প্রতিবেদন

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম : মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতো এবারও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীতে আলোচনা অনুষ্ঠান ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকীতে বক্তাদের আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনের নানা দিক, স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধুর আত্মত্যাগ, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের প্রতি ধিক্কার ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা স্মৃতিচারণ উঠে আসে।
২৬ আগস্ট রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০১৯ উপলে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি।
গৃহায়ন কর্তৃপরে চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আখতার হোসেন, রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা যেন কোনোভাবে বাংলাদেশ প্রশ্রয় না পায় সেজন্য সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে যার যার রাজনৈতিক মতাদর্শ যা-ই হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় স্বাধীন সত্তা নিয়ে জেগে ওঠা একটি রাষ্ট্রকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবধারায় ফিরিয়ে আনার জন্য সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশকে হত্যা করতে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত টানা ১৫ বছর রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তিকে রাষ্ট্রমতায় নিয়ে আসতে সম হয়েছিলেন।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, ইতিহাস কাউকে মা করে না। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত জিয়াউর রহমানও অনাকাক্সিক্ষত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছিলেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রশ্নে সবার একটা জায়গায় এক হওয়া দরকার। রাষ্ট্রের মতায় থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তি, রাষ্ট্রের বিরোধী দলেও থাকবে মুক্তিযুদ্ধের পরে শক্তি। আমরা চাই স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা যেন কোনোভাবে বাংলাদেশে প্রশ্রয় না পায়। আমরা সবাই মিলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করব। আমরা চাই বাংলাদেশ শান্তি, সৌহার্দ্যরে, সহাবস্থানের একটা রাষ্ট্র হিসেবে থাকুক। এখানে অপরাধ হবে না, কেউ অপরাধ করলে অপরাধীর বিচার হবে। কোনো অপরাধীকে দায়মুক্তি দেয়া হবে না, প্রটেকশন দেয়া হবে না। মন্ত্রী বলেন, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট একইসূত্রে গ্রোথিত।
মন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বের অনেক বড় রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু হত্যার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের স্বাধীন সত্তার অভ্যুদয় অনেকে মেনে নিতে পারেনি। তাই ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত অনেক বড় বড় রাষ্ট্র এ ভূখ-ের স্বাধীনতাকে গ্রহণ করেনি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর অনেক কিছু বদলে গেল। বাংলাদেশ বেতার হয়ে গেল রেডিও বাংলাদেশ, বিমানবন্দরে লেখা স্বাগতম হয়ে গেল আহলান ওয়া সাহলান। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জিয়া- মোশতাক গং বাংলাদেশকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র বানাতে চেয়েছিল।
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে দুই দুইবার কুখ্যাত ইনডেমনিটি (দায়মুক্তি) অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষা করার জন্য এর একটি জারি করেছিল জিয়া এবং অপারেশন কিনহার্ট পরিচালনাকারীদের রক্ষার জন্য আরেকটি ইনডেমনিটি জারি করেছিল খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত দুইটি ইনডেমনিটিই বাতিল করে দেয়ায় বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয় এবং অপারেশন কিনহার্টের মতো অপারেশন আর ফিরে আসেনি।
আলোচনা অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, বঙ্গবন্ধু জন্ম না নিলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। দেশের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা। বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টি ছিল প্রখর, কোনো অবস্থাতেই তিনি লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি। দেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে বিচ্যুত হলে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না।
রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্য ভালোবাসা ও মুক্তিযুদ্ধের দায় শোধ করার জন্য দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজ করে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের জ্ঞানগর্ভ আলোচনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। চেয়ারম্যান উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারবর্গের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত এবং তাবারক বিতরণ করা হয়।