কলাম

খুন-ধর্ষণ প্রতিরোধে দ্রুত বিচারসহ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

সারাদেশে খুন ও ধর্ষণ বেড়েই চলেছে। কোথাও কোথাও এমনকি ছেলে শিশুরাও হচ্ছে বলাৎকারের শিকার। শিশু ও নারীরা ঘরে-বাইরে, স্কুল-অফিস, গণপরিবহন, পার্ক, হাসপাতাল কোথাও যেন নিরাপদ নয়। শিশুধর্ষণের ঘটনায় শিশুর শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিচারের দীর্ঘসূত্রিতা ও সঠিক সময়ে রায় না পাওয়ায় অপরাধীরা বার বার খুন ও ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অপরাধের মাত্রাও দিন দিন বাড়ছে।
সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, খুন-ধর্ষণ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ ঘটাতে এবং দ্রুত বিচার করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবক, শিশুসংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা, স্কুল-কলেজ ও পাড়ার তরুণদের সম্মিলিতভাবে এই অপরাধ ঠেকাতে এগিয়ে আসতে হবে। পাড়ায়-মহল্লায় শিশু সুরক্ষা কমিটি গঠন করে খুন-ধর্ষণ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
গত ৬ মাসে শুধু পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী শিশু ও নারীধর্ষণের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সংখ্যা বাস্তবে আরো অনেক বেশি। অনেকেই পারিবারিক ও সামাজিক কারণে এসব ঘটনা সামনে আনতে চান না।
গত ৭ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ৫৭২টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ২৩ শিশু, নিহতদের মধ্যে ৩ জন ছেলে শিশু। ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ৮৪ জন শিশুকে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে ১ শিশু। যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৭৫ শিশু। অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬ মাসে ৬৩০ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৭ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, ৭ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন।
এসব পরিসংখ্যান আমাদের সমাজের এক অস্থির ও ভয়াবহ চিত্রেরই ইঙ্গিত দেয়। সমাজবিশ্লেষকরা বলছেন, খুন এবং শিশু ও নারী ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার পেছনে মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা বড় নিয়ামক হয়ে দেখা দিয়েছে। ইয়াবা এমন একটি মাদক, যা গ্রহণে তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং ইয়াবাসেবী হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি এমন ভয়াবহ যে, সম্প্রতি ইয়াবা কেনার টাকা না পেয়ে জন্মদাত্রী মায়ের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে হত্যা করেছে বগুড়ার এক নেশাখোর ছেলে।
তাই ইয়াবা নামের এই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে যেমন কঠোর ভূমিকায় নামতে হবে, সেইসঙ্গে সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষকে সোচ্চার হতে এবং জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।