প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নির্মাণাধীন শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্বাস্থ্যসেবা খাতে গড়বে নয়া নজির

তারেক জোয়ারদার : উন্নত স্বাস্থ্য সেবার সহায়ক রূপকল্প সামনে রেখে যথাসময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো নির্মাণ, উন্নীতকরণ এবং বিদ্যমান অবকাঠামো সম্প্রসারণসহ মানসম্মত মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে স্থাপনাসমূহকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের উপযোগী রাখার লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা, মানসম্পন্ন চিকিৎসক ও নার্স অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার করে চলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ২০১২ সালে ‘শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন, গোপালগঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাতার নামে নেয়া এই প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে একটি মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ।
এইচইডি সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজের ধারায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং সরকারের চ্যালেঞ্জিং ভিশন বাস্তবায়নে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সারিতে স্থান করে নেয়ার পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর বিশেষ আগ্রহে ২০১০ সালের ২২ মার্চ সাবেক প্রকৌশল ইউনিট নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা ইউনিটকে (সিএমএমইউ) একটি পূর্ণাঙ্গ ডিপার্টমেন্ট হিসেবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এইচইডি) উন্নীত করা হয়।
উল্লেখ্য, সিএমএমইউ-র জনবল ছিল ৩৮৬ জন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ২২ মার্চ সিএমএমইউকে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে উন্নীত করা এবং এর জনবল ১০৫ জন বৃদ্ধি করা হয়। অতঃপর ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদ্যমান ৪৯১ জন জনবলের অতিরিক্ত ১২৮টি পদ বৃদ্ধি পেয়ে মোট পদের সংখ্যা হয় ৬১৯টি। পাশাপাশি বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী, পিএসসি’র সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) কাজের গতি, ব্যপ্তি ও ভবনের আধুনিক স্থাপত্য ডিজাইনের আমূল পরিবর্তন আসে। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও যথাযথ উপস্থাপনার কারণে ২০১৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদ্যমান ৬১৯টি পদের অতিরিক্ত ৪২৪টি পদ সংবলিত সাংগঠনিক কাঠামোর অনুমোদন দেয়। বর্তমানে ১০৪৩ জন জনবল নিয়ে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন স্থাপনার নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বর্তমানে দেশের ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে অবস্থিত কমিউনিটি কিনিক নির্মাণ থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে ১০০ শয্যা পর্যন্ত সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো বা স্থাপনাসমূহের নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই অধিদপ্তর জেলা হাসপাতাল, জাতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কারের কাজ করে থাকে।
এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মোহী, পিএসসি স্বদেশ খবরকে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথাযথ দিকনির্দেশনার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ও সচিবের সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতায় স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার করে স্বাস্থ্য সেক্টরে সেবার মান কাক্সিক্ষত পর্যায়ে এগিয়ে নিতে নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রেখে চলেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
তিনি জানান, এইচইডি’র কর্মপরিধি অনুযায়ী ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিউনিটি কিনিক নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ, ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার, উপজেলা পর্যায়ে নতুন ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ, বিদ্যমান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ কাজ, নতুন ২০ শয্যা ও ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণ, উপজেলা স্টোর নির্মাণ, জেলা পর্যায়ে জেলা সদর হাসপাতালের উন্নীতকরণ কাজ, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, নার্সিং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটউট অব হেলথ টেকনোলজি নির্মাণ, মেডিকেল অ্যাসিসট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলসহ (ম্যাটস) মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য কাজ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এইচইডি) ওপর ন্যস্ত। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রেইন চাইল্ড হিসেবে খ্যাত কমিউনিটি কিনিক নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার করার েেত্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর যেমন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের ভবন, বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান ও সার্জনস (বিসিপিএস), নিপোর্ট ভবন, সেন্ট্রাল স্টোর (পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য), ডেন্টাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সিএমএসডি-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভবন নির্মাণ করার গুরুদায়িত্ব স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ওপর ন্যস্ত আছে।
এরই ধারাবাহিকতায় উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, মানসম্পন্ন চিকিৎসক ও নার্স তৈরির লক্ষ্যে ২০১২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাতার নামে ‘শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন, গোপালগঞ্জ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। গোপালগঞ্জে চলমান এ প্রকল্পে একটি মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ স্থাপনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়, এর মাধ্যমে চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ক শিক্ষার জন্য অবকাঠামো নির্মিত হবে, মেডিকেল শিক্ষার চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে, সেবাখাতের জনবল বাড়ানোর অংশ হিসেবে নতুন চিকিৎসক তৈরী করে চিকিৎসক ও জনসংখ্যার অনুপাতিক হারের ব্যবধান কমিয়ে আনা যাবে, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কিনিক্যাল ল্যাব হিসেবে এবং ব্যবহারিক কাস করার জন্য হাসপাতালকে ব্যবহারসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা সৃষ্টি করা যাবে। প্রকল্প এলাকায় একই সাথে মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন হওয়ায় তা গোপালগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। ফলে গোপালগঞ্জ ও এর পার্শ্ববর্তী জেলাসমূহের রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমে যাবে। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে মেডিকেল কলেজটিতে ৭ম ব্যাচের ছাত্রছাত্রীরা অধ্যয়নরত আছে।
নতুন এ প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন, একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবন নির্মাণ, নার্সিং কলেজ নির্মাণ, ডাক্তার, শিক্ষক, নার্স, ছাত্রছাত্রীদের জন্য আবাসন সুবিধা সৃষ্টি, মসজিদ; শহীদ মিনার নির্মাণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ, এপ্রোচ রোড ও অভ্যন্তরীণ রোড নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। উল্লেখ্য, প্রকল্পটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক দৃষ্টিনন্দন জলাধারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ৪৬৩.৬২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মার্চ ২০১২ হতে ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মেয়াদের বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হলেও ৫০৯.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রথম বার সংশোধন ও ৭০৫.০৪ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে দ্বিতীয় বার সংশোধন করা হয়। প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধন অনুযায়ী অনুমোদিত মেয়াদকাল মার্চ ২০১২ হতে জুন ২০২০। মোট প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে নির্মাণজনিত ব্যয় ৫৫২.২৪ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৭৮.৩৩%। সমস্ত নির্মাণ কার্যক্রম স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত হচ্ছে। সর্বশেষ জুন ২০১৯ পর্যন্ত নির্মাণ খাতে মোট ব্যয় হয়েছে ৩১৪.১৪ কোটি টাকা, যা নির্মাণ খাতের অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয়ের ৫৬.৮৮%। এছাড়াও জুন ২০১৯ পর্যন্ত প্রকল্পের মোট আর্থিক অগ্রগতি ৩৭১.১৭ কোটি টাকা, যা সর্বশেষ সংশোধিত অনুমোদিত ব্যয়ের ৫২.৬৪%।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা ঘুরে এসে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রকল্পের অগ্রগতি কিছুটা কম হয়েছে। তবে এর পেছনে ইচ্ছাকৃত কোনো অবহেলা নেই; বরং রয়েছে যৌক্তিক নানাবিধ কারণ।