প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: মধ্যস্থতার প্রস্তাব জাপানের মিয়ানমার প্রতিনিধি দলের ক্যাম্প পরিদর্শন

বিশেষ প্রতিবেদক
হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে মানবিক কারণে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। আগে আসা রোহিঙ্গাসহ এই সংখ্যা ১২ লাখের বেশি বলে বেসরকারি হিসাব। সরকারি হিসাব অনুযায়ী বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ রোহিঙ্গা। আশ্রিত হওয়ার পর থেকে ক্যাম্পগুলোতে এ পর্যন্ত বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী ৫০ হাজারেরও বেশি শিশু জন্ম লাভ করেছে।
এ বিপুলসংখ্যক ভাগ্যাহত রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকার। এজন্য মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ ও চুক্তির পাশাপাশি জাতিসংঘের সহায়তা নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা ইউএনএইচসিআর। এছাড়া ওআইসি, আরব লীগ, কমনওয়েলথ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইত্যাদি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশের সরকারপ্রধান ও কূটনীতিকদের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে সহায়তা চেয়ে আসছে বাংলাদেশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, ভারত, চীনসহ বন্ধুপ্রতিম প্রায় সকল দেশই এ ব্যাপারে বাংলাদেশকে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আসছে। তারপরও সংকটের সহজ কোনো সমাধান মিলছে না। সর্বশেষ মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান।
গত ৩০ জুলাই ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনোর সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে জাপান। জাপানের ওই প্রস্তাব বিবেচনা করবে বাংলাদেশ। তবে তিনি মনে করেন, এর আগেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হয়ে যাবে।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকের তিন দিন আগে মিয়ানমার সরকারের একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে। তারা ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের রাজি করানোর চেষ্টা করে। তবে রোহিঙ্গা নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মিয়ানমারের নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা এবং হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতনের বিচারের ঘোষণা ছাড়া তারা মিয়ানমার ফেরত যাবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট গভীর রাতে এক সেনা অভিযানে রোহিঙ্গাদের ওপর চলে নানামুখী বর্বরতা। হত্যা, ধর্ষণ, বিভিন্ন সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে লাখে লাখে রোহিঙ্গা নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। বাংলাদেশ সরকার মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়। উখিয়া-টেকনাফের পাহাড়গুলোতে ৩০টি আশ্রয় ক্যাম্প প্রতিষ্ঠা করে এদের থাকতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু চুক্তি করেও মিয়ানমার তা বাস্তবায়ন করেনি। আরও পরে জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু শক্তিশালী চীনের ভূমিকা রোহিঙ্গাদের পে না আসায় মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ক্ষেত্রে নানা তালবাহানা করে আসছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক চীন সফরে রোহিঙ্গা সমস্যাটি প্রাধান্য পেয়েছিল। চীনা কর্তৃপ এ সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক সাড়া দেয়। এতে মনে করা হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে চীন মিয়ানমারকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন ইস্যুতে নতুন করে তৎপর হয়েছে মিয়ানমার।
জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর তিন দিনের বাংলাদেশ সফর শেষে গত ৩১ জুলাই মিয়ানমার যান। ঢাকায় বৈঠকের আগে তারো কোনো কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এর আগে গত বছর ৭-৮ আগস্ট জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় এসেছিলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের বিষয়ে বাংলাদেশ যুক্ত হতে চায় না। নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাপানও এ ব্যাপারে সম্মত আছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে এসেছেন। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক জাপান সফরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

রোহিঙ্গা শিবিরে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশ সফরকালে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো। ৩০ জুলাই দুপুরে তিনি উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনে যান। এর আগে বেলা ১১টায় একটি বিশেষ ফাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ।
কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রওনা দেন তিনি। আশ্রয়শিবিরে পৌঁছে উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প নং-৪ এর বিভিন্ন ব্লক পরিদর্শন করেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময় শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম, ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে
মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল
জাতিসংঘসহ বিশ্বের শক্তিশালী অধিকাংশ দেশ যখন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর কঠোর চাপ প্রয়োগ করেছে ঠিক তখনই মিয়ানমারের একটি প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে পুনরায় তৎপর হয়েছে। তবে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে তাদের ফিরিয়ে নেয়ার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করলেও রোহিঙ্গারা রাখাইন ভাষায় স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ‘আমরা বাঙালি নই, আমরা রোহিঙ্গা। মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবে ফিরিয়ে নেয়া হলে আমরা যাব, অন্যথায় নয়। এছাড়া রাখাইন রাজ্যে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে, যে হত্যাকা- চালানো হয়েছে আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। যারা নির্যাতন চালিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।’
