রাজনীতি

মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি প্লট চেয়ে বেকায়দায় বিএনপি’র এমপি রুমিন ফারহানা: ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে প্রত্যাহার করলেন প্লট আবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি প্লট চেয়ে আবেদনের পর তুমুল বিতর্ক ও তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন জাতীয় সংসদের সংরতি আসনে বিএনপি’র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
তথ্য গোপন করে রাজধানীর পূর্বাচলে ১০ কাঠা আয়তনের একটি প্লট বরাদ্দের জন্য গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে গত ৩ আগস্ট আবেদন করেছিলেন তিনি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর নিউ এলিফেন্ট রোডে পৈতৃক সূত্রে ১ হাজার ৮৫০ বর্গফুটের একটি ফ্যাট পেয়েছেন রুমিন ফারহানা। তিনি সেখানেই থাকেন। কিন্তু এরপরও ঢাকায় ফ্যাট কিংবা প্লট নেই মর্মে মিথ্যা তথ্য দিয়ে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে প্লটের আবেদন করেন। তার ওই আবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ঘরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা হয়। রুমিন ফারহানার নিজ দল বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও এ নিয়ে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এর আগে সংবাদমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি প্লটের জন্য আবেদন করেছি। পাই না পাই তার জন্য কোনো আফসোস নেই। তবে আমার পিতা ভাষাসৈনিক অলি আহাদ। তার কোনো বাড়ি নেই, আজীবন তিনি শ্বশুরবাড়িতে থেকেছেন। তবে প্লট দেয়া না দেয়া রাষ্ট্রের বিষয়।’
সরকারি প্লটের জন্য রুমিন ফারহানার এমন লালায়িত মনোভাবের জন্য খোদ বিএনপির কেউ কেউ মন্তব্য করেন, ‘গণতন্ত্রের মা কারাগারে, আর সন্তান অট্টালিকা খোঁজে।’ ‘রুমিন হয়ত শিগগিরই বিয়েশাদি করবেন তাই প্লটের জন্য আবেদন করেছেন।’ কেউ কেউ আবার সমালোচনা করেন আবেদনপত্রের ভাষা, বিশেষ করে ‘চিরকৃতজ্ঞ’ থাকার বিষয়টি নিয়ে। কেউ আবার বলেন, ‘রুমিনের বাবা ভাষাসৈনিক অলি আহমদ একজন ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তার মেয়ে সম্পদের জন্য এমন লালায়িত হবেন তা ভাবা যায় না।’
প্লট প্রত্যাহারের আবেদনপত্রটি ২৭ আগস্ট গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে রুমিন জানান, দুদিন আগেই প্লট বরাদ্দের আবেদন প্রত্যাহার করে চিঠি লিখে রেখেছিলাম। কিন্তু নিজ নির্বাচনি এলাকায় থাকায় চিঠি জমা দিতে পারিনি। ২৭ অক্টোবর প্লটের আবেদন প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি।
‘প্লট আবেদন প্রত্যাহার’ শীর্ষক ওই আবেদনে রুমিন ফারহানা লিখেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রাণ তৃণমূলের নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীদের অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ৩ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে সংসদের দাপ্তরিক ফরম্যাটে করা আমার পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটি আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বিএনপির সংরতি আসনের মহিলা এমপি, একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক তিনি। বর্তমান সংসদকে বারবার অবৈধ বলে দাবি করলেও এমপি হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন অবলীলায়। এমপি হওয়ার পরপরই রাজধানীতে প্লটের জন্য লালায়িত হয়ে ওঠেন তিনি। এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার দু’মাসেরও কম সময়ের মধ্যেই সরকারের কাছে ঢাকায় কোনো সম্পত্তি নেই বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাইলেন কোটি টাকা মূল্যের পূর্বাচলের ১০ কাঠার প্লট। সরকার তাকে এই প্লট বরাদ্দ দিলে তিনি বর্তমান সরকারের নিকট চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন বলেও জানিয়েছেন। প্লটের বাইরেও বিশাল আয়তনের ফ্যাট বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে দেন ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটার।
দেশের ইতিহাসে রুমিন ফারহানাই একমাত্র ব্যক্তি যিনি স্পিকারের কাছে এমপি হিসেবে শপথ নেয়ার পর সংসদে যোগদানের প্রথম দিনেই একে ‘সম্পূর্ণ অবৈধ’ বলে দাবি করেন। এরপরই সেই সম্পূর্ণ অবৈধ সরকারের কাছে সম্পদের তথ্য সম্পূর্ণ গোপন করে চাইলেন প্লট ও ফ্যাট।
