কলাম

সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে গ্রামকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিকল্প নেই

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের যাত্রাপথে রয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক মেয়াদে সরকার পরিচালিত হয়েছে। ৮ বছর বিরতির পর ২০০৯ সাল থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা তৃতীয়বার, সব মিলিয়ে ৪র্থবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ক্যারিশমেটিক নেত্রী শেখ হাসিনা। তার নেতৃত্বে দুর্দান্ত গতিতে বাংলাদেশ ডিজিটাল দেশে রূপ নিচ্ছে। চোখধাঁধানো অবকাঠামোগত উন্নয়ন সবার প্রশংসা পাচ্ছে। শহরাঞ্চল ছাড়িয়ে এখন গ্রামাঞ্চলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। যদিও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য গ্রামকেন্দ্রিক সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বলেছিলো, নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তারা এবার শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রামাঞ্চলে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে। নির্বাচিত হওয়ার পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামে আধুনিক শহরের সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গ্রামীণ উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়িয়েছে চলতি অর্থবছরের বাজেটে। গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামের হাট-বাজারগুলোকে অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গ্রামের মানুষের কাছাকাছি প্রশাসনিক মতা পৌঁছে দেয়া, দ্রুত গতির ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেয়া এবং পল্লী অঞ্চলে নতুন করে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৩০,৫০০ মিটার ব্রিজ, ১৩ হাজার কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ৩৭০০ মিটার কালভার্ট, ১৯০টি গ্রোথ স্টোর বাজার উন্নয়ন ও ৬৪টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের ঘোষণা রয়েছে এবারের বাজেটে। আশা করা হচ্ছে, এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের চেহারাই পাল্টে যাবে। শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির ফলে গ্রামগুলোও হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের জন্য উপযুক্ত স্থান। শহর-গ্রামের সুষম উন্নয়নের ফলে এগিয়ে যাবে দেশ; আর গ্রামের মানুষও পাবে শহরের আধুনিক মানের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা।
উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বহুজাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নামবিওর ওয়েবসাইটে ‘ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্স-২০১৯’তে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী বিশ্বে যানজটপূর্ণ শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ঢাকা। এর আগে ২০১৮ ও ২০১৭ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়। ২০১৬ সালে ঢাকার অবস্থান ছিল তৃতীয় এবং ২০১৫ সালে এই অবস্থান ছিল অষ্টম; অর্থাৎ মানুষ ক্রমেই শহরমুখী হওয়ার কারণে রাজধানী শহরের এ হাল হচ্ছে।
‘আমার গ্রাম আমার শহর’ অঙ্গীকারের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শন প্রতিফলিত হয়েছে স্পষ্টভাবে। এর বাস্তবায়ন বাংলাদেশের চেহারা পাল্টে দিতে ভূমিকা রাখবে। সরকারের ভিশন মোতাবেক গ্রামের মানুষ আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পেলে তারা এখনকার মতো আর শহরমুখী হবে না। ফলে সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ কর্মসূচি সফলতার মুখ দেখবে।