রাজনীতি

কাউন্সিল প্রস্তুতি: পদ-পদবির জন্য ব্যস্ত ছাত্রদল নেতারা

বিশেষ প্রতিবেদক
১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ষষ্ঠ কাউন্সিল। গত ৯ আগস্ট রাতে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কাউন্সিল সামনে রেখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে গত ১৭ আগস্ট মনোনয়ন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন যাবৎ ছাত্রদলের নির্বাচিত নেতৃত্ব নেই। প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঘোষিত পকেট কমিটির মাধ্যমে ছাত্রদলের মতো বৃহৎ সংগঠনটি পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ ১৯৯২ সালে ভোটের মাধ্যমে রুহুল কবির রিজভী ও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর কমিটি নির্বাচিত হয়েছিল। আর এবার নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে ছাত্রদলকে ফের গতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
জানা যায়, নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলে সৃষ্ট সংকট সমাধান করে বহিষ্কৃত নেতাদের যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি ছাত্রদলের কাউন্সিল ঘিরে গঠিত নির্বাচন পরিচালনা, বাছাই ও আপিল কমিটিতেও ক্ষুব্ধ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রত্যাহার হচ্ছে বিলুপ্ত কমিটির ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ।
এর আগে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে ৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ বৈঠক হয়। লন্ডন থেকে স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। এ বৈঠকের মধ্য দিয়েই ছাত্রদলের সংকট আপাত সমাধান হয়।
সূত্র জানায়, তারেক রহমানের যেকোনো সিদ্ধান্ত মানার অঙ্গীকার করেছেন বিলুপ্ত কমিটির ছাত্রনেতারা। ছাত্রদলের সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বরচন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে। মূলত তারাই দফায় দফায় ক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সংকট সমাধানের নেপথ্যে কাজ করেন। তাদের সহযোগিতা করেন সাবেক ছাত্রদল নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, হাবিবুর রশিদ, তাইফুল ইসলাম টিপু, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ, নিপুণ রায় চৌধুরী ও আবদুল মতিন।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে বিএনপি। এর প্রতিবাদে ১১ জুন থেকে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনে নামেন ছাত্রদলের সাবেক কমিটির বিক্ষুব্ধ নেতারা। বয়সের সীমা না রাখা, স্বল্পমেয়াদি কমিটি গঠনসহ ৩ দফা প্রস্তাবনার ভিত্তিতে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের দাবিতে সংগঠনটির বিলুপ্ত কমিটির একাংশের নেতারা এ আন্দোলনে নামেন। দুই দফা অবস্থান কর্মসূচির প্রথম দফায় বিএনপির নয়া পল্টন কার্যালয়ের প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলানোসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতাকে লাঞ্ছিত করে বিক্ষুব্ধরা। দ্বিতীয় দফার অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আইনজীবীদের বিােভ মিছিলে সংহতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এসব কারণে আন্দোলনকারী ১২ নেতাকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়।
সর্বশেষ ছাত্রদলের নেতৃত্বসংকট নিরসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্যোগ নেন। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের জন্য তারেক রহমান দ্রুত কাউন্সিল করার আগ্রহ জানালে ছাত্রনেতারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে জানান। এ সময় সব ছাত্রনেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের যেকোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার অঙ্গীকার করেন। ছাত্রদলের সাবেক এক সহসভাপতি জানান, বৈঠকে বিগত এক যুগের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে ছাত্রনেতারা বলেছেনÑ তারা দলের হয়ে কাজ করতে চান। সাময়িক সময়ে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির জন্য তারেক রহমানের কাছে তারা মাও চান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও তাদের মা করে দেয়ার কথা বলেছেন।
বৈঠকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুসহ ক্ষুব্ধ নেতাদের মধ্যে ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, জহিরউদ্দিন তুহিন, জয়দেব জয়, বায়েজিদ আরেফিন, দবিরউদ্দিন তুষার, আজিজ পাটোয়ারীসহ আরও ৪০ জনের মতো ছাত্রনেতা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির স্বদেশ খবরকে বলেন, ‘আমাদের আর কোনো ােভ নেই। রাজনৈতিকভাবে ভাইয়া (তারেক রহমান) আমাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি আমাদের ছাত্রদলের কাউন্সিলে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি যেভাবে চাইবেন সেভাবেই আমরা সহযোগিতা করব। তার নির্দেশ অরে অরে পালন করব, তাকে কথা দিয়েছি।’
ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, সন্তান ভুল করলে তাৎণিক শাসনও বাবা করেন, পরণে মাও করেন বাবা। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে ছাত্রদলের সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নানা কারণে ছাত্রদলে বিরোধ থাকলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে তা মিটে গেছে। কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতারা এখন কাক্সিক্ষত পদ-পদবি পাওয়ার লক্ষ্যে দেনদরবার নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। যদিও বলা হচ্ছে, দলে নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রামে দলের জন্য যাদের সক্রিয় অবদান রয়েছে তাদেরই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জায়গা হবে; সুবিধাভোগী অথচ রাজনৈতিক কর্মকা-ে নিষ্ক্রিয়দের এবার ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান হবে না।
এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের সাবেক নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু স্বদেশ খবর প্রতিবেদককে বলেন, কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে ছাত্রদলের পরবর্তী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। সেই লক্ষ্যে আগস্টের শেষ দিকে ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা নেয়া হবে।