ঢাকায় নিউ এলিফ্যান্ট রোডে নিজ ফ্যাট থাকলেও তা গোপন করে কোনো সম্পত্তি নেই বলে গণপূর্তমন্ত্রীকে লেখা ডিও লেটারে উল্লেখ করেন। বর্তমান সংসদের নির্বাচিত বিএনপির কোনো এমপি সরকারের কাছে কোনো প্লট, ফ্যাট বা জমি না চাইলেও সংসদের সংরতি আসনের সর্বশেষ বা ৩৫০তম সদস্য হয়েই তিনি প্রথমবারের মতো ১০ কাঠার প্লট চাইলেন। এ নিয়ে খোদ বিএনপির ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। একাদশ জাতীয় সংসদকে সম্পূর্ণ অবৈধ দাবি করে কিভাবে কোনো এমপি নিজ স্বার্থে দলীয় আদর্শ ভুলে দলীয় এমপিদের পাশ কাটিয়ে একাই চেয়ে বসলেন বিশাল আয়তনের প্লট Ñ এমন প্রশ্ন এখন বিএনপির সর্বস্তরে। রুমিন ফারহানার এমন লুকোচুরি গত দুই সপ্তাহ ধরে ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে।
জানা গেছে, ৩ আগস্ট পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমকে দেয়া চিঠিতে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, ‘ঢাকা শহরে আমার কোনো জায়গা/ফ্যাট বা প্লট নেই। ওকালতি ছাড়া আমার অন্য আর কোনো ব্যবসা বা পেশা নেই। এ জন্য ঢাকাস্থ পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা প্লটের প্রয়োজন।’
চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমার নামে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ দিলে আমি আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।’
অথচ নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেন, রাজধানীর নিউ এলিফ্যান্ট রোডে তার একটি ফ্যাট রয়েছে। সেটাকে তিনি স্থায়ী ঠিকানা হিসেবেও হলফনামায় লিখেছেন। তিনি হলফনামায় অবশ্য লিখেছেন, আনুমানিক ১ হাজার ৮৫০ বর্গফুটের সেই ফ্যাটটি তিনি তার মায়ের কাছ থেকে পেয়েছেন। প্লটের জন্য আবেদন করা সেই চিঠিটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘরে-বাইরে ওঠে সমালোচনার ঝড়।
প্লটের আবেদনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, মন্ত্রী এমপি না হয়েও অনেকেই শুল্কমুক্ত গাড়ি পেয়ে গেছেন। আর আমি কিছু পাওয়ার আগেই আমার চিঠি ভাইরাল হয়েছে। এটা কোনো সরকারের কাছে চাওয়া না। এটা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা, রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছি। তাই আনুষ্ঠানিকতার জন্য আবেদন করেছি। কিন্তু আমি জানতাম না কোনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনো চিঠি এভাবে বের হয়ে ভাইরাল হয়ে যায়।
উল্লেখ করা যেতে পারে, বহু নাটকীয়তা শেষে বিএনপির এমপিরা শপথ নেয়ার পর সংরতি নারী আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন পান বারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি ৯ জুন এমপি হিসেবে শপথ নেন, ৩ আগস্ট প্লটের জন্য আবেদন করেন। এরও আগে টিভি টকশোর পরিচিত মুখ ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে আলোচনায় আসেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে মনোনয়ন চান। তবে এই আসনে উকিল আবদুস সাত্তারকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। নিজ এলাকার মানুষের কাছে তেমন পরিচিতি না হলেও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে রুমিন ফারহানার পরিচিতি রয়েছে। এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে সেই সংসদকে ‘অবৈধ’ দাবি করায় ফের আলোচনায় আসেন তিনি। চলমান সংসদকে অবৈধ বলা ছাড়াও সরকারের কঠোর সমালোচনায় সর্বণ মুখর থাকেন এই এমপি। তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়েও একাধিকার বক্তব্য রেখেছেন।
এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম জানান, ১০ কাঠার প্লট চেয়ে সাংসদ রুমিন ফারহানার আবেদন তিনি হাতে পেয়েছেন। তবে এ বিষয়ে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিয়মানুযায়ী একজন এমপির জন্য বাধ্যতামূলক প্লট চাইলে তা দেয়া হয় কি না Ñ এ বিষয়ে তিনি বলেন, না, এমপিরা চাইলেই প্লট দেয়ার নিয়ম নেই।
রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দলের নেতাকর্মীদের আলোচনা-সমালোচনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে প্লটের আবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন রুমিন। একই সঙ্গে ওই আবেদন মন্ত্রণালয়ের বাইরে কিভাবে এলো সে প্রশ্নও রেখেছেন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘আমরাও মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু প্লট বা ফ্যাট নিইনি। সবাই তো আর একরকম হবে না।’ স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরো বলেন, ‘শুধু রুমিন ফারহানা নন, বিএনপি দলীয় অন্য যারা সাংসদ আছেন তারাও প্লটের জন্য আবেদন করেছেন বলে আমি জানি।’
