প্রতিবেদন

রপ্তানির নতুন পণ্য ও বাজার খোঁজার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
তৈরী পোশাক, পাট, চা, চামড়া Ñ বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য বলতে এগুলোই। কিন্তু এখন এই পণ্যগুলো বিশ্ববাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার সম্মুখীন। কোনো কারণে এই ক’টি পণ্যে রপ্তানিতে বিঘœ ঘটলে রপ্তানি আয় কমে যায়। তাই রপ্তানি আয়ের ক্রমবর্ধমান হার অব্যাহত রাখতে অপ্রচলিত রপ্তানি পণ্য রপ্তানির দিকেও মনোযোগ দেয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন বাজার খুঁজে বের করাও জরুরি বলে মনে করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এমনটি মনে করেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, রপ্তানি আরো বাড়াতে নতুন নতুন পণ্য সংযোজন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধানে রপ্তানিকারকদের আরো কাজ করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসায়ীরাই ব্যবসা করবে, তাদের কাজে আমরা সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা করব।
প্রধানমন্ত্রী নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশের প্রতি ব্যবসায়ীদের মনোযোগী হওয়ারও আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে আমরা যে পণ্যগুলো রপ্তানি করছি, সেখানে আপনাদের কাছে আরেকটি অনুরোধ থাকবে, রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের নতুন নতুন পণ্য সংযোজন করতে হবে। পণ্য সংযোজনের জন্য আমাদের বহুমুখীকরণ করতে হবে। সেই সাথে পৃথিবীর কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে।
পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যাংকে ঋণ নিতে গেলে অনেক উচ্চ হারে সুদ দিয়ে ঋণ নিতে হয়, ডাবল ডিজিটে। এরই মধ্যে আমরা নির্দেশ দিয়েছি এটা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য। কিছু কিছু ব্যাংক সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে এনেছে, কিছু কিছু ব্যাংক এখনও তা কার্যকর করেনি। তবে সেটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। তাদের যা যা সুযোগ-সুবিধা দেয়া দরকার সেটাও আমরা দিচ্ছি। কাজেই এটাকে আমরা সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনতে চাই।
তাছাড়া বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ও সহজ করে দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সব কিছু যাতে অটোমেশনের মাধ্যমে হয় সেই পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কাজও করছে সরকার। যখনই আমরা বিদেশিদের কাছে বিনিয়োগের কথা বলি, তখন বলি আমাদের একটা দক্ষ যুবসমাজ আছে। এই যুবসমাজই আমাদের শক্তি। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করলে দেশে ও বিদেশে কাজে লাগবে। সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নিচ্ছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার সব সময়ই ব্যবসায়ীদের পাশে আছে। আমরা ব্যবসা করতে আসিনি। ব্যবসায়ীদের সব রকম সহযোগিতা দিয়ে দেশ যেন আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয় সে ব্যবস্থা করাই সরকারের লক্ষ্য।
এ সময় এক যুগ আগে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিনিয়োগ ছিল মোট জিডিপির ২৬ শতাংশ। এখন সেটা ৩১ দশমিক ৫০ শতাংশ। তখন বেসরকারি বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটা দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। কাজেই বুঝতে পারেন বেসরকারি খাতকে আমরা কত সুযোগ-সুবিধা এবং কত রকমের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সরকার আসলে ব্যবসাবান্ধব সরকার।
শেখ হাসিনা বলেন, আজকে কিন্তু আমাদের অর্থনীতি পরনির্ভরশীল নয়। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশই নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হয়।
উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে তাঁর সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ঘরে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা ইয়াসমিন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রপ্তানিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৬৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ২৯টি স্বর্ণ, ২১টি রৌপ্য এবং ১৬টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। জাবের অ্যান্ড জুবায়ের ফেব্রিক্স লিমিটেড টানা ষষ্ঠবারের মতো শ্রেষ্ঠ রপ্তানিকারক হিসেবে ২০১৬-১৭ সালের রপ্তানি স্বর্ণ ট্রফি জয় করে। জাবের অ্যান্ড জুবায়ের লিমিটেড ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ রপ্তানি আয়ের জন্য আরো একটি স্বর্ণ ট্রফি লাভ করে।