প্রতিবেদন

শিগগিরই উদ্বোধন হচ্ছে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম

বিশেষ প্রতিবেদক
আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে অনেক আগেই ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) তৈরির পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু নানা জটিলতায় ই-পাসপোর্ট বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে তা নিয়ে জটিলতার অবসান ঘটছে। নির্ধারিত হয়েছে পাসপোর্ট ফি-ও। সর্বনিম্ন ৩ হাজার ৫০০ (ভ্যাট ছাড়া) এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনের েেত্র কোনো সত্যায়নের প্রয়োজন হবে না। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরা সেবা বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছে।
জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী জার্মান প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের সঙ্গে ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে বিরোধেরও সুরাহা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনাক্রমে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এ বিষয়ে স্বদেশ খবরকে বলেন, আমাদের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সময় দিলেই ই-পাসপোর্ট তৈরি ও বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক এ সংক্রান্ত এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, ইলেকট্রনিক পাসপোর্টে কাগজপত্রের কোনো সত্যায়নের দরকার হবে না। কোনো ভ্যাট ছাড়াই ই-পাসপোর্টের সর্বোচ্চ ফি ধরা হয়েছে ১২ হাজার টাকা আর সর্বনিম্ন সাড়ে ৩ হাজার টাকা। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ১০০ ডলার ধরা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে শ্রমিক ও শিার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ফি ২২৫ ডলার এবং সর্বনিম্ন ফি ৩০ ডলার ধরা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়, সব েেত্র ই-পাসপোর্ট ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠার হবে। সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি – তিন ক্যাটাগরির ই-পাসপোর্টের ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাগজপত্র সত্যায়নের ঘর উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫ হাজার ৫০০ টাকা ও অতি জরুরি ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৭ হাজার টাকা ও অতি জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা। এছাড়া বাংলাদেশে আবেদনকারীদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫ হাজার ৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা, অতি জরুরি ফি ১০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৭ হাজার টাকা, জরুরি ফি ৯ হাজার টাকা ও অতি জরুরি ফি ১২ হাজার টাকা।
ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র অনলাইনেই পূরণ করা যাবে। এছাড়া পিডিএফ ফরম্যাট ডাউনলোড করে যেকোনো কম্পিউটারে ফরম পূরণ করা যাবে। ই-পাসপোর্টের আবেদনের েেত্র কোনো কাগজপত্র সত্যায়ন করার প্রয়োজন হবে না। এছাড়া কোনো ছবি সংযোজন এবং তা সত্যায়ন করার দরকার হবে না। ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী যার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তার পিতা ও মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, ই-পাসপোর্টে কারো আবেদন ১৮ বছরের নিচে হলে জন্মনিবন্ধন সনদ, ১৮ বছর হলে জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ এবং ১৮ বছরের বেশি হলে জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই লাগবে। তবে ১৮ বছরের নিচে সব আবেদনকারীর ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ বছর।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার উইং বা প্রযোজ্য েেত্র বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (ডিআইপি) প্রধান কার্যালয় বরাবর আবেদন করতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে অতি জরুরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর েেত্র সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। জরুরি পাসপোর্ট রি-ইস্যুর েেত্র সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। রেগুলার পাসপোর্ট রি-ইস্যুর েেত্র সর্বোচ্চ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেয়া হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট রি-ইস্যুর েেত্র কোনো অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন বা ছবি পরিবর্তনের প্রয়োজন না হলে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিতির দরকার নেই।

ই-পাসপোর্ট কী?
ই-পাসপোর্ট নামে পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট বর্তমানে আমাদের দেশে প্রচলিত মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের মতোই। তবে এতে স্মাার্ট কার্ড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যাতে মাইক্রোপ্রসেসর চিপ এবং অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এ পাসপোর্টের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাসপোর্টের ডেটা পেইজ এবং চিপে সংরতি থাকে। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) ডক ৯৩০৩-এ এই ডকুমেন্ট ও চিপ সংক্রান্ত তথ্য জমা রাখা হয়। তবে বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট ব্যবস্থা চালু আছে এমন ৬০টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৫টি দেশ এ সংস্থার পাবলিক কি ডিরেক্টরি (পিকেডি)-এর অংশ।
এ ধরনের আইডেন্টিফিকেশন ব্যবস্থায় বর্তমানে ফেসিয়াল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস রিকগনিশন বায়োমেট্রিকস ব্যবহার করা হয়। এেেত্র আইসিএও পাসপোর্টে ব্যবহার্য বায়োমেট্রিক ফাইল ফরম্যাট এবং যোগাযোগ প্রটোকল নির্ধারণ করে দেয়। ডিজিটাল ছবি চিপে শুধু ডিজিটাল ছবিই সংরতি রাখা হয়, যা সাধারণত জেপিইজি বা জেপিইজি ২০০০ ফরম্যাটের হয়ে থাকে। পাসপোর্ট চিপের বাইরে ইলেকট্রনিক বর্ডার কনট্রোল সিস্টেমের মাধ্যমে এই বায়োমেট্রিক ফিচারগুলোর মধ্যে তুলনা করা হয়।
কনটাক্টবিহীন চিপে ডেটা সুরতি রাখতে এতে কমপে ৩২ কিলোবাইট ইইপিআরওএম, সংেেপ ইইপ্রম (ঊঊচজঙগ) স্টোরেজ মেমোরি থাকে এবং তা আইএসও/আআইইসি ১৪৪৪৩ আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডসহ আরও কিছু স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী একটি ইন্টারফেইসে পরিচালিত হয়। তবে বিভিন্ন দেশ এবং প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানভেদে এই স্ট্যান্ডার্ড ভিন্ন হয়ে থাকে। ইইপ্রম মানে হচ্ছে ইলেকট্রিক্যালি ইরেজেবল প্রোগ্রামেবল রিড-অনলি মেমোরি। এটি একটি বিশেষ ধরনের মেমোরি, যা কম্পিউটার ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যগুলোয় ব্যবহার করা হয়। এতে জায়গা অপোকৃত কম থাকলেও এর প্রতিটি বাইট আলাদাভাবে মুছে ফেলা বা পুনরায় প্রোগ্রাম করা যায়। এর ফলে পাসপোর্টের তথ্য আপডেট করতে কোনো সমস্যা হবে না।