রাজনীতি

সম্মেলন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত আওয়ামী লীগ: নতুন আঙ্গিকে দলকে সাজাতে কাজ করছে শীর্ষ নেতৃত্ব সরকার ও দলকে আলাদা করে চমক সৃষ্টি করতে চায় সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২ দিনব্যাপী ২০তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। সেই হিসেবে আগামী ২৩ অক্টোবর বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হবে এবং একই মাসে নতুন কমিটির জন্য ২১তম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল যথাসময়ে অর্থাৎ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত হবে বলে কয়েক দফায় ঘোষণা দিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করে তুলতে এবং দলকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে জাতীয় কাউন্সিলের গুরুত্বের কথাও তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দলের সর্বস্তরে সম্মেলনের আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাদপড়া নেতাকর্মীরা নতুন কমিটিতে নাম লেখাতে এবং অনেকে অরো গুরুত্বপূর্ণ পদে যেতে দলের শীর্ষ পর্যায়ে তদবির করছেন। অর্থাৎ দলের নতুন নেতা নির্বাচন ও নিষ্ক্রিয়দের বাদ দিয়ে দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ব্যাপক তৎপরতার মধ্য দিয়ে সম্মেলনের দৃশ্যমান প্রস্তুতিও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জাতীয় সম্মেলন করার আগে জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করা, কাউন্সিলর/ডেলিগেট নির্বাচন করা, চাঁদা পরিশোধ করা এবং প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাব-কমিটি গঠন করা Ñ এসবের অনেক কাজই এগিয়ে নিয়ে চলছে আওয়ামী লীগ।
তবে চলতি বছর ডেঙ্গুর বিস্তার প্রতিরোধে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাংগঠনিকভাবে ব্যস্ত থাকার কারণে এবং চলতি মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরের কারণে ২১তম জাতীয় সম্মেলন কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে। তবে আগামী অক্টোবরে কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে এখনও দলের সিদ্ধান্ত আছে। পেছানোর ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
জানা গেছে, দেশের বেশ কয়েকটি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়ে সেখানকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে আর্থিকসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করার জন্য শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কাজ করছেন। বন্যার প্রভাব এখনও কাটেনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর নেতাকর্মীরা কাউন্সিলের জন্যও প্রস্তুত আছে কি না, তারা যোগ দিতে পারবেন কি না বা কবে নাগাদ পারবেন সে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই সব জেলা-উপজেলার নেতারাও কাউন্সিলে অংশ নিয়ে তাদের মতামত ও ভোট দেবেন।
এছাড়া দেশের মানুষ এখন ডেঙ্গু আতঙ্কে ভুগছে। ডেঙ্গুর প্রভাব কবে নাগাদ শেষ হবে তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধকে আওয়ামী লীগ সরকার চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। সরকার ও দলের বড় একটি অংশ এটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। ফলে দুটি বিষয়ই জাতীয়ভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে।
জানা গেছে, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার সর্বোচ্চ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাউন্সিল পেছানো হতে পারে।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অক্টোবরেই হোক বা ডিসেম্বরেই, সম্মেলন প্রস্তুতিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন দলের সাংগঠনিক প্রধানরা। তারা মোট ৭৮টি জেলা কমিটি গঠনের কাজে মনোনিবেশ করেছেন। আগামী ২ মাসের মধ্যে জেলা কমিটি গঠিত হয়ে যাবে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
জানা গেছে, ২১তম জাতীয় কাউন্সিলকে ঘিরে দলকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে কাজ করে চলেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা এবারের জাতীয় কাউন্সিলে সরকার ও দলকে আলাদা করে চমক সৃষ্টি করতে চান। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে শেখ হাসিনা যেমন চমক দেখিয়েছেন, তেমনি জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সরকার ও দলকে আলাদা করে নতুন চমক দেখাবেন প্রধানমন্ত্রী Ñ এমনটিই মনে করছে আওয়ামী লীগ। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের যারা মন্ত্রী আছেন, তারা দলের শীর্ষ পদে থাকবেন না আবার যারা শীর্ষ পদে থাকবেন তাদের মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে হবে।
স্মরণ করা যেতে পারে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম সম্মেলন হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন। রাজধানী ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনের ওই সম্মেলনে সভাপতি হন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হন শামসুল হক। দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই রাজধানীর মুকুল সিনেমা হলে। ওই সম্মেলনে সভাপতি পদে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক পদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচিত হন।
সর্বশেষ গত ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন কাউন্সিল অধিবেশনে অষ্টমবারের মতো শেখ হাসিনা সভাপতি এবং প্রথমবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ওবায়দুল কাদের। ওই দিনই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ১৪ জন সভাপতিম-লীর সদস্য, চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপরে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় ২২ জন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। আর ২৮ অক্টোবর নতুন-পুরনো মিশেলে ৭৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে গঠনতন্ত্র সংশোধন করে ৭৩ সদস্য থেকে ৮১ সদস্যের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।