খেলা

যে কারণে অবসরে যাচ্ছেন না মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ঈদুল আজহার পর থেকে অনেক কথাই ভেসে বেড়াচ্ছে; যদিও অবসর নেয়ার দিনক্ষণ তিনি কখনও পরিষ্কার করেননি। তবে গত ডিসেম্বরে রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবেই জানিয়েছিলেন, তার পরিকল্পনা বিশ্বকাপ পর্যন্ত। বিশ্বকাপের পর জানালেন, এখনই অবসর নিচ্ছেন না তিনি।
এ নিয়ে দর্শকদের মাঝে নিয়মিতই আলোচনা চলছে। থেমে নেই পরবর্তী ওয়ানডে অধিনায়ক নিয়েও সরব আলোচনা।
বিসিবি চেয়েছিল, মাশরাফি রাজি থাকলে সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপে খুব ঘটা করে বিদায়ের আয়োজন করা হবে। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন সাংবাদিকদের বলেন, মাশরাফি এখনই অবসর নিতে চান না, জিম্বাবুয়ের সঙ্গে একটা ওয়ানডে আয়োজন করব কি না, সে ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলাম। ও মনে করে যে এত তাড়াতাড়ি এসব না হলে তার সুবিধা হয়। দুই মাস পরে হলে সে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আগস্ট মাসজুড়েই নড়াইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মাশরাফি। যেহেতু তিনি সময় চেয়েছেন, আর বাংলাদেশের কোনো ওয়ানডেও নেই আগামী ৬ মাসে, এখন তার ক্রিকেটীয় কর্মসূচি কী হবে Ñ এটি নিয়ে মাশরাফি নিজেই কিছু বলতে পারলেন না। ক্রিকেট বিষয়ক আলোচনাই তার কাছে আপাতত অপ্রাসঙ্গিক!
বিসিবির এক পরিচালক জানান, মাশরাফি আসলে এ বছরে অবসরের কোনো ঘোষণাই দিতে চান না। জানুয়ারিতে বিপিএল শেষ হলে তবেই অবসর নিয়ে ভাববেন। আগামী মার্চে জিম্বাবুয়ে আবার আসবে বাংলাদেশে। জিম্বাবুইয়ানদের এই সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ থাকছে। অবসরের ঘোষণা যদি দিতেই হয়, তখনো দেয়ার সুযোগ থাকছে। তার আগে মাশরাফি এ নিয়ে ভাবতে চান না। তাই বিসিবি বাধ্য হয়েই সেপ্টেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপে একটি ওয়ানডে আয়োজনের পরিকল্পনা বাতিল করে দিচ্ছে।

অনুশীলন ক্যাম্পে নেই মাশরাফি
মাশরাফি বিন মুর্তজার থাকার কথা ছিল ১৮ আগস্ট শুরু হওয়া কন্ডিশনিং ক্যাম্পে। বিসিবির প্রধান নির্বাচক জানালেন ৩৫ জনের প্রাথমিক দলে তারা মাশরাফিকে রাখছেন না।
মাশরাফি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলেন না, তিনি কন্ডিশনিং ক্যাম্পে না-ই থাকতে পারেন। কিন্তু আগে দেশের মাঠে বাংলাদেশ দলের প্রায় সব কন্ডিশনিং ক্যাম্পে মাশরাফি ছিলেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০১৭ সালের আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপে টেস্ট সিরিজ সামনে রেখে যে অনুশীলন করেছিল বাংলাদেশ, সেটিতে বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি উপস্থিত ছিলেন।
পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে নির্বাচকরা মাশরাফিকে রাখতেও চেয়েছিলেন ৩৫ জনের প্রাথমিক দলে। আরও একটি বিষয় ভাবনায় ছিল নির্বাচকদের Ñ যদি জিম্বাবুয়ের বিপে কোনো ওয়ানডে আয়োজন করা হয়, মাশরাফির প্রস্তুতি নিশ্চয়ই লাগবে।
বেশ ক’দিন ধরেই গুঞ্জন, মাশরাফিকে ঘটা করে বিদায় জানাতে বিসিবি ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে একটা ওয়ানডে আয়োজন করতেও পারে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপে ওয়ানডে আয়োজনের সম্ভাবনা ীণ বলেই আপাতত পরিকল্পনায় মাশরাফি নেই বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। তিনি আরো জানান, মাশরাফি কন্ডিশনিং ক্যাম্পে থাকছেন না। যেহেতু তিনি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি খেলেন না।
১৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া বাংলাদেশ দলের কন্ডিশনিং ক্যাম্প চলেছে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। এই অনুশীলনে যোগ দেন ২৪ ক্রিকেটার, বাকিরা বিসিবি হাইপারফরম্যান্স (এইচপি) দলের হয়ে খেলবে শ্রীলংকা ইমার্জিং টিমের বিপ।ে আফগানিস্তানের বিপে টেস্ট স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়দের অনুশীলন শুরু হয়েছে ২৮ আগস্ট থেকে।

