প্রতিবেদন

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি মোতাবেক গ্রামে শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ‘দেশের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর।’ দেশের সর্বপ্রাচীন এই দলটির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি শুনে তখন অনেকে মন্তব্য করেছিল, তার মানে দেশে আর কোনো গ্রাম থাকবে না, আওয়ামী লীগ সরকার পুরো দেশকেই শহর বানিয়ে ফেলবে!
বিষয়টি আসলে তা ছিল না। কথাটি এ অর্থে বলা হয়েছিল যে, দেশের ৮৫ হাজার গ্রাম গ্রামই থাকবে, তবে সরকার শহরের সব সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছে দেবে। শহরের মানুষ যেসব নাগরিক সুবিধা পায়, সেসব সুবিধা গ্রামে পাওয়া গেলেই আওয়ামী লীগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ‘দেশের প্রতিটি গ্রাম হবে শহর’Ñ পূর্ণতা পাবে। সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে প্রতিটি গ্রামকে শহরের আদলে সাজানোর নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে হবে। এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার সম্ভব সবকিছু করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
গত ২৮ আগস্ট নিজ নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি কমপ্লেক্স সংলগ্ন ‘জমি অধিগ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা’ শীর্ষক উপস্থাপনা প্রত্যক্ষকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ সংলগ্ন এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কিত উপস্থাপনা প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে তার কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সকল নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের সব গ্রামকে শহরের সুযোগ-সুবিধা সংবলিত করে সুন্দরভাবে সাজাতে কাজ করতে হবে। শুধু উপজেলা নয়, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যন্ত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সে লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি এলাকায় নাগরিক সুবিধা যেন নিশ্চিত করা যায়, সরকার সে পরিকল্পনা নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আবাদি জমি রক্ষার কথা মাথায় রেখে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফসলি জমি যাতে নষ্ট না হয় সেভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, শুধু ইট-সুরকির স্থাপনা নির্মাণ করলেই শহর হয়ে যায় না, বরং প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে গ্রামেই শহরের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নদীতে অপ্রয়োজনীয় সেতু এবং বিলের পাশে সাগরপাড়ের মতো উঁচু বাঁধ নির্মাণ না করার পরামর্শ দেন। নিজ নির্বাচনি এলাকা টুঙ্গিপাড়া-কোটালিপাড়ার উন্নয়নে এলজিইডির বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পের খবর নেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খলিলুর রহমান পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে টুঙ্গিপাড়ায় ভূমি অধিগ্রহণসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এলজিইডি ৩৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ পরিকল্পনা’ শীর্ষক ৪ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এর অধীনে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ২৮১টি পৌরসভায় ৩ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে বিভিন্ন কাজ করা হচ্ছে।
প্রকল্প উপস্থাপনায় বলা হয়, দেশব্যাপী ৩ হাজার ৪৬৫ দশমিক ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে চলমান ‘জরুরি নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)’ চলছে, তার একটি অংশ হিসেবে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশব্যাপী ২৮১টি পৌরসভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
প্রকল্পটির মূল কাজের মধ্যে রয়েছে, সড়ক উন্নয়ন, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, ড্রেন নির্মাণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, খাল খনন, পাড় বাঁধানো, পুকুর সংস্কার, সৌন্দর্য বর্ধন, বৃক্ষরোপণ এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সড়কের পাশে বাতি স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পৌরসভার অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস এবং অপরিহার্য অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে পরিবেশগত উন্নয়ন করা হবে।