প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালিত : বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

তারেক জোয়ারদার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস দেশে ও দেশের বাইরে যথাযোগ্য মর্যাদায় গত ১৫ আগস্ট পালিত হয়েছে। হৃদয়ে গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে এদিন স্মরণ করেছে গোটা জাতি। কর্মসূচিগুলোতে সর্বস্তরের মানুষ বিদেশে পালিয়ে থাকা বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি শোকাবহ ১৫ আগস্টের শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত স্বপ্ন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
রাজধানী ছাড়াও সারাদেশে এবং দেশের বাইরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলো বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী পালন করে।
জাতীয় শোক দিবস উপলে ১৫ আগস্ট দিনব্যাপী কোরআন তেলাওয়াত, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রচার, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, কালো ব্যাজ ধারণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, মিলাদ মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। ভোরে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দলের ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন ইউনিট কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।
জাতীয় শোক দিবস উপলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো জাতীয় শোক দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের ওপর বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচারের পাশাপাশি সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ প্রতিবেদন ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।
এছাড়া জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলে গত ১৬ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলে তার রক্তের ঋণ শোধ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।
আর প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পালিত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস। জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে ‘ফ্রেন্ড অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ বা ‘বিশ্ববন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বক্তারা।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ও বনানী কবরস্থানে
জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি
১৫ আগস্ট সূর্যোদয়ের সঙ্গে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোক দিবসের কর্মসূচি। সকাল সাড়ে ৬টায় ধানমন্ডিতে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুল দেয়ার পর সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়; বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। এরপর পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ১৫ আগস্টে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এর বাইরে দলের সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শেখ হাসিনা বনানী কবরস্থানে যান। সেখানে ১৫ আগস্টে নিহত তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের কবরে ফুল দিয়ে তাঁদের স্মরণ করেন তিনি।
ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন ১৪ দলের নেতারা। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সময় ঢাকা মহানগর উত্তর ও দণি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানায়।
সকাল ৬টার মধ্যেই অগুনতি মানুষের পদচারণে ভরে ওঠে ৩২ নম্বর সড়ক। হাতে কালো ব্যানার ও বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করে নারী-পুরুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিশু-কিশোরসহ সর্বস্তরের মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়ের প থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় প্রেসকাব, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা শহীদ পরিবার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির প থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, জাতীয় জাদুঘর, নজরুল ইনস্টিটিউট, শিশু একাডেমি, খেলাঘর, বাংলাদেশ বেতার, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, আনসার ও গ্রাম প্রতিরা বাহিনী, জাতীয় মহিলা সংস্থা, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, জাতীয় গীতিকবি পরিষদ, শেখ রাসেল শিশু সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা যান বনানী কবরস্থানে। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলও ছিলেন। সেখানে তাঁর পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে বনানী কবরস্থানে মোনাজাত ও মিলাদে অংশ নেন তাঁরা।

টুঙ্গিপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলে ১৫ আগস্ট সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কমপ্লেক্সের সামনে হেলিপ্যাডে হেলিকপ্টার থেকে নামেন। সকাল ১০টায় তিনি জাতির পিতার সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন। ১০টা ৬ মিনিটে সমাধিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিন বাহিনীর প থেকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বাজানো হয় বিউগলে করুণ সুর। কান্নাভেজা চোখে কিছু সময় পিতার সমাধির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের প থেকে জাতির পিতার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহাম্মদ ফারুক খান, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, শেখ হেলাল উদ্দীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও চিফ হুইপ নূরে আলম চৌধুরী লিটন পৃথকভাবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। জাতীয় শোক দিবসে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্সের মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মাহফিল। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে এবং মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মসজিদ প্রাঙ্গণে বসে মাহফিলে অংশ নেয়।
প্রতি বছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষ দূর-দূরান্ত থেকে এই দিনে জাতির জনকের সমাধিতে এসে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। গোপালগঞ্জের আশপাশের জেলা খুলনা, যশোর, সাতীরা, নড়াইল, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, বাগেরহাট, পিরোজপুর, বরিশাল, রাজবাড়ী, মংলা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার বঙ্গবন্ধুপ্রেমিক ও আওয়ামী লীগ নেতারা টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের সমাধিতে মিলিত হন এবং শ্রদ্ধা জানান। সকাল ১১টা ২০ মিনিটে টুঙ্গিপাড়া থেকে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মিলাদ
মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলে ১৫ আগস্ট বিকেলে মহিলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকা-ে নিহত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী ও অন্যান্য শহীদের আত্মার শান্তি কামনায় মহিলা আওয়ামী লীগ রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বাদ আসর এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন ও পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন মিলাদে তাঁর সঙ্গে যোগ দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, সাহারা খাতুন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা, মহিলা আওয়ামী লীগ এবং যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা ও ১৫ আগস্টের অন্যান্য শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেও দোয়া করা হয়।

