কলাম

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও পাশবিক নির্যাতনের মুখে রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী নয়। ব্যাপক প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও ‘ভীত’ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনাগ্রহে দ্বিতীয় দফায়ও শুরু করা যায়নি প্রত্যাবাসন কর্মসূচি।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র হাজার দুুয়েক রোহিঙ্গাকে ফেরত নেয়ার মিয়ানমারের ঘোষণার প্রেক্ষিতে এ দফায় প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য গত ২২ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে অনুযায়ী অবকাঠামোগত সুবিধা, নিরাপত্তাসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের প্রস্তুতি নেয় শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনারের কার্যালয় ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। কিন্তু ওপারে মিয়ানমারের প্রস্তুতি না থাকার কারণে একজন রোহিঙ্গাও ফেরত যায়নি। রাখাইনে ফেরার মতো সহায়ক পরিবেশ না থাকার অভিযোগ করে সেখানে ফিরতে চাইছে না তারা। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের েেত্র নাগরিকত্ব, নিরাপত্তাসহ অন্তত ৫টি শর্ত দিচ্ছে কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর প্রত্যাবাসনের প্রথম উদ্যোগটিও রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণেই ভেস্তে যায়।
তবে এ কথা সত্য যে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার কর্তৃপরে মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে। তাছাড়া দেশ-বিদেশি কিছু এনজিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রলম্বিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর বাইরে এ কথাও সত্য যে, বিগত দুই বছর ধরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের আচরণে স্পষ্ট, তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে মোটেই আন্তরিক নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করলেও এক্ষেত্রে তাদের কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে; যাতে করে কেবল কথায় নয়, বরং কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়।
দ্বিতীয় দফা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরুর প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার কর্তৃপরে মধ্যে আস্থার ঘাটতি দূর করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও ইউএনইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং চীন-ভারত-জাপানসহ প্রভাবশালী দেশের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। কারণ বিশ্ব সম্প্রদায়ের জানা আছে যে, রোহিঙ্গা সংকট একান্তই মিয়ানমারের সৃষ্ট; কেবল মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। এমনকি মিয়ানমারসহ বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশ বরাবরই এ সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পরও রোহিঙ্গা সংকটের অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমতাবস্থায় এই অঞ্চলের বৃহত্তর শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধান করা।