কলাম

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সারা বছর মশানিধন ও সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে হবে

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব এ বছর আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝেই কমবেশি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, যদিও ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বারবার প্রশাসন, দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এবং বেসরকারি হাসপাতালে সরকারনির্ধারিত মূল্যে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা যাচ্ছে। যারা সরকারি নির্দেশ অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মশা প্রতিরোধক সামগ্রীর মূল্য বেশি রাখায় কয়েকটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিটি করপোরেশন সংশ্লিষ্টদের ঈদের ছুটি বাতিল করেছে।
ডেঙ্গুর ভরা প্রজনন মৌসুমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলো ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো ডেঙ্গু মশার বাহক এডিস মশা নির্মূলে বছরব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করলে পরিস্থিতির হয়তো এতটা অবনতি হতো না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজনন হয় পরিষ্কার বদ্ধ পানিতে আর এর আশ্রয়স্থল খাটের তলা, পর্দার পেছনের মতো ঘরের অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে। তাই এডিস মশা দমনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি, অফিস-আদালত প্রাঙ্গনে এডিস মশার প্রজনন স্থান থাকলে সেটা ধ্বংস করে দিতে হবে। বাসাবাড়ি ও অফিসের ভেতরে ও আশপাশের আঙ্গিনায় যাতে ৩ দিনের বেশি পানি জমা না থাকে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। বাসা ও অফিস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ করে দিতে হবে। ডাবের খোসা, গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার, টব, ফুলদানি Ñ এসবে যাতে ৩ দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
তাই ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি এডিস মশা দমনে সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে বছরব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। এবার যেমন দেখা গেছে এডিস মশা বিস্তার লাভের পর তড়িঘড়ি করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে এই ওষুধ দিয়ে এডিস মশা নির্মূল করা যায় না। সিটি করপোরেশনের মজুদে যে ওষুধ আছে সেটা সাধারণ কিউলিক্স মশা মারার উপযোগী। পরে আবার নতুন করে মশা মারার ওষুধ আমদানি করা হয়েছে এবং সেটার পরীক্ষামূলক ব্যবহারও শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, এডিস মশার প্রজনন মৌসুমকে সামনে রেখে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যদি বছরের শুরু থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি এবং মশক নিধনকর্মী ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কার্যক্রম মনিটরিং করতো, তবে পরিস্থিতির এতটা অবনতি হতো না।