বঙ্গভবনে দোয়া মাহফিল
জাতীয় শোক দিবস উপলে ১৫ আগস্ট বিকেলে বঙ্গভবনের দোয়া মাহফিলে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন। দিনটিতে দেশের সব মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে হয় বিশেষ প্রার্থনা।
বঙ্গভবনে মিলাদ শেষে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট একাত্তরের পরাজিত শক্তির দোসর ও সেনাবাহিনীর কতিপয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মকর্তা ও সৈনিকের হাতে নৃশংসভাবে নিহত বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়। এছাড়া এদিনে বিভিন্ন এতিমখানা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দুস্থদের মাঝে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়।
রাষ্ট্রপতির পরিবারের সদস্যসহ বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মিলাদে অংশ নেন। বঙ্গভবন মসজিদের পেশ ইমাম সাইফুল কাবীর মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এর আগে দরবার হলে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের তৈরি প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়।

জাতীয় শোক দিবস উপলে দরবার হলে আলোচনা অনুষ্ঠানও হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব সম্পদ বড়–য়া, প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী ইফতেখারুল আলম বঙ্গবন্ধুর জীবনের ওপর আলোচনা করেন।

সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত
বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফিরাত কামনা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে কোরানখানি, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। মোনাজাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে শাহাদতবরণকারী পরিবারের সব সদস্যের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করা হয়। এছাড়া দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণও কামনা করা হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকীতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বাদ জোহর দেশের সব মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়।
তাছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়েছে দেশের প্রতিটি গির্জায়। রাজধানীতে প্রধান প্রার্থনা সভা হয়েছে বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে। এতে পৌরহিত্য করেন তেজগাঁও ধর্মপল্লীর পালপুরোহিত ফাদার কমল কোড়াইয়া। এর আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ট্রাস্টের সচিব নির্মল রোজারিও। প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি জেমস সুব্রত হাজরা, মুক্তিযোদ্ধা জোনাস গমেজ, পংকজ গিলবার্ট কস্তা, থিউফিল রোজারিও, ডানিয়েল সিকদার, জন অরুনেশ বাড়ৈ, নিখিল মানখিন, ভিক্টর রেসহ বিপুল সংখ্যক খ্রিস্টভক্ত।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠান ছাড়াও পূজা উদযাপন পরিষদ, ঢাকেশ্বরী মন্দির কমিটি ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ যৌথ উদ্যোগে প্রার্থনাসভা আয়োজন করে, প্রার্থনাসভায় বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশ নেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু এবং নিহত পরিবারের সবার আত্মার শান্তিসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়। মহানগর পূজা উদযাপনের সভাপতি শৈলেন মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রার্থনাসভায় উপস্থিত ছিলেন অসীম কুমার উকিল, মিলন কান্তি দত্ত, নির্মল চ্যাটার্জী, সুজিত রায় নন্দী, তাপস পাল ও দীপালী চক্রবর্তী প্রমুখ।