প্রতিবেদন

ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ নিশ্চিতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কার্যকরী পদক্ষেপ

নিজস্ব প্রতিবেদক
সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। তাই আগের চেয়ে বেশি পরিমাণে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতার কারণে বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কৃত্রিম সংকটও তৈরি হচ্ছে। এমতাবস্থায় ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ১-৩ আগস্টে গণমাধ্যমে পাঠানো অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এসব বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৭টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১ কোটি ৬১টি লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানির জন্য পূর্বানুমোদন দিয়েছে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দেশে পৌঁছেছে এবং বিভিন্ন হাসপাতাল ও কিনিকে সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওএমসি হেলথ কেয়ার (প্রা.) লি. কর্তৃক ৬ আগস্ট থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট উৎপাদন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সাকুল্যে তারা ২০ লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট উৎপাদন করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকার বিএমএ ভবনের ‘মেসার্স এসটিপি’ নামের প্রতিষ্ঠান গত ১ আগস্ট ৬৫ হাজার পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরের মিটফোর্ড এলাকার বিভিন্ন মেডিকেল ডিভাইস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে ৩৫ হাজার পিস, চট্টগ্রামের বিভিন্ন মেডিকেল ডিভাইস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে ১৫ হাজার পিস এবং বিএমএ ভবনের বিভিন্ন মেডিকেল ডিভাইস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে ১৫ হাজার পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সরবরাহ করা হয়েছে। ঢাকার রমনা ভবনের ‘মেসার্স সোহাগ সার্জিক্যাল’ নামের প্রতিষ্ঠান ১ আগস্ট ৭০০ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছে। এসব কিটের মধ্যে ৫০ পিস কিট সাভারে অবস্থিত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অন্য কিটগুলো বিভিন্ন হাসপাতালে সরবরাহ করেছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মেসার্স এমআর ট্রেডিং কোম্পানি ৬ হাজার ৫০০ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছে, যা বিভিন্ন মেডিক্যাল ডিভাইস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে সরবরাহ করা হবে। ঢাকার বিএমএ ভবনের মেসার্স এসটিপি কোম্পানি ৬৫ হাজার পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট আমদানি করেছে। মেসার্স হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সলিউশান লিমিটেড ২ লাখ ২৫ হাজার পিস এবং মেসার্স অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন ২ লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট দেশে এনেছে। মেসার্স অরবিটাল ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন আরো ৫ লাখ পিস কিট আমদানি করেছে, যা ৩ আগস্ট দেশে পৌঁছায়।
অপর প্রেস বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ৩ আগস্ট বিভিন্ন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভারত হতে আমদানিকৃত ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট সন্ধ্যা ৬টায় ৫০ হাজার, রাত ৮টায় ৩০ হাজার পিস এবং দক্ষিণ কোরিয়া হতে রাত ১১:৪৫-এ ১ লাখ পিস বাংলাদেশে পৌঁছায়। প্রতিদিন আমদানিকৃত ২ লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট দেশে পৌঁছবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে আশা প্রকাশ করা হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়, দেশের মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওএমসি হেলথ কেয়ার (প্রা.) লি. কর্তৃক ৬ আগস্ট থেকে প্রতিদিন ৩৫ হাজার পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট উৎপাদন করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সাকুল্যে তারা ২০ লাখ পিস ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট উৎপাদন করবে। ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। সার্বক্ষণিক হটলাইনের মাধ্যমে মিডিয়াসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে তথ্য সরবরাহের জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ করা হয়েছে। হটলাইন নম্বর: ০১৭০৮৫০৬০৪৭।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর বিভিন্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ, ওআরএস, আইভি ফুইড ও কলয়েডাল সলিউশান বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অধিক পরিমাণে উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সারাদেশে সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।