প্রতিবেদন

বেসরকারি ৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ ইউজিসির

নিজস্ব প্রতিবেদক
অবৈধভাবে ক্যাম্পাস চালানোসহ নানা অভিযোগে দেশের ৩০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। গত ৮ আগস্ট এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ‘ভর্তিচ্ছু শিার্থীদের জন্য কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা’ শিরোনামে প্রকাশ করা গণবিজ্ঞপ্তিতে শিার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করা হয়েছে। ভর্তি মৌসুম সামনে রেখে এ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ইউজিসি।
ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ১০৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে। তার মধ্যে সম্প্রতি অনুমোদনপ্রাপ্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিা কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কেউ অনুমোদনহীন কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অননুমোদিত ক্যাম্পাসে অথবা অননুমোদিত কোনো প্রোগ্রাম বা কোর্সে ভর্তি হলে তার দায়-দায়িত্ব শিা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি নেবে না।’
উল্লেখ্য, চিহ্নিত এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ক্যাম্পাস চালানোর অভিযোগ আছে। কোনোটির বিরুদ্ধে আছে অননুমোদিত প্রোগ্রাম চালানোর অভিযোগ। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে সার্টিফিকেট বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ। কয়েকটিতে আছে শিার্থী ভর্তিতে নিষেধাজ্ঞা। এছাড়া ইতঃপূর্বে কয়েকটি বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার, কিন্তু আদালতের আদেশে ফিরে এসেছে। তবে এখনও শিা কার্যক্রম চালুর অনুমতি পায়নি। মালিকানা দ্বন্দ্বের অভিযোগসহ বন্ধের সুপারিশপ্রাপ্তও আছে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
জানা গেছে, গণবিজ্ঞপ্তিতে ভিসি, প্রোভিসি ও কোষাধ্য না থাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে। কেননা বাংলাদেশে এখনও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা বৈধ নয়। সনদে স্বারের দায়িত্ব ভিসির। তাই যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই সেগুলোতে সনদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৫টির কার্যক্রম চালু আছে। এর মধ্যে ৩০টির ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত ক্যাম্পাস চালাচ্ছে। এগুলো হচ্ছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, মানিকগঞ্জের এপিআই ইউনিভার্সিটি, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি। এছাড়া শরীয়তপুরের জেডএইচ সিকদার বিশ্ববিদ্যালয় ও সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয় অননুমোদিত প্রোগ্রাম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউজিসি।
সূত্র জানায়, ইবাইস ইউনিভার্সিটিতে আছে মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব। বর্তমানে এটি ঠিকানাবিহীন। ইবাইস ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টি নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। বোর্ড অব ট্রাস্টি দুই ভাগে বিভক্ত।
দ্বন্দ্ব নিরসন তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নেয়া পদেেপর বিষয়েও একটি গ্রুপ আদালতে মামলা দায়ের করে উক্ত কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ইউজিসি বলছে, ধানমন্ডি ও উত্তরায় দুটি ক্যাম্পাস থাকলেও বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত কোনো ঠিকানা নেই।
মালিকানা দ্বন্দ্ব এবং আদালতে মামলা আছে আরো ৪টিতে। এগুলো হলো সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রিটানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। নানা অভিযোগে ২০০৬ সালে সরকার ৬টি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়। পরে উচ্চ আদালতের রায় পে গেলে সেই আলোকে চলছে আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি এবং দি ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা। ওই বছর কুইন্স নামে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ করা হয়েছিল। মামলার রায় নিয়ে এটিও পরিচালনার অনুমতি পায়। কিন্তু শর্ত অনুযায়ী ১ বছরের মধ্যে এটির কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বলে ইউজিসি সূত্র জানায়।
ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ‘বিএসসি ইন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং জেড এইচ সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘এম এ ইন ইংলিশ’ প্রোগ্রাম পরিচালনা করছে।
এদিকে নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিা কার্যক্রমই শুরু হয়নি। এগুলো হচ্ছে ঢাকার সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়, নারায়ণগঞ্জের রূপায়ন একেএম শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়, জেডএনআরএফ ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট সায়েন্সেস, রাজশাহীর আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহীর শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি, খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশালের ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিভার্সিটি।