২৭ জুলাই মিয়ানমার সরকারি প্রতিনিধি দলের ঢাকা হয়ে উখিয়া শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের ঘটনার নেপথ্যে বিভিন্ন মহলের প থেকে ধারণা দেয়া হয়েছে, আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে বিশেষ করে একেবারে শেষ পর্যায়ে চীন সরকারের ইঙ্গিতে আগামী জাতিসংঘ অধিবেশনের আগেই মিয়ানমার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চায়। তবে মিয়ানমারের অতীত কর্মকা-ের নমুনা অনুযায়ী অনেকেই মনে করছেন, এ মুহূর্তে মিয়ানমার সরকার কিছু রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার পর তা বিশ্বকে দেখিয়ে পুনরায় এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ করা যেতে পারে, জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশন আগামী ১৭ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত এ কারণেই মিয়ানমার হঠাৎ করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নড়েচড়ে উঠেছে। এর আগে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার পরও মিয়ানমার রহস্যজনকভাবে চুক্তি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসেনি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের প থেকেও সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছিল নাগরিকত্বসহ তাদের কয়েকটি দাবি বাস্তবায়ন ছাড়া তারা নিজ দেশে ফিরে যাবে না।
উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও বাংলাদেশ পরে প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠককালে মিয়ানমার প্রতিনিধিদল রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তাদের সরকারের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আশ্বাসও দেয়া হয়েছে। প্রত্যাবাসন বিষয়ে রাখাইনে সর্বশেষ পরিস্থিতি তারা ব্যাখ্যা করেছেন রোহিঙ্গা নেতাদের কাছে। ওপারে ফিরে গেলে সেখানে কী কী সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে তাও ব্যাখ্যা করেছেন।
মিয়ানমার প্রতিনিধি দল উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে পৌঁছার পর রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই প্রত্যাবাসনবিরোধী একটি গ্রুপের সদস্যরা বিােভ করেছে। বেলা ৩টার দিকে কুতুপালং ক্যাম্পে বিােভ শুরু হয়। এ সময় বিােভকারীরা প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করে। প্ল্যাকার্ডগুলোতে তাদের দাবিদাওয়ার কথা ছিল রাখাইন ভাষায়। সেখানে বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের অধিকার ছাড়া কোনো রোহিঙ্গা রাখাইনে ফিরে যাবে না। কিছু প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘আমরা বাঙালি নই, আমরা রোহিঙ্গা।’ আবার কিছু প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘আমাদের মা-বোনদের যারা নির্যাতন করেছে তাদের বিচার করতে হবে।’
মিয়ানমার প্রতিনিধি দল রোহিঙ্গা নেতাদের ছাড়াও বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রতিটি বৈঠকে তাদের বক্তব্য ছিল, রাখাইন রাজ্যের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে আলোচনা। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যারা ফিরে যাবে তাদের যেসব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে তাও সবিস্তারে প্রতিনিধি দল ব্যাখ্যা করেছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অন্যতম প্রধান দাবি নাগরিকত্বের অধিকার বিষয়ে প্রতিনিধি দল কোনো বক্তব্য দেয়নি। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গারা যেহেতু মিয়ানমারের নাগরিক এবং রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী, সেেেত্র মিয়ানমারকে তা মেনে নিয়েই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হতে হবে।
প্রসঙ্গত, প্রত্যাবাসনে রোহিঙ্গাদের রাজি করাতে গত বছর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছিলেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী উইন মিয়াথ। তিনি ওই সময় রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। ওই সময়েও রোহিঙ্গা নেতারা ওই মন্ত্রীকে প্রত্যাবাসনের আগে নাগরিকত্বসহ বেশকিছু দাবি পূরণের শর্ত দিয়েছিল। ওই মন্ত্রী নিজ দেশে ফিরে রোহিঙ্গাদের দেয়া সব দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে পেশ করেন। এর পর মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে ইতিবাচক কোনো তৎপরতা দেখায়নি।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বের হেন কোনো দেশ নেই, যারা এ ইস্যুর জন্য মিয়ানমারকে দায়ী করেনি। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশ মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সেসব দেশ সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এছাড়া জাতিসংঘ এ ইস্যু সৃষ্টির শুরু থেকে মানবিকতা প্রদর্শন করেছে এবং বরাবরই মিয়ানমার সরকারকে দোষারোপ করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিতদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য যে চাপ সৃষ্টি করেছে তা এ পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছে। মূলত এসব কারণেই মিয়ানমার প পুনরায় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে চাচ্ছে।
কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে, সরকারি-বেসরকারি বা জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী যত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে তাদের সবাইকে পর্যায়ক্রমে ফেরত নেয়া হবে কি? নাগরিকত্বের অধিকার লাভ ছাড়া রোহিঙ্গারা আদৌ নিজ দেশে ফিরে যাবে কি না সেটাও বড় প্রশ্ন। এসব কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে অনিশ্চিয়তা থেকেই যাচ্ছে।