ফিচার

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ লণ প্রতিকার ও চিকিৎসা

ডা. মো. সাইফুল ইসলাম
ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে ৪ ধরনের ভাইরাসজনিত ট্রপিক্যাল রোগ। এটি সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশকী দ্বারা ছড়ায়।
ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত জ্বর। এডিস মশকী এই ভাইরাস বহন করে। আমাদের দেশে বর্ষাকাল থেকে অর্থাৎ জুন-জুলাই মাসে এই রোগের বিস্তার বেশি হয়। তবে এ বছর এ রোগের বিস্তার সারাদেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে এবং আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এর ব্যাপকতা থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সারা বিশ্বে বছরে ৪০০ মিলিয়নের মতো লোক এ রোগে আক্রান্ত হয়। এখন পর্যন্ত এ রোগের কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি। তাই প্রতিরোধই উত্তম ব্যবস্থা।

ডেঙ্গু জ্বরের কারণ
ডেঙ্গু জ্বর হচ্ছে চার ধরনের ভাইরাসজনিত ট্রপিক্যাল রোগ। এটি সাধারণত ডেঙ্গু ভাইরাস আক্রান্ত এডিস মশকী দ্বারা ছড়ায়।

রোগের লণ
একজন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির সাধারণত উচ্চ জ্বর হয়, অর্থাৎ তাপমাত্রা ১০৪-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারচেয়ে বেশি হবে। সাথে নিচের লণগুলোর অন্তত দুটি প্রকাশ পাবে।
ক্স তীব্র মাথাব্যথা।
ক্স চোখের পেছনের দিকে তীব্র ব্যথা।
ক্স জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা।
ক্স মাংসপেশী অথবা হাড়ে ব্যথা (এজন্য এ জ্বরের অন্য নাম: হাড়ভাঙা জ্বর)।
ক্স হামের মতো র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা যায়।
ক্স নাক, দাঁতের মাড়ি থেকে অল্প রক্তপাত হতে পারে।
ক্স রক্তে শ্বেতকণিকার পরিমাণ কমে যাবে।
লণগুলো রোগীর বয়স অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। ছোট শিশু ও প্রথমবার আক্রান্তদের থেকে বয়স্ক, শিশু ও দ্বিতীয়বার আক্রান্তদের মাঝে রোগের তীব্রতা বেশি হয়।

জটিলতা
সাধারণত ৩-৭ দিনের মধ্যেই শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকে। তবে যদি নিম্নোক্ত লণগুলো দেখা যায় দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।
ক্স তীব্র পেট ব্যথা ও ক্রমাগত বমি।
ক্স ত্বকে লাল দাগ।
ক্স নাক ও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়লে।
ক্স বমির সাথে রক্ত আসলে।
ক্স কালো বা আলকাতরার মতো পায়খানা হলে।
ক্স ত্বক ফ্যাকাশে, ঠা-া ও স্যাঁতসেতে হলে।
ক্স শ্বাসকষ্ট হলে।

প্রতিরোধ
এ রোগের কোনো টিকা নেই। তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। এজন্য –
ক্স জমে থাকা খোলা পাত্রের পানিতে মশকী ডিম পাড়ে। পোষা প্রাণির খাবার পাত্র, পানির পাত্র, ফুল গাছের টব, নারকেলের মালা ইত্যাদিতে পানি জমে থাকতে পারে। সেগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।
ক্স দিন ও রাতে আলোতেও এরা কামড়ায়। তাই দিনের বেলাতেও মশারি ব্যবহার করতে হবে।
ক্স আক্রান্ত ব্যক্তিকে যাতে মশা কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে।

চিকিৎসা
এই রোগের কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তাই রোগ লণ বিবেচনায় নিয়ে এ রোগের চিকিৎসা দেয়া হয়।
ক্স রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
ক্স প্রচুর পানি পান করতে দিতে হবে।
ক্স স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে কাপড় ভিজিয়ে শরীর বারবার মুছে দিতে হবে।
ক্স প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাওয়ানো যাবে।
ক্স ডাক্তারের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধ দিন।
ক্স রোগীকে অ্যাসপিরিন বা এজাতীয় ওষুধ দেবেন না।
ডেঙ্গু জ্বরে ভীত বা আতঙ্কিত না হয়ে যথাসময়ে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
সূত্র: সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল
এন্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)