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে রাজনৈতিক আলোচনা করা কিংবা অন্যের রাজনৈতিক আলোচনায় অংশ নেয়া থেকে বিরত না থাকলে তা আপনার ক্যারিয়ারের সর্বনাশও ঘটাতে পারে।

পরচর্চা
কর্মস্থলে পরচর্চা আপনার ক্যারিয়ারের জন্য তিকর। আপনার সম্পর্কে অন্য কেউ নেতিবাচক আলোচনা করলে যেমন আপনি বিব্রতবোধ করবেন তেমন অন্যরাও তাদের অবর্তমানে নেতিবাচক আলোচনায় বিব্রতবোধ করতে পারে। তাই পেছন থেকে নেতিবাচক আলোচনা বাদ দিন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আসক্তি
বহু মানুষই কর্মস্থলে অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন। তাদের অনেককে দেখা যায় ক্রিকেটের মতো খেলায় খেলোয়াড়দের নানা আচার-আচরণ কিংবা নীতি নিয়ে ফেসবুক গরম করতে। এমন মানুষদের উচিত কর্মস্থলে এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি সময় ব্যয় না করা। এতে তাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো হবে তেমন সুস্থ কর্মস্থলও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তাছাড়া এসব কোনো বসই পছন্দ করবেন না।

আবহাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ
বছরের কোনো এক সময় অত্যন্ত ঠা-া পড়বে, কোনো সময় অতিরিক্ত গরম পড়বে এমনটাই স্বাভাবিক। এজন্য কর্মস্থলে এসব বিষয় নিয়ে বাড়তি আলোচনা করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। আর এজন্য ঝামেলা মনে হলে রেইন কোট কিংবা ছাতা কিনে নিন। এ জন্য অন্য সহকর্মীদের বিরক্ত করার প্রয়োজন নেই।

ট্রাফিক জ্যামের অজুহাত
ট্রাফিক জ্যাম যেকোনো বড় শহরের নিত্যদিনের ঘটনা। এ থেকে মুক্তি পাওয়া অনেকের পইে অসম্ভব। তাই সময়মতো অফিস ধরতে বাড়তি সময় হাতে নিয়ে বের হতে হবে। সঠিকভাবে সময় পরিকল্পনা করে ট্রাফিক জ্যামের সমস্যাকে দূরে সরানোই ভালো। অফিসে দেরি করে আসার পেছনে ট্রাফিক জ্যামের দোষ না দেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

তারকাদের অনুসরণ
সিনেমায় আমরা এমন বহু বিষয় দেখি, যা বাস্তবে অসম্ভব। ঠিক একইভাবে তারকাদের পোশাক, ডায়ালগ, আচার-আচরণ ইত্যাদি চলচ্চিত্রেই মানায়। আপনি যদি তা বাস্তবে অনুসরণ করেন তাহলে তা বোকামি ছাড়া অন্য কিছু নয়।

অভিযোগ
কর্মস্থলে কাজের চাপ অনেক বেশি কিংবা বেতন কম থাকার অভিযোগ অনেকেই করেন। আপনার যদি এমন পরিস্থিতি হয় তাহলে সরাসরি কর্তৃপরে সঙ্গে আলোচনা করুন। সরাসরি এসব বিষয় কর্তৃপরে কাছে না জানিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় কোনো ভালো ফল পাওয়া যাবে না। তাই সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট কর্তৃপকেই জানানো উচিত। তা হলেই কেবল এ সমস্যার সমাধান হবে; অন্যথায় উল্টো ফল হতে পারে।