প্রতিবেদন

বন্যা, গুজব ও ডেঙ্গু নিয়ে মিডিয়া সেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা, গুজব ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়া সেল চালু করেছে তথ্য অধিদপ্তর। গত ২৭ জুলাই এক সরকারি তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ ও আশ্রয় কার্যক্রমে সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদপে সম্পর্কে গণমাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে সংবাদ সরবরাহের সুবিধার্থে এটি সার্বণিক চালু রয়েছে। পাশাপাশি গুজব থেকে সতর্ক থাকার জন্য জনসাধারণকে সচেতন করা এবং ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে।
তথ্যবিবরণীতে বলা হয়, এসব বিষয়ে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য টেলিফোন নম্বর ৯৫১২২৪৬, ৯৫১৪৯৮৮, ৯৫৪০০১৯; ফ্যাক্স নম্বর ৯৫৪০৯৪২, ৯৫৪০০২৬, ৯৫৪০৫৫৩; ই-মেইল ঢ়রফফযধশধ@মসধরষ.পড়স, ওয়েবসাইট িি.িঢ়ৎবংংরহভড়ৎস.মড়া.নফ, ফেইসবুক আইডি চওউ ইউ এবং ফেইসবুক পেজ চৎবংং ওহভড়ৎসধঃরড়হ উবঢ়ধৎঃসবহঃ, ইধহমষধফবংয-এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এছাড়া ডেঙ্গু সংক্রান্ত চিকিৎসা ও তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনিটরিং সেলের ফোন নম্বর ০১৭৩১৫১৮৮৬৬, ঢাকা উত্তর সিটি কপোরেশনের কল সেন্টার ০১৯৩২৬৬৫৫৪৪ এবং ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের ফোন নম্বর ০৯৬১১০০০৯৯৯-এ যোগাযোগের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
দুর্যোগ সম্পর্কিত তথ্যসেবার জন্য ১০৯০ নম্বরে (টোল-ফ্রি) ফোন করে সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য সতর্কবার্তা, নদীবন্দরগুলোর জন্য সতর্কবার্তা, দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার বিশেষ সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ০২৯৫৪০৭০১ টেলিফোন নম্বর ও ০১৩১৮২৩৪৫৬০ মোবাইল নম্বরে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে গুজব বিষয়ে সন্দেহজনক কিছু মনে হলে ৯৯৯-এ তাৎণিক কল করে পুলিশের সাহায্য নেয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি দেশে বন্যা দেখা দেয়। উত্তরাঞ্চলের অন্তত ২২টি জেলায় বন্যার পানি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হলে মানবিক সংকট তৈরি হয়। গৃহপালিত পশু নিয়েও বিপাকে পড়েন অনেকে। খাদ্য, পানীয়ের অভাবসহ স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়ে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। বন্যা শুরুর সময় থেকেই ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় এগিয়ে আসে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো। যদিও একই সময়ে সবার কাছে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আশার কথা হলো, দেশের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ফলে উন্নতি ঘটছে বন্যা পরিস্থিতির। বিভিন্ন স্থানে পানি নামা শুরু করায় ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বন্যাকবলিতরা। তবে এবার বাড়ছে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগও। পানি নামতে শুরু করায় উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটের পাশাপাশি বাড়ছে পানিবাহিত রোগ। তিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, ভেঙে গেছে বহু সেতু ও কালভার্ট।
এদিকে স্বার্থান্বেষী মহলের সৃষ্ট গুজবে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপিটুনির ঘটনা ঘটেছে। ‘পদ্মাসেতুর জন্য বাচ্চাদের মাথা লাগবে’ এমন মিথ্যা গল্পে ‘ছেলেধরা’ গুজব ছড়িয়ে নারী ও প্রতিবন্ধীসহ নানা বয়সী মানুষকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এসব ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা অনেক বেশি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে গুজব ছড়ানো শুরু হয়। সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসব গুজব ও গণপিটুনি ঠেকাতে মাঠে নামে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা গুজব ঠেকাতে সফলও হয়েছে। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে গুজব এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে বলা যায় না।
অপরদিকে ঢাকাসহ গোটা বাংলাদেশ এখন ডেঙ্গু প্রকোপে ভুগছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে খোলা হয়েছে বিশেষ ওয়ার্ড।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেশের ৬৩ জেলার হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী থাকার তথ্য এসেছে। প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সকল হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক-সেবিকাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ডেঙ্গু রোগসংক্রান্ত জনভোগান্তি নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম তদারক করতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর নিজ দপ্তরে ডেঙ্গু রোগসংক্রান্ত ‘মিনিস্টার মনিটরিং সেল’ গঠন করেছেন বলে সরকারি তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়। এই সেল ডেঙ্গু রোগ পরীার ফি-সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রকার লঙ্ঘন হলে অভিযোগ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সবার ছুটি বাতিল
ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া প্রশিণে থাকা চিকিৎসকদের প্রশিণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে তাদের চিকিৎসা কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
গত ৩০ জুলাই সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সমন্বয় ও সংস্কার শাখার সচিব শেখ মুজিবুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনের আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে সারাদেশের সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়, তারা যেন তাদের অফিস ও আসবাবপত্র নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। শিা মন্ত্রণালয়ও শিা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মুজিবুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত (৩০ জুলাই) ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ১৩ হাজার ৬৩৭ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৯ হাজার ৭৪০ জন চিকিৎসকের ছাড়পত্র নিয়েছেন। এখনও ভর্তি আছে ৩ হাজার ৮৪৭ জন। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।