প্লটের আবেদনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য হিসেবে এটি আমার অধিকার। তাই আমি আবেদন করেছি। আমি একাই আবেদন করিনি। বিএনপির ৭ সংসদ সদস্যের অধিকাংশই প্লট চেয়ে আবেদন করেছেন।’ এ সময় তিনি তার আবেদনপত্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে কিভাবে এলো তা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
রুমিন ফারহানার আবেদনের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে একটি প্লট রুমিন পেতেই পারে।’
অবশ্য এ বিষয়ে বিএনপির সাবেক এক নারী সংসদ সদস্য বলেন, ‘দলের এই দুঃসময়ে, বিশেষ করে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন কারাবন্দি তখন রুমিন সংসদে যে ভূমিকাটা রাখছেন তা প্রশংসার। তবে সাংসদ হিসেবে তিনি প্লটের জন্য আবেদন না করলেও পারতেন।’
রুমিন ফারহানার প্লট চাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তার পে লিখছেন, কেউ বিপ।ে এর পেছনে কাজ করছে একাদশ সংসদকে তার ‘অবৈধ’ বলা এবং বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করার বিষয়টি।
ছাত্রদলের এক নেতা ফেসবুকে লিখেছেন, বিএনপি বাছাই করা তাদের সর্বোচ্চ আদর্শিক নেত্রী রুমিন ফারহানাকে পাঠিয়েছিল সংসদ গরম করতে। বোঝা গেল মতা পেলে তেনারা কেমন গরম করতে পারবেন? তবে নির্লোভ ও নিরাভরণ হওয়া এক জিনিস। আর টকশো অথবা সোশ্যাল মিডিয়া গরম করা অন্য জিনিস।
বিএনপি চেয়ারপারসনের সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) এক সদস্যও রুমিন ফারহানার তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।
প্লট চেয়ে রুমিন যে আবেদন করেছেন সে বিষয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি এখন চ্যালেঞ্জ করব যতজন এমপি অ্যাপ্লিকেশন করেছেন, সব প্রকাশ করা হোক। রুমিন কেন একলা?’
রুমিন আরো বলেন, একজন সংসদ সদস্য রাষ্ট্র থেকে জায়গার জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারেন। সেই সুযোগ আমার আছে। এছাড়া ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি, বেতন-ভাতা ও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়ার রাষ্ট্রীয় সুযোগও রয়েছে আমার। এই রাষ্ট্রীয় সুযোগ যিনি সংসদ সদস্য হবেন তিনিই রাষ্ট্র থেকে পাবেন। সেই সুবাদে আমি একটি আবেদনপত্র দিয়েছি। শুধু আমি একা নই, অন্তত ৩০০-৩৫০ এমপি অ্যাপ্লিকেশন দিয়েছেন। অথচ আমার ক্ষেত্রেই শুধু হইচই।
বিএনপি দলীয় সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি আরো বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো, আমার চিঠিটা মন্ত্রণালয় থেকে বেরোল কী করে? যেখানে আমার ব্যক্তিগত টেলিফোন নম্বর দেয়া আছে? আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমি এই সরকারের কাছ থেকে এক সুতা পরিমাণ জমিও আশা করি না, আমি চিন্তাও করি না। এটা একটি প্রসিডিউর, একটি ফরমালিটিজ যেটা সব এমপি করেছেন, আমিও করেছি।’
রুমিন বলেন, ‘এই চিঠি আমি ড্রাফটও করিনি, আমার পিএস ড্রাফট করে দিয়ে দিয়েছে। সব পিএসরা যখন তাদের এমপিদের চিঠি ড্রাফট করেছে, আমার পিএসও ড্রাফট করে দিয়েছে। কিন্তু আমার চিঠিটা শুধু কেন ভাইরাল হলো?’
রুমিন ফারহানা বলেন, একটা সরকারি নথি কখন পাবলিক হয়, যখন সেখানে সরকারের মদদ থাকে।’
ফারহানা বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হলো আমার চিঠিটা কি অবৈধ? কোন আইনে অবৈধ? এটা কি অনৈতিক কিছু? এটা তো রাষ্ট্রীয় চিঠি। আমি তো সরকারের কাছ থেকে কিছুই চাইনি। আমার বেতনটা যেমন রাষ্ট্রীয়, আমার এই অ্যাপ্লিকেশনও রাষ্ট্রীয়। আমি সরকারের কাছে কোনো কিছু চাইনি। আমি রাষ্ট্রীয় সুযোগ চেয়েছি। এটা তারা (সরকার) করেছে জনদৃষ্টিকে ভিন্নদিকে প্রবাহিত করার জন্য। যাতে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে যায়।’
তবে নিন্দুকেরা বলছেন, রুমিন ফারহানা তার দ্বৈত সত্তা ঢাকার জন্য ‘সরকারের কাছে কিছু চাইনি, রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছি’ বলে সাফাই গাইছেন। রাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম যেহেতু জনগণ দ্বারা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়, সেহেতু রাষ্ট্রের কাছে কিছু চাওয়া আর দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারের কাছে কিছু চাওয়া সমার্থক হয়ে যায়। সরকারকে অবৈধ বলে আবার সেই সরকারের কাছেই সুবিধা চাওয়া রুমিন ফারহানার নীতিহীন রাজনীতি চর্চারই পরিচায়ক।