রাজনীতি

এবার ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেনি বিএনপি: এ নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মাঝেও বিভ্রান্তি!

শামসুল আলম
বিতর্ক এড়াতে এবং কৌশলের অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরের মতো এবারও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করেননি দলের নেতাকর্মীরা। তবে পরদিন ১৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। সারাদেশেও খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় ১৬ আগস্ট দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তবে ‘নির্দিষ্ট দিনে’ খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন না করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়াকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তার মুক্তি দাবি করেন।
আগে প্রতি বছর ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে কেক কেটে জাঁকজমকপূর্ণভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করত বিএনপি। এতে খালেদা জিয়াসহ দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থাকতেন।
গতানুগতিক ১৫ আগস্ট দিনব্যাপী সারাদেশের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন করতেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে খালেদা জিয়ার জন্মদিন জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করছে না বিএনপি। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে গুলশান কার্যালয়ে নিজের ৭০তম জন্মদিনে ৭০ পাউন্ড ওজনের কেক কেটে জাঁকজমকপূর্ণভাবে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রথম প্রহরে তিনি কেক না কাটলেও সন্ধ্যার পর দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন খালেদা জিয়া। ২০১৬ সালে বন্যা ও গুলশানে জঙ্গি হামলাকে কারণ দেখিয়ে খালেদা জিয়া জন্মদিন উপলে কেক কাটা কর্মসূচি বাতিল করেছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৭ এবং ২০১৮ সালেও কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মদিন পালন করেনি বিএনপি।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কারণ তাঁর ৩টি জন্মদিন রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি নিজে বা দলের নেতাকর্মীরা ১৫ আগস্ট জন্মদিন পালন করেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে খালেদা জিয়া নিজে এবং দলের নেতাকর্মীরা হঠাৎ করে ১৫ আগস্ট শোকের দিনে জন্মদিন পালন শুরু করেন।
বিএনপি কার্যালয় থেকে জানানো হয়, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদার দম্পতির তৃতীয় সন্তান তিনি। ১৯৬০ সালে বগুড়া ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত সেনাকর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন খালেদা জিয়া।
এবার নিয়ে খালেদা জিয়া ৩ বার জন্মদিন অতিবাহিত করেছেন কারাগারে। প্রথমবার ২০০৮ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০১৮ সালে জন্মদিনে কারাগারে ছিলেন তিনি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন খালেদা জিয়া। কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়ায় এ বছর ১ এপ্রিল তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালের ৬২১ নম্বর কেবিনে অবস্থান করছেন তিনি।
১৯৮১ সালের ৩০ মে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী সৈন্যদের হাতে নিহত হন। এরপর জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বিএনপির রাজনীতিতে আগমন ঘটে খালেদা জিয়ার। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন। ১৯৮৩ সালের মার্চে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের ১২ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৪ সালের ১ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। এরপর থেকে অদ্যাবধি তিনি দলটির চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গত ১৫ আগস্ট জানান, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলে ১৬ আগস্ট দেশব্যাপী মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে কারাবন্দি অসুস্থ খালেদা জিয়ার আরোগ্য কামনায় দলের প থেকে দোয়া করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
খালেদার মুক্তিতে আন্দোলন করতে না পারায় আপে প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় নেতাকর্মীদের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, ‘আমাদের সুসংগঠিত হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে মুক্ত করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন, এই দিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে তার মুক্তির জন্য নিজেদের সংগঠিত এবং আন্দোলন বেগবান করি। তার জন্মদিনে এটিই হোক আমাদের শপথ।’
১৬ আগস্ট রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।
নেত্রীর মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে না পারায় আপে করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা এমন কিছু করতে পারছি না যে, নেত্রীকে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মুক্ত করতে পারব।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মামলার বিষয়ে আইন আদালতের ভূমিকা কী, সেটি আর আমাদের বুঝতে বাকি নেই।