রাজনীতি

রওশন-কাদের দ্বন্দ্বের অবসানে জাপাতে স্বস্তি: ৩০ নভেম্বর কাউন্সিল

নিজস্ব প্রতিবেদক
দলের প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পরপরই নানামুখী সংকটে জড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টি। পদ-পদবির লড়াইয়ে রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জি এম কাদের ও রওশন এরশাদ। এতদিন দলের অভ্যন্তরে মতবিরোধ থাকলেও এবার দিনের আলোতে এসেছে নেতৃত্বের লড়াই। দুই নেতাই নিজেদের জাপার চেয়ারম্যান হিসেবে দাবি করছেন। আবার দুই গ্রুপই বলছে, তাদের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। অবশ্য শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাঙ্গাকে একক কোনো গ্রুপের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করতে দেখা যায়নি। তবে রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই দলে যেহেতু দু’জন চেয়ারম্যান হওয়ার সুযোগ বা রীতি নেই; তাই নিশ্চিত ভাঙনের দিকে এগুচ্ছে এরশাদের হাতে গড়া দল জাতীয় পার্টি। কাদের-রওশন দ্বন্দ্বে জাপার নেতাকর্মীরাও এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
উল্লেখ্য, জাপা চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের মৃত্যুর এখনও দুই মাস পূর্ণ হয়নি। এরই মধ্যে তার চেয়ারে বসার লড়াইয়ে মরিয়া তারই ছোট ভাই জি এম কাদের ও স্ত্রী রওশন এরশাদ। যদিও মৃত্যুর আগে জি এম কাদেরকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে এরশাদ লিখিতভাবে ঘোষণা দিয়ে গেলেও রওশন এরশাদের অনুসারীরা ওই আদেশকে অগ্রাহ্য করে গত ৫ সেপ্টেম্বর রওশন এরশাদকেই দলের চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা করেন। অবশ্য তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জি এম কাদের বলেছেন, এরশাদের দিয়ে যাওয়া সিদ্ধান্ত ও দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিনিই দলের বৈধ চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, রওশন এখন নিজেকে জাতীয় পার্টির চেয়ারপারসন হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন পুত্র সাদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার জন্য। জি এম কাদের রংপুর-৩ আসনে এরশাদপুত্র সাদকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের ঘোষণা দিলেই রওশন জাতীয় পার্টির চেয়ারপারসন হওয়ার দাবি থেকে সরে আসবেন।
৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত গভীর রাতে ঠিক তেমনটিই হয়েছে। রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের মধ্যে আপাতত সমঝোতা হয়েছে। রওশন এরশাদ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা, জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান এবং রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনে এরশাদ-রওশনের ছেলে সাদ এরশাদ দলীয় প্রার্থী Ñ এই তত্ত্বে সমঝোতা হয়েছে। সমঝোতা বৈঠকে মধ্যস্থতাকারী ছিলেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। বৈঠকে কাদের বলয়ের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কাজী ফিরোজ রশীদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, লে. জে. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (অব.) ও গোলাম কিবরিয়া টিপু। আর রওশন বলয়ে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, মুজিবুল হক চুন্নু, ফখরুল ইমাম, এস এম ফয়সল চিশতি ও সেলিম ওসমান।
গভীর রাতে এই সমঝোতা বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা আগে ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের তড়িঘড়ি করে আগামী ৩০ নভেম্বর দলের কাউন্সিলের তারিখ ঘোষণা করেন। নিজের ও ভাবী রওশনের দলীয় পদ সুসংহত করার জন্য জি এম কাদের এই কাউন্সিল ডেকেছেন বলে ধারণা করা হয়। তবে রাতের বৈঠকে সমঝোতা হওয়ার পর রওশন জানিয়ে দেন, রংপুর-৩ আসনে সাদের মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়ায় ৩০ নভেম্বরের কাউন্সিলে তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারপারসন পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। সেক্ষেত্রে তিনি জি এম কাদেরকেই জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নিলেন।
রওশন ও কাদেরের এ সমঝোতার পর জাতীয় পার্টিতে আপাত স্বস্তি নেমে আসে। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, জাপার ওপরে বার বার আঘাত এসেছে। নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েই জাপা এগিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান হিসেবে অন্য কারো স্বাক্ষর গ্রহণ না করতে ইসিকে চিঠি দিয়েছিলেন জাপার চেয়ারপারসন দাবিদার রওশন এরশাদ। উপনির্বাচনের জন্য আলাদা পার্লামেন্টারি বোর্ডও গঠন করেছিল উভয় গ্রুপ।