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এর পেছনে মূল কারণ জমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, মাটি ভরাটে বিলম্ব, হাসপাতাল ভবন নির্মাণে একাধিকবার পুনঃদরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, জনবল নিয়োগ না হওয়া, সংযোগ সড়ক পুরোপুরি চালু না হওয়া, শতভাগ নির্মাণ সমাপ্ত স্থাপনা হস্তান্তর করতে না পারা। যদিও ইতোমধ্যে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা এবং বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন স্থাপন ও চালু করা হয়েছে।
তবে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে ৮ তলা ভিতসহ একাডেমিক ভবন ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। এখনও তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, লিফট স্থাপন এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে বিলম্বের কারণে এর কার্যক্রম পুরোপুরি পরিচালিত হচ্ছে না। সম্প্রতি সাব স্টেশন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে এবং পৌর পানি সরবরাহের সংযোগসহ বগুড়াস্থ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) মাধ্যমে পানি শোধনাগার স্থাপন করে পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং লিফট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পানি শোধনাগার প্লান্ট স্থাপনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ তলা ভিত্তির ওপর ৯ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ ২০১৭ সালের ৯ মার্চ আরম্ভ হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২০ সালের ৯ মার্চের মধ্যে। নার্সিং কলেজ ভবন নির্মাণকাজের জন্য গত বছরের ৮ আগস্ট কার্যাদেশ দেয়া হলেও নতুনভাবে অধিগ্রহণকৃত ৬ একর জমিতে মাটি ভরাটের কারণে নির্মাণকাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। আশা করা যায়, হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ ভবন নির্মাণ প্রকল্প মেয়াদের মধ্যে সমাপ্ত করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো স্বদেশ খবরকে জানায়, ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভৌত অবকাঠামোর যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে সে অংশটুকু ব্যবহার করার জন্য সবার আগে দরকার বিদ্যুৎ সুবিধা। বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাবস্টেশন নির্মাণ এবং জেনারেটর স্থাপন ও চালু করা হয়েছে। পানি সরবরাহের বিষয়টিও চ্যালেঞ্জিং বিবেচনায় এ বিষয়ে পরিকল্পনা ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একাডেমিক ভবনসহ সকল হস্তান্তরিত ও হস্তান্তরযোগ্য ভবন অতি সত্বর ব্যবহার উপযোগী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, আসবাবপত্র, কিনিক্যাল যন্ত্রপাতি এবং জনবল নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি আনার জন্য এরই মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি নিয়মিত সভার পর সভা আয়োজন করে চলেছেন। এতে নতুন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন, গোপালগঞ্জ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পটি ২০১২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। মার্চ ২০১২ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৪৬৩.৬২ কোটি টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধিসহ প্রকল্প ব্যয় ১০% বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ডিপিইসি সভার সুপারিশক্রমে মোট ৫০৯.০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন অনুমোদিত হয়। সংশোধিত অনুমোদিত মেয়াদে প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্পন্ন না হওয়ায় ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে প্রথম বার জুন ২০১৭ পর্যন্ত এবং পরে দ্বিতীয় বার ২ বছর অর্থাৎ জুন ২০১৯ পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। দ্বিতীয় সংশোধন প্রস্তাবে মার্চ ২০১২ হতে জুন ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৭০৫.০৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল অনুমোদিত ব্যয় অপেক্ষা ২৪১.৪২ কোটি টাকা বা ৫২% বেশি এবং প্রথম সংশোধিত অনুমোদিত ব্যয় অপেক্ষা ১৯৫.২৯ কোটি টাকা বা ৩৮% বেশি।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান অঙ্গের আর্থিক ও বাস্তব কার্যক্রম জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন
