রাজনীতি

৮ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন : বিরোধীদলীয় নেতা ঠিক হয়নি জাপার!

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একাদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন ডেকেছেন, যা আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হবে। বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ গত ১৪ জুলাই মৃত্যুবরণ করার পর এই সংসদের এটাই প্রথম অধিবেশন।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গত ২১ আগস্ট জানানো হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত মতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রথম দিনে অধিবেশনের শুরুতে চলতি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তা নিয়ে আলোচনা শেষে অধিবেশন মূলতবি করা হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে সংসদের এই অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। গত ১১ জুলাই চলতি সংসদের তৃতীয় ও চলতি অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন শেষ হয়। সংবিধান অনুযায়ী এক অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই এই অধিবেশনের মেয়াদ সংপ্তি হবে। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সংসদের বিরোধী দলের নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর কারণে শূন্য হওয়া বিরোধী দলীয় নেতার পদটি চলতি অধিবেশনেই পূরণ হবে। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করবেন। অবশ্য এ বিষয়ে এখনও তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের কোনো সদস্য মারা গেলে তাঁর ওপর আনীত শোক প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে ওই দিনের বৈঠক মূলতবি করা হয়। তাই অধিবেশনের শুরুর দিনই চলতি সংসদের সদস্য এরশাদের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও তা আলোচনা শেষে গ্রহণ করা হবে। সাধারণত সংসদ নেতাসহ সকল দলের সংসদ সদস্যরা ওই আলোচনায় অংশ নেন।
এদিকে রাষ্ট্রপতি সংসদ অধিবেশন আহ্বান করার সময় পর্যন্ত বিরোধীদলীয় নেতা ঠিক করতে পারেনি একাদশ সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। যদিও আসন্ন অধিবেশনের আগে কিংবা এই অধিবেশন চলাকালেই নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচনে সাংবিধানিক কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে বিরোধী দল পার্লামেন্টারি পার্টির বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজুলেশনসহ স্পিকারকে চিঠি দিলে তিনি প্রয়োজনীয় পদপে নেবেন।
‘বিরোধীদলীয় নেতা’ পদে কে হবেন এরশাদের স্থলাভিষিক্ত Ñ এ নিয়ে জাপায় প্রকাশ্য মতবিরোধ রয়েছে। এরশাদপতœী ও সংসদের বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, নাকি এরশাদের সহোদর ও জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের নতুন বিরোধীদলীয় নেতা হচ্ছেন, তা ২৯ আগস্ট পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত রওশন এরশাদই সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনে বসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নতুন বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচন নিয়ে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরকে কেন্দ্র করে জাপায় বর্তমানে দুটি বলয় সক্রিয়। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের একটি অংশ রওশন এরশাদকে এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের সিংহভাগ জি এম কাদেরকে বিরোধীদলীয় নেতা করতে চান। গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর বনানীতে জাপা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের এক যৌথ সভায় অংশ নেয়া মোট ৩৫ জনের মধ্যে বক্তব্য রাখা ১৭-১৮ জনের প্রত্যেকেই তাদের বক্তব্যে বলেছেন, জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যানের পাশাপাশি সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবেও চান তারা। তবে জাপার একটি সূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক সৌহার্দ্যরে খাতিরে জি এম কাদের শেষ পর্যন্ত ভাবী রওশন এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতার পদটি ছেড়ে দিতে পারেন।
রাজধানীর বনানীতে জাপা কার্যালয়ে ১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের যৌথ সভায় সভাপতিত্বকারী জি এম কাদের বলেছিলেন, ‘দল গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরিচালিত হয়, হবে। কে কী হবেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, যেন পার্টিতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি হতে না পারে। জাপায় হয়ত নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিরোধ নেই। পার্টি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’
জাপার একটি সূত্র জানিয়েছে, সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে ৬ বা ৭ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে দলের এমপিদের বৈঠক ডাকার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রওশন। সেখানে তিনি নিজে বিরোধীদলীয় নেতা মনোনীত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবেন। সিদ্ধান্ত পে গেলে সেদিনই স্পিকারকে তিনি চিঠি দেবেন।
গত বছরের ৮ নভেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার কয়েক দিন আগে থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একদিনও প্রচারণায় যেতে না পারলেও ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি রংপুর-৩ আসন থেকে আবারও এমপি নির্বাচিত হন। গত ৫ জানুয়ারি এমপি হিসেবে শপথ গ্রহণ করে বিরোধী দলীয় নেতার আসনে বসেন। যদিও ২০ জানুয়ারি তিনি আবারও সিঙ্গাপুরে যান, ফেরেন গত ৪ ফেব্রুয়ারি। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি হুইল চেয়ারে বসে তিনি ১৫ মিনিটের জন্য সংসদের অধিবেশনে যোগ দেন। গত ৩০ জানুয়ারি শুরু হওয়া একাদশ সংসদে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই একদিনই যান এরশাদ।