জানা যায়, এরশাদের পরিবারের পক্ষ থেকেই ওই আসনে প্রার্থী হতে চাচ্ছেন অন্তত ৪ জন। এরা হলেন এরশাদের এক পুত্র, দুই ভাতিজা ও এক ভাগনি। এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ তার ছেলে রাহগির আল মাহী সাদ’কে এই আসনের এমপি হিসেবে দেখতে চান। কিন্তু দলের অনেক সিনিয়র নেতা ও রংপুরের জাপার নেতাকর্মীরা তা মানতে নারাজ। তারা রংপুরের তৃণমূল নেতৃত্বকে প্রাধান্য দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করতে চান। এতে দল আরও শক্তিশালী এবং জাপার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুরে দলের অবস্থান আরও বেগবান হবে বলে মনে করেন তারা।
এরই মধ্যে পারিবারিক সমঝোতায় সাদকে রংপুর-৩ উপনির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও রংপুর-৩ আসনের জাতীয় পার্টির ১২ হাজার নেতাকর্মীসহ দল থেকে নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও একাধিক কাউন্সিলর স্বাক্ষরিত একটি আবেদন পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই আবেদনে তারা রংপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে রংপুর মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসিরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানান।
এদিকে রংপুর-৩ আসনের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করতে ২৪ আগস্ট গঠিত পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তারা বলছেন, দলের গঠনতন্ত্রে বিভাগ অনুযায়ী সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বোর্ড গঠন করার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাছাড়া এরশাদের ছোট ছেলে এরিক এরশাদকে নিয়ে দলের মনোনয়ন সংগ্রহ করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ও রংপুর মহানগরের সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা ‘জাতীয় পার্টি এখন সার্কাসে পরিণত হয়েছে’ বলে মন্তব্য করে ফেসবুকে লিখেছেন, দলীয় চেয়ারম্যানের একমাত্র উত্তরসূরী প্রতিবন্ধী সন্তানকেও এখন রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। জাতির কাছে আমার প্রশ্ন, যারা এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের বিবেকবুদ্ধি কি সব লোপ পেয়ে গেছে?
কাদের-রওশন সমঝোতার পর এরশাদ পরিবার এখন রংপুর-৩ আসনে এরশাদপুত্র সাদের মনোনয়নের বিষয়ে একমত হয়েছে। অবশ্য পরিবার থেকে মনোনয়ন দৌড়ে সাদ এরশাদ ছাড়াও ভাতিজা সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার, ভাতিজা (মামাত ভাইয়ের ছেলে) মেজর খালেদ আখতার (অব.), ভাগনি (মেরিনা রহমানের মেয়ে) মেহেজেবুন্নেছা রহমান টুম্পাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, রংপুর-৩ আসনটি এরশাদের পরিবার নিজেদের মধ্যে রাখতে চায়। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মাদ কাদের ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। রওশন এরশাদ শুরু থেকে সাদ এরশাদকে প্রার্থী করার পক্ষে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন। আর জি এম কাদের সাদকে প্রার্থী করার বিরোধী। প্রথম দফা সমঝোতা ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় সাদ এরশাদের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়। তবে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিবৃত্ত করা যায়নি।
জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, সাদকে প্রার্থী করা হলে কেন্দ্রীয়ভাবে জি এম কাদের আরো সংহত হবেন এবং রওশনের সঙ্গে বিরোধ মিটে যাবে। তবে সংকট বাড়বে রংপুরে।
ওই প্রেসিডিয়াম সদস্য আরো বলেন, এরশাদ পরিবার রংপুর-৩ আসনটি তাদের নিজেদের দখলে রাখতে চায়।
জাপার একাধিক সূত্র জানায়, এরশাদের পরিবারের লোকেরা যেমন চান উপনির্বাচনে এরশাদের আসনটিতে তাদের পরিবারের কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোক, একইভাবে রংপুর বিভাগের দু’জন কেন্দ্রীয় নেতাও চান এরশাদ পরিবারের বাইরে অন্য কেউ ওই অঞ্চল থেকে জনপ্রিয় নেতা না হয়ে উঠুক।
সূত্র মতে, ওই দুই কেন্দ্রীয় নেতা প্রকাশ্যে এস এম ইয়াসিরের পক্ষে থাকলেও গোপনে তারা ইয়াসিরের বিরোধিতা করছেন। তাদের মধ্যে একজন সাদ এরশাদের বিরোধী। তবে তিনি এরশাদের বোনের মেয়ে এবং জিয়াউদ্দিন বাবলুর স্ত্রী টুম্পার পক্ষে মাঠে নেমেছেন। ওই অঞ্চলের আরেক কেন্দ্রীয় নেতা ও রংপুরের পৌর মেয়রও গোপনে ইয়াসিরের বিরোধী। এরশাদের প্রতিনিধি হিসেবে তার আসনটির যাবতীয় উন্নয়ন কর্মকা- দেখাশোনা করতেন এস এম ইয়াসির। তার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ নেই। রংপুরে তিনি কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে পরিচিত। তার জনপ্রিয়তার কারণেই রংপুর অঞ্চলের ওই দুই নেতা তাদের ভবিষ্যৎ প্রভাব হারানোর ভয়ে ইয়াসিরবিরোধী।
এরশাদের ভাইপো সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তিনি নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে এস এম ইয়াসিরকে মনোনয়ন না দেয়া হলে রংপুরের নেতাকর্মীরা গণপদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারে। আবার ইয়াসিরও নির্দলীয় প্রার্থী হতে পারেন বলে জানিয়েছেন রংপুরের একাধিক নেতা।