অনুমোদিত আরডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য মোট ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজের জন্য ২৬.৫৪ একর, রাস্তা ৩.৪৬ একর, নার্সিং কলেজ ৪.৭৫ একর এবং ১.২৫ একর জমি ব্যবহার করে রাস্তা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ সদর হতে মোট ৪৮২৬.৪৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উক্ত জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। দুই পর্যায়ে প্রকল্পের জন্য জমির দখল পাওয়া যায় যথাক্রমে ২০১২ সালের ২৭ আগস্ট ৩০ একর এবং ২০১৮ সালের ৩ জানুয়ারি ৬ একর। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের সমুদয় জায়গায় মাটি ভরাটের কাজ ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর শেষ হবার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হস্তান্তর করা হয় প্রায় ১ বছর পরে ২০১৫ সালের ১২ ডিসেম্বর। প্রথম পর্যায়ে মাটি ভরাট খাতে ব্যয় করা হয় ৯৩৫.৬৯ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে অধিগ্রহণকৃত ৬ একর জমিতে মাটি ভরাটের ব্যয় ধার্য করা হয়েছে ২২৬.৪৪ লক্ষ টাকা যা প্রায় সমাপ্তির পথে।

একাডেমিক ভবন নির্মাণকাজ
৮ তলা ভিতসহ একাডেমিক ভবন ৬ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। মোট ১,৪৪,০০০ বর্গফুট মেঝায়তনবিশিষ্ট এ ভবন নির্মাণের জন্য আরডিপিপিতে ৩৯২৭.২৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ডিইউএল-পিএনবি জেভি। ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবরের মধ্যেই ভবনটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত হয়। একাডেমিক ভবনের নির্মাণ খাতে অবমুক্ত অর্থ ৩৪৯৫.৫৬ লক্ষ টাকা। অবশ্য ভবনটি এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সম্প্রতি তাতে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। লিফট স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। ফলে ভবনটিতে এখন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

হাসপাতাল ভবন
হাসপাতাল ভবন নির্মাণ এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান কাজ। এ খাতে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের ২৮.৯৯% অর্থ বরাদ্দ রয়েছে। অনুমোদিত আরডিপিপি ও স্থাপত্য নকশা মোতাবেক মোট ৪,৭৮,৩১৯ বর্গফুট মেঝায়তন বিশিষ্ট হাসপাতালটি ১০ তলা ভিতসহ ৯ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ চলমান আছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মীর আক্তার-ওয়াহিদ কন্সট্রাকশন জেভিকে ১৬০১০.২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ৯ মার্চ কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের ৯ মার্চের মধ্যে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হবে বলে চুক্তিতে উল্লেখ আছে। জুন ২০১৯ পর্যন্ত মোট পরিশোধিত অর্থ ৭৮৮৭.৬১ লক্ষ টাকা। নির্মাণকাজের সামগ্রিক অর্জিত বাস্তব অগ্রগতি ৬৩%। আলাদা চুক্তির মাধ্যমে ভবনটির ১০ম তলা নির্মাণের জন্য ১১৫০.৬৪ লক্ষ টাকা মূল্যমানে মেসার্স ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে গত বছরের ৮ অক্টোবর কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে এবং বর্তমান অগ্রগতি ৪৬%। আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

নার্সিং কলেজ নির্মাণ
নার্সিং কলেজের একাডেমিক ভবন, হোস্টেল ভবন, অধ্যক্ষের বাসভবন, প্রশিক্ষকদের বাসভবন, কর্মচারীদের বাসভবন ও রেস্ট হাউজ ভবন নির্মাণকাজের জন্য গত বছরের ৮ আগস্ট কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। কার্যদেশ মূল্য ৪৯৮৩.৮৯ লক্ষ টাকা এবং সময়সীমা ১৮ মাস। অধ্যক্ষের বাসভবন, উপাধ্যক্ষের বাসভবন, অধ্যাপকের বাসভবন, সহযোগী অধ্যাপকের বাসভবন, সিনিয়র সহকারী ও সহকারী অধ্যাপকের বাসভবন নির্মাণকাজ, আরডিপিপি অনুযায়ী অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ডুপ্লেক্স বাসভবন, অধ্যাপকের বাসভবন ৫ তলা ভিত্তির ওপর ৩ তলা ভবন (৬ ইউনিট)-প্রতি ইউনিট ১৮০০ বর্গফুট, সহযোগী অধ্যাপকের বাসভবন ৫ তলা ভিত্তির ওপর ৩ তলা ভবন (৬ ইউনিট)-প্রতি ইউনিট ১৫০০ বর্গফুট, সিনিয়র সহকারী ও সহকারী অধ্যাপকের বাসভবন ৫ তলা ভিত্তির ওপর ৫ তলা ভবন (১০ ইউনিট) প্রতি ইউনিট ১২৫০ বর্গফুট ধরা আছে। অনুমোদিত আরডিপিপি অনুযায়ী এ ৫টি ভবনের নির্মাণ ব্যয় ১৩৩৯.৪১ লক্ষ টাকা। একটি ক্রয় প্যাকেজের আওতায় ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি নির্মাণকাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজটি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এন বিল্ডারস (প্রাইভেট) লি.। কার্যাদেশ অনুযায়ী এ প্যাকেজের মোট ব্যয় ১৩৩৯.৪১ লক্ষ টাকা। জুন ২০১৯ পর্যন্ত এ প্যাকেজের অনুকূলে মোট অবমুক্ত ব্যয় হয়েছে ১৩৩৫.০৩ লক্ষ টাকা। নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ। ভবনগুলো হস্তান্তর করার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস নির্মাণকাজ
ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য আলাদাভাবে ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর ৬ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ভবন ৬০৫৪৫ বর্গফুট আয়তনের এবং ২৪০টি করে শয্যাবিশিষ্ট মোট ৪৮০ শয্যার সংস্থান করা হয়েছে। আরডিপিপি অনুযায়ী এই ভবন দু’টির নির্মাণে ব্যয় ধরা আছে ২৮৮৮.৪৪ লক্ষ টাকা। কার্যাদেশ উল্লেখিত ব্যয় ২৭৯০.৮৩ লক্ষ টাকা। কাজটি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তমা কন্সট্রাকশন অ্যান্ড কোং লিমিটেড। ভবন দুটির পূর্ত নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পরপরই ছাত্ররা বসবাস শুরু করেছে।

ইন্টার্নি ডক্টরস (পুরুষ ও মহিলা) ডরমিটরি ভবন নির্মাণকাজ
অনুমোদিত আরডিপিপি অনুযায়ী ইন্টার্নি ডক্টরস (পুরুষ ও মহিলা) ডরমিটরির জন্য ৬ তলা ভিত্তির ওপর দুটি ৬ তলা ভবন, প্রতি তলা ৩৫০০ বর্গফুট করে, প্রতি ভবনে মোট ৯২ শয্যার ব্যবস্থা রেখে নির্মাণ করা হয়েছে। ভবন দুটি নির্মাণের জন্য আরডিপিপিতে ১৩২০.১৯ লক্ষ টাকা সংস্থান রয়েছে। সংস্থানকৃত এ টাকার মধ্যে মার্চ ২০১৭ পর্যন্ত ইন্টার্নি ডক্টরস (পুরুষ ও মহিলা) ডরমিটরির জন্য যথাক্রমে ব্যয় হয়েছে মোট ১২৯৭.৫৮ লক্ষ টাকা। ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ। তবে ভবন দুটি হস্তান্তর করার পূর্বে তাতে বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

সিঙ্গেল ডক্টরস আবাসন (পুরুষ ও মহিলা) নার্স ডরমিটরি ও ইমাজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি নির্মাণকাজ
সিঙ্গেল ডক্টরস আবাসন (পুরুষ ও মহিলা) ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর ২ তলাবিশিষ্ট, স্টাফ নার্স ডরমিটরি ভবন ৬ তলা ফাউন্ডেশনের ওপর ৪ তলা ভবন নির্মাণ খাতে আরডিপিপি অনুযায়ী বরাদ্দ আছে সাকুল্যে ১৪৬৯.৭৫ লক্ষ টাকা। সিঙ্গেল ডক্টরস আবাসন (পুরুষ ও মহিলা), নার্স ডরমিটরি এবং ইমারজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি ভবন নির্মাণ খাতে ব্যয় হয়েছে মোট ১৪২০.৬৬ লক্ষ টাকা ও কার্যাদেশে উল্লেখ আছে ১৪৬৯.৭৫ লক্ষ টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০১৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি হতে ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উক্ত ভবনের নির্মাণকাজ সমাপ্ত করার কথা ছিল। ভবন নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ, যা গত বছরের ১৬ আগস্ট হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমানা প্রাচীর
প্রথম পর্যায়ে এফজিএল পর্যন্ত সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ খাতে আরডিপিপিতে ৭৩৫.৭৬ লক্ষ টাকা সংস্থান ছিল এবং ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত মোট ৭৩৫.৫২ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ। দ্বিতীয় পর্যায়ে এফজিএলের উপরের অংশ এবং নার্সিং কলেজের সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ চলছে। কার্যাদেশ মূল্য ৬৪৯.১৪ লক্ষ টাকা।
বিদ্যমান হাসপাতাল ভবনের মেরামত, সংস্থার ও অফিস সম্প্রসারণ কাজ বিদ্যমান ‘২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ’ হাসপাতাল ভবনের মেরামত, সংস্কার ও অফিস সম্প্রসারণ কাজের জন্য আরডিপিপিতে ১০৬.১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৩১ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত মোট ব্যয় ১০৬.১৫ লক্ষ টাকা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মা কন্সট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ারস ২০১৩ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হতে ২০১৪ সালের ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভবনটির নির্মাণকাজ সমাপ্ত করেছে। নির্মাণকাজের অগ্রগতি শতভাগ এবং ইতোমধ্যে তা হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ৫৮৮.০০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যমান ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ ২০১৪ সালের ৩০ জুন শতভাগ শেষ হয়েছে।
