প্রতিবেদন

ফিরতি হজ ফাইটও নির্বিঘ্ন হওয়ার আশা সরকার সংশ্লিষ্টদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র হজ পালন শেষে হাজিরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। গত ১৭ আগস্ট হাজিদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম ফিরতি হজ ফাইট। ওইদিন সৌদি এয়ারলাইন্সের (এসবি ৮০৮) ফাইটটি ৩৩৫ হজযাত্রী নিয়ে শাহজালালের মাটি স্পর্শ করে। এছাড়া সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রথম ফিরতি হজ ফাইট (বিজি ৩৫০২) একই দিন (১৭ আগস্ট) জেদ্দা বিমানবন্দর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব হাজিকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
উল্লেখ্য, এবার হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পাঠানোর কাজটি নির্বিঘেœ সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছিল সরকার। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপের কারণেই হাজিদের হজযাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। একইভাবে পবিত্র হজ পালন শেষে হাজিদের দেশে ফিরিয়ে আনার সরকারের উদ্যোগটিও শতভাগ সফল হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের নির্দেশনায় এবার সুষ্ঠু ও সফলভাবে হজ-ফাইট পরিচালনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপ। বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোও ফাইট পরিচালনায় যুক্ত হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে হাজিদের দেখভাল করছে।
স্মরণ করা যেতে পারে, এবার গত ৪ জুলাই থেকে চলতি মৌসুমের প্রথম হজ-ফাইট শুরু হয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি-৩০০১) একটি ফাইট ওইদিন ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ছেড়ে যায়।
উদ্বোধনী হজ ফাইটের আগে বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ হজযাত্রীদের বিদায় জানান।
প্রথমবারের মতো এ বছর কিছু ফাইটের জেদ্দা বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম ঢাকাতেই সম্পন্ন করা হয়েছে। বিমানের ডেডিকেটেড হজ ফাইটের চেক-ইন, ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা আশকোনা হজক্যাম্পে হওয়ায় হজযাত্রীদের সময় বেঁচেছে। এতে জেদ্দা বিমানবন্দরে হাজিদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার কষ্টও লাঘব হয়েছে।
এর আগে গত ২ জুলাই রাজধানীর আশকোনায় হজ কার্যক্রম ২০১৯ উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হাজিদের শুভেচ্ছা জানান এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘এখন থেকে কোনো ব্যক্তি বা এজেন্সি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণার কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার কঠোর হতে পিছপা হবে না।’
রাষ্ট্রপতি আরো বলেছিলেন, আমাদের দেশে হজ ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর ভূমিকা বিশাল। কারণ হজযাত্রীদের ৯৫ শতাংশের বেশি হজ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সৌদি আরবে গমন করেন। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, অনেক এজেন্সি যেসব সুযোগ-সুবিধার কথা বলে হাজিদের নিয়ে যান, ওখানে যাওয়ার পর তা আর রা করেন না। ফলে হাজিদের অবর্ণনীয় দুর্দশার মধ্যে পড়তে হয়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, হজযাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে অসাধু চক্র সটকে পড়ে। সব কিছু পরিশোধ করেও হজযাত্রীরা যখন তাদের হজযাত্রায় অনিশ্চয়তা দেখেন তখন তারা বাধ্য হয়েই অনশনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। শেষ সময়ে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হয় সেসব হজযাত্রীকে হজে পাঠানোর। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করে। হাজিদের সঙ্গে এ ধরনের প্রতারণা মোটেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রপতির হুঁশিয়ারি এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কড়া নজরদারিতে এবার হজ সংক্রান্ত বিষয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো প্রতারণার খবর পাওয়া যায়নি। বেসরকারি এজেন্সিগুলো সতর্কতার সাথে হজযাত্রীদের সৌদি আরব পাঠানোসহ হজ পালনে সহযোগিতা করেছে।
বিমানবন্দর হজ কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া দায়িত্বশীল সূত্র স্বদেশ খবরকে জানায়, ১৭ আগস্ট সৌদি এয়ারলাইন্সের ফাইট অবতরণের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই হাজিরা ইমিগ্রেশন ও লাগেজ সংগ্রহ শেষে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। ফিরতি হজ ফাইট চলবে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
উল্লেখ্য, এবার ১০ আগস্ট পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ হজযাত্রী পবিত্র হজ পালন করেন। হজ ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ সর্বমোট হজযাত্রী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন এবং এ বছর মোট ৭৭ জন হজযাত্রী ও হাজি মৃত্যুবরণ করেন। তাদের মধ্যে পুুরুষ ৬৮ জন ও নারী ৯ জন। এর মধ্যে মক্কায় ৬৯ জন, মদিনায় ৭ জন ও জেদ্দায় ১ জন মারা যান।

একনজরে চলতি বছরের
হজ ফাইট ব্যবস্থাপনা
জানা যায়, হজযাত্রীদের সৌদি আরবে পৌঁছে দিতে এবার বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফাইট গত ৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে। বিমান ১৫৭টি ডেডিকেটেড ও ৩২টি নিয়মিত ফাইটে ৬৩,৫৯৯ জন হজযাত্রী পরিবহন করেছে। আর ৮৬টি ডেডিকেটেড ও ২৯টি শিডিউল ফাইটে বিমান সৌদি থেকে হজযাত্রীদের দেশে আনছে। সৌদি এরাবিয়ান এয়ারলাইন্স সবগুলো ডেডিকেটেড ফাইটের মাধ্যমে বাকি হজযাত্রী পরিবহন করছে। এ বছরই প্রথম ঢাকা থেকে মদিনায় ১১টি হজ ফাইট পরিচালনা করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দায় ১০টি, সিলেট থেকে জেদ্দায় ৩টি, চট্টগ্রাম থেকে মদিনায় ৭টি ডেডিকেটেড হজ ফাইট পরিচালনা করা হয়। বাকি ১২৬টি ফাইট ঢাকা থেকে জেদ্দা নিয়ে যায় হজযাত্রীদের।