সাদ এরশাদ রংপুরে একেবারেই অপরিচিত। সাদকে মনোনয়ন দেয়া হলে রংপুরে জাতীয় পার্টিতে সংকট দেখা দেবে। যদিও এরশাদ পরিবারের একজন সদস্য বলেন, ‘এরশাদের লাঙল প্রতীক যিনিই পাবেন, রংপুরের মানুষ তাকেই ভোট দেবে।’
এ বিষয়ে এস এম ইয়াসির বলেন, ‘রংপুরের মানুষই এরশাদের পরিবার। রংপুরের মানুষ এরশাদকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে, দুর্দিনে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি কারাগারে যাওয়ার পরও রংপুরের মানুষ তাকে ভোট দিয়েছে। এখন শুনছি আত্মীয়ের কথা, পরিবারের কথা। আমি আশাবাদী, দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।’
তবে সাদ এরশাদকে মনোনয়ন দেয়ার বিষয়টি এখন প্রায় চূড়ান্ত বলে জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্টি একটি পরিবার। এখানে সবার সঙ্গেই আমার সমঝোতা আছে। রংপুর উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাই করতে আমরা সংগঠনের রংপুর শাখার কাছে চারটি নাম চেয়ে পাঠাব। আশা করি, সেখানে সাদের নামও থাকবে। তাদের দেয়া নামের তালিকা নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।’
একই ধরনের মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘আমরা রংপুর শাখার কাছে প্রার্থীতালিকা চাইব। সেখান থেকে বাছাই করে জনপ্রিয়তা দেখে প্রার্থী ঠিক করব। পার্টির সভায় সবার আলোচনার ভিত্তিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।’
জাপার একাধিক নেতার মতে, সর্বশেষে দেখা যাবে এরশাদ-রওশন দম্পতির সন্তান সাদ এরশাদই উপনির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছেন। কারণ তাকে প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রে জিএম কাদের ও বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের মধ্যে পরপর দু’বার সমঝোতা হয়েছে।
অনেকে অবশ্য মনে করেন, সাদকে মনোনয়ন দেয়া হলে দেবর-ভাবীর দূরত্বও কমবে। তবে এ ক্ষেত্রেও রয়েছে বিপত্তি। কেননা পরিবারের অন্যতম সদস্য এরশাদের আরেক ছোট ভাইয়ের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য আসিফ শাহরিয়ারও মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি ওই আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছাড়া এরশাদের মামাতো ভাইয়ের ছেলে মেজর খালেদ আখতারও (অব.) নির্বাচন করতে চান। তিনি দীর্ঘদিন চাচা এরশাদের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন জিএম কাদেরের স্ত্রী শরীফা কাদেরও। তবে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত জাপার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন জাপা নেতা এসএম ইয়াসির আহমেদ, শিল্পপতি ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর ও মেহেজেবুন নেছা টুম্পা।
রংপুরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন, দলের এবং স্থানীয় নেতাদের বাইরে এ আসনে এরশাদ পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের ভাঙন কেউ ঠেকাতে পারবে না। সেই সঙ্গে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগও। আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে রংপুর-৩ আসনে একক প্রার্থী হিসেবে রেজাউল করিম রাজুর নাম ঘোষণা করেছে।
জাপার কেন্দ্রীয় যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক এম এ রাজ্জাক খান সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দিয়ে জানান, এরশাদ পরিবারের সদস্যই এ আসনে মনোনয়ন পেতে পারেন। তিনি অবশ্য বলেন, ‘মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দলের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সদরের এ আসনটি জাতীয় পার্টির হাতছাড়া হতে পারে। কারণ এখানে এবার সরকারদলীয় প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।’
জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রওশন এরশাদের গুলশানের বাসভবনে যান জিএম কাদের। এ সময় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের নেতা নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাঝোতা হয়। কিন্তু ২৪ আগস্ট হঠাৎ করেই জ্যেষ্ঠতা না মেনে পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করায় সে সমঝোতা ভেস্তে যায়। বোর্ডে যাদের রাখা হয়েছে তাদের অনেকেই পার্টিতে নবীন। যাদের নাম রাখা হয়েছে তাদের সিংহভাগই সর্বশেষ প্রেসিডিয়াম ও এমপিদের যৌথসভায় জিএম কাদেরকে পার্টির চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতা বানানোরও দাবি জানিয়েছিলেন।
অবশেষে ৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রওশন-কাদেরের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সমঝোতা হয়। সমঝোতায় জিএম কাদের হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান, রওশন হন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এবং সাদ এরশাদ হন রংপুর-৩ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী। এতে জাতীয় পার্টিতে আপাত স্বস্তি নেমে আসে। ৩০ নভেম্বর কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে এ স্বস্তি স্থায়ী রূপ নেবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।