প্রতিবেদন

যে কারণে পেছাতে পারে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিগত এক দশক ধরে নির্ধারিত সময়েই জাতীয় সম্মেলন করে আসছে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তাই আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। দেশে চলমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হওয়ায় নির্ধারিত সময় অর্থাৎ অক্টোবরে দলটির ত্রি-বার্ষিক ২১তম সম্মেলন অনুষ্ঠানে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতা স্বদেশ খবরকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সম্মেলন আয়োজন সম্ভব না-ও হতে পারে। সেেেত্র দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে সম্মেলনের দিনণ কিছুটা পিছিয়ে নতুন সময় চূড়ান্ত করা হতে পারে।
গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই সম্মেলন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজও শুরু হয়। কিন্তু পরে সেগুলো আর এগোয়নি। সারাদেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তিকে ব্যবহার করা হয়েছে ভয়াবহ ডেঙ্গু ও বন্যা মোকাবিলায়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ার জন্য সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি নিউইয়র্ক যাবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পর ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সে কারণে অতি অল্প সময়ে সম্মেলন আয়োজন সম্ভব না-ও হতে পারে বলে মনে করছেন দলটির দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক নেতা।
দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এখন পুরো সরকার এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দম ফেলার সময় নেই। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু মোকাবিলায় ব্যস্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা। এছাড়া পুরো আগস্ট মাসজুড়ে রয়েছে শোকের কর্মসূচি। তাই থমকে আছে সম্মেলনের প্রস্তুতিকাজ। তবে সুবিধামতো সময়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে ২১তম সম্মেলনের দিনণ চূড়ান্ত করতে পারেন দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত এক দশক ধরে নির্ধারিত সময়েই সম্মেলন করে আসছে আওয়ামী লীগ। দলটির সর্বশেষ কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর। সে হিসাবে আগামী অক্টোবরের ২৩ তারিখে শেষ হচ্ছে ৩ বছরের জন্য গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ। অবশ্য দলটির গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে, অনিবার্য কারণবশত যদি নির্ধারিত সময়ে সম্মেলন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয় তবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে বর্তমান কমিটির মেয়াদ কিছুটা বৃদ্ধি করে নতুন সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করতে পারবে।
সূত্র বলছে, সম্মেলনের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে সাংগঠনিক সফরের জন্য দলের ৮টি শক্তিশালী টিম গঠন করা হয়। দু-একটি জেলায় সফরেও যান নেতারা। কিন্তু রমজান মাসে সফর বন্ধ হয়ে যায়, যা এখনও বন্ধ রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি সম্মেলনের আগে তৃণমূল তথা ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা পর্যায়ের সম্মেলন শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়। এবার হাতেগোনা দু-একটি উপজেলা ছাড়া এখনও কোথাও সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী সংগঠনগুলোরও সম্মেলন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ তিন সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন শ্রমিক লীগের মধ্যেও কারো সম্মেলনের কোনো প্রস্তুতি নেই। এছাড়া গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র প্রতি সম্মেলনের আগে হালনাগাদ করা হয়। এবার এখনও এ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা বা উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর বাইরে সম্মেলনের আবশ্যিক প্রস্তুতি কাউন্সিলর তালিকা তৈরি, মঞ্চ সাজানো, বিভিন্ন প্রকাশনা বের করার কাজ তো থাকছেই।
তবে বাস্তব অবস্থা হচ্ছে, ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম আপাতত শিথিল। এদিকে সম্মেলন করার আগে জরুরি বিষয় হলো সদস্য সংগ্রহ অভিযান। এতে নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং পুরনো সদস্যদের সদস্যপদ নবায়ন করা হয়। এখন পর্যন্ত দেশের কোথাও সেভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়নি। সব মিলিয়ে অক্টোবরে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা কেউই এ বিষয়ে কথা বলছেন না। সম্মেলনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা দুজন যুগ্ম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এ প্রসঙ্গে বলেন, ডেঙ্গু ও বন্যা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বর্তমানে দলের সকল সাংগঠনিক কর্মকা- বন্ধ। ডেঙ্গু পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে, সেটিও দেখার বিষয়। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করলে অক্টোবরে সম্মেলন অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা খুবই কম। সেেেত্র সম্মেলন অক্টোবর থেকে সামান্য পিছিয়ে নভেম্বরে নেয়া হতে পারে। তবে সম্মেলন পেছানোর বিষয়ে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও বন্যা মোকাবিলায় আমরা (আওয়ামী লীগ) খুবই ব্যস্ত। তাই দলের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে বর্তমানে কাজ করতে পারছি না। তবে দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের পে যেকোনো সময়ে একটি সম্মেলন আয়োজন করা সম্ভব। সেই সক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে।