প্রতিবেদন

বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বিমানের সুনাম বাড়াতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের নির্দেশ দিলেন শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিবেদক
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের তৃতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ‘গাংচিল’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ২২ আগস্ট বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এই উড়োজাহাজ উদ্বোধন করেন তিনি। রাজধানী ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
‘গাংচিল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাত্রীসেবার মান উন্নত করার মাধ্যমে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সুনাম বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিমানের সুনাম অক্ষুণœ রাখা, যাত্রীসেবার মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করা এবং বিমানবহরে যুক্ত হওয়া আধুনিক উড়োজাহাজগুলোর যথাযথ উপায়ে সংরণ করা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দায়িত্ব। এটা নিজস্ব সম্পদ, সে কথা মনে রেখে আন্তরিকতার সাথে আপনাদের কাজ করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগের দুটির মতো তৃতীয় ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটির নামকরণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই করেন। উদ্বোধনের পর বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘গাংচিল’ প্রথম ফাইটে দুবাই যায়। ‘আকাশবীণা’ নামে প্রথম বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি গত বছরের আগস্টে দেশে আসে। ‘হংসবলাকা’ নামে দ্বিতীয় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি আসে গত বছরের ডিসেম্বরে।
‘গাংচিল’ উদ্বোধন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ এই বিমান উদ্বোধনে এসেছি এই কারণে যে, আমার কেবলই মনে হয় একটু ভালো কাজ, যে কাজে আমার দেশের মানুষের কল্যাণ হবে, মানুষের মঙ্গল হবে, মানুষ স্বস্তি পাবে, সেই কাজটুকু করলে আমার বাবা-মায়ের আত্মা শান্তি পাবে এবং নিশ্চয়ই তারা খুশি হবেন। জাতির পিতা বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্যই আজীবন কষ্ট স্বীকার করে গেছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যেন একটু সম্মান নিয়ে চলতে পারে, বাঙালি জাতি যেন একটি সম্মানিত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে সেটাই ছিল জাতির পিতার একমাত্র ল্য।
১৯৯৬ সালে প্রথম সরকার গঠনের সময়ই সিলেট ও চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ নির্মাণসহ আধুনিকায়নের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এখন কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৈরি করছে, যেটি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যের পথে পড়ায় সেসব গন্তব্যের মধ্যে চলাচলকারী বিমানগুলো এখান থেকে রিফুয়েলিংয়ের সুযোগ পাবে এবং পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বালুময় সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের সৌন্দর্যও পর্যটকরা আরো বেশি করে উপভোগ করতে পারবে।
পর্যায়ক্রমে বিশ্বের অধিকাংশ গন্তব্যে যাত্রার জন্য বিমানের ফাইট চালু করা সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধাপে ধাপে বিশ্বের অন্যান্য দেশে বিমান যেন যেতে পারে তার ব্যবস্থা আমরা করছি। বাইরে থেকে টাকা ধার না করে বিমান কেনার জন্য স্বাবলম্বী হওয়ার প্রতিও প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমান স্বাধীনতার প্রতীক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ বিমানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে চিনবে, জানবে, সম্মান করতে পারবে। উড়োজাহাজগুলোর যথাযথ সংরণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আজকের উদ্বোধন করা ‘গাঙচিল’কে নিয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তিকৃত ১০টি বিমান ক্রয়ের মধ্যে ৯ নম্বর বিমানটি বহরে যুক্ত হলো। আর একটা এলেই ১০টি পূর্ণ হবে।
প্রসঙ্গত, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ২০০৮ সালে মার্কিন বিমাননির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ইউএস ডলারের একটি চুক্তি করে। এরই মধ্যে বহরে যুক্ত হয়েছে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, দুটি ৭৩৭-৮০০ এবং তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ।
এয়ারক্রাফটের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরবর্তীতে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে আমরা আরও বিমান ক্রয় করব। তবে এর মাঝে আমি আরও চাচ্ছি দুটো কার্গো বিমান আমাদের নেয়ার জন্য; যাতে আমাদের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যেই দুটি কার্গো বিমান কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু তার সাড়ে ৩ বছরের শাসনামলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রতিষ্ঠান এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার সময়ই রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত বিমান সংস্থা গড়ে তোলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে ৩ বছর সময় পান, তাতে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করে দিয়ে যান। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলো থেকে সহায়তা নিয়ে আমাদের বিমান এয়ারলাইন্স তিনি চালু করে দিয়ে যান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব মুহিবুল হক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ ইনামুল বারী এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ক্যাপ্টেন ফারহাত হাসান জামিল প্রমুখ।