মাশরাফির পর কে?
বাংলাদেশ দলে পেস বোলিং আক্রমণের নেতৃত্বটা প্রায় দুই দশক ধরে পালন করে আসছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। কিন্তু ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় এসে ইনজুরি ও অফ ফর্মের ছায়াটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। মাশরাফি সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০০৯ সালে, ২০১৭ সালে জানিয়েছেন টি-টোয়েন্টিকে বিদায়। ওয়ানডেতেও স্পাইকজোড়া পুরোপুরি তুলে রাখার সময়টা এসেই গেছে বলা যায়। কিন্তু ক্রিকেট তো থেমে থাকবে না। মাশরাফির জায়গায় নতুন কেউ পেস বোলিং আক্রমণের নেতা হবেন। তিনি কে?
রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলামদের সঙ্গে হালের মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরাও ৩০ গজের মধ্যে পেয়েছেন মাশরাফিকে। লাইন-লেন্থ একটু এদিক-ওদিক হলেই কাঁধে হাত রেখে পরামর্শ দিতেন। কখনও কঠিন, আবার কখনও নরম স্বরে। অদূর ভবিষ্যতে একই দায়িত্ব পালন করতে হবে রুবেল-মোস্তাফিজদেরও।
অভিজ্ঞতার দিক দিয়ে মাশরাফির পর রুবেল হোসেনই আছেন সামনে। ১০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৫৪ ম্যাচে ১৮৭ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মাশরাফির পর সত্যিকারের ফাস্ট বোলারের নাম নিতে গেলে রুবেলের নাম সবার ওপরে থাকবে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মাত্র ৪ বছরের হলেও মোস্তাফিজের রেকর্ড অবিশ্বাস্য। ছোট্ট ক্যারিয়ারেই তিন সংস্করণের ক্রিকেটে ৯৯ ম্যাচে ১৮৩ উইকেটের মালিক ২৩ বছর বয়সী বাঁহাতি এই পেসার। তবে বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেয়া বা বাকি বোলারদের সামনে থাকার অবস্থায় এখনো তিনি এসেছেন কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলাই যায়। অবশ্য জাতীয় দলের সাবেক বাঁহাতি পেসার মঞ্জুরুল ইসলামের ভোট মোস্তাফিজের ব্যালটেই, ‘দুটি জিনিস থাকতেই হবে এই দায়িত্ব পালন করতে হলে। প্রথমত, নিয়মিত একাদশে সুযোগ পেতে হবে। দেখতে হবে কে বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আছেন। আর নতুন বলে বল করতে হবে। মোস্তাফিজ নিয়মিত নতুন বলে বল না করলেও দলের নিয়মিত সদস্য’।
সে হিসেবে বলা যায়, মাশরাফির যোগ্য উত্তরসূরী হতে পারেন রুবেল হোসেন বা মোস্তাফিজুর রহমান। তবে এই দু’জনের মধ্যে কে এগিয়ে থাকবেন, তা সময়ই বলে দেবে।