১০০০ বর্গফুট মেডিকেল অফিসার ও লেকচারার বাসভবন (১০ ইউনিট), নার্স কোয়ার্টার (১০ ইউনিট), ৬০০ বর্গফুট তৃতীয় শ্রেণি বাসভবন এবং ইমারজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি নির্মাণকাজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও লেকচারার বাসভবন ১০০০ বর্গফুট আয়তনের (১০ ইউনিট), নার্স কোয়ার্টার (১০ ইউনিট), ৬০০ বর্গফুট আয়তনের তৃতীয় শ্রেণি বাসভবন ও ইমারজেন্সি স্টাফ ডরমিটরি (সকল ভবনের ভিত্তি ৫ তলার) নির্মাণ খাতে প্রকল্পে মোট অর্থ বরাদ্দ রয়েছে ১৪৩৪.৩৬ লক্ষ টাকা। ১৪৩৪.৩৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২০১৭ সালের ২৫ এপ্রিল কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। কাজটি করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স কিউ এইচ মাসুদ অ্যান্ড কোম্পানি। কার্যাদেশ অনুযায়ী ৩১ মার্চ ২০১৮ পর্যন্ত ব্যয়িত অর্থ ১০০০.৬৫ লক্ষ টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও নানাবিধ যৌক্তিক কারণে সময়সীমা বাড়িয়ে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান নির্মাণকাজের সামগ্রিক অগ্রগতি ৯৫ ভাগ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্মাণকাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন করার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তাই আশা করা হচ্ছে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ হবে।

শেষ কথা
শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পের মতো এতো বড় একটি প্রকল্পের পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্রেইন চাইল্ড কমিউনিটি কিনিক নির্মাণ থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে ১০০ শয্যা পর্যন্ত সকল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অবকাঠামো বা স্থাপনাসমূহের নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের বিশাল দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করে চলেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
কিভাবে সম্ভব হচ্ছে এইচইডি’র এমন অভাবনীয় অগ্রযাত্রা – এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ মোহী, পিএসসি স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাই আমাদের পাথেয়। সেই সঙ্গে একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আমরা বদলাতে পেরেছি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে। এ প্রতিষ্ঠানে এখন কেউ দুর্নীতি খুঁজে পাবে না। প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে সব ধরনের কার্যকর পদপে নিয়েই আমরা এগোচ্ছি।
এইচইডি’র প্রধান প্রকৌশলী বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের চলতি মেয়াদে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকা- সর্বমহলেই প্রশংসিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছা ও যথাযথ দিকনির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন হয়েছে; যা ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের ফলে এদেশের শিশুমৃত্যু ও মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমেছে এবং নারী-পুরুষ উভয়েরই গড় আয়ু বেড়েছে।
শেখ হাসনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে প্রতিনিয়তই নতুন নতুন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উদ্বোধন ও চালু করা হচ্ছে। শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন প্রকল্পও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে। এর বাইরেও সারাদেশে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন অনেক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো। হাসপাতালগুলোতে প্রতিনিয়ত বাড়ানো হচ্ছে শয্যাসংখ্যা। ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ বেড়েছে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। শূন্য পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে দ জনবল। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যখাত এখন কর্মযজ্ঞের এক বিশাল ত্রে। আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো বা স্থাপনাসমূহের নির্মাণ, উন্নীতকরণ, সম্প্রসারণ, মেরামত ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে চলেছে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্যখাতে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের েেত্র স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ভূমিকা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. এ মোহী, পিএসসি স্বদেশ খবরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর যথাযথ মান বজায় রেখে এবং যথাসময়ে এ খাতের স্থাপনা নির্মাণ ও রণাবেণ করে নেপথ্যে থেকে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অনন্য অবদান রেখে চলেছে। অবশ্য সরকারের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া এ দায়িত্ব পালন করা আমাদের জন্য সহজ হতো না বা আদৌ সম্ভব হতো না।