প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

উইকিলিকসের জরিপ: বিশ্বের সফল নারী শাসকদের পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

মো. শহীদ উল্যাহ
বিশ্বের নারী সরকারপ্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন দেশ পরিচালনার রেকর্ড করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯৬, ২০০৯, ২০১৪ এবং ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শেখ হাসিনা প্রায় ১৬ বছর দেশ পরিচালনা করেছেন। বর্তমান মেয়াদের পূর্ণ সময় প্রধানমন্ত্রিত্ব করলে ২০ বছর সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা হবে তাঁর।
আন্তর্জাতিক সংস্থা উইকিলিকসের জরিপে দেখা যায়, নারী সরকারপ্রধান হিসেবে দীর্ঘদিন দেশ পরিচালনায় শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং শ্রীলংকার প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার মতো জনপ্রিয় নেতাদের পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে চলেছেন।
উইকিলিকসের জরিপে বলা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনা এখন নারীদের পুনর্জাগরণের প্রতীক।’ নারী হিসেবে বেশিদিন মতায় থাকা এবং বিশ্বে পরিচিতির দিক বিবেচনায় এ তালিকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উইকিলিকস কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্র মতায় থাকা নারী রাষ্ট্রপ্রধান হলেন সেইন্ট লুসিয়ার গভর্নর জেনারেল ডেম পিয়ারলেত্তে লুজি। ১৯৯৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি মতায় ছিলেন। ২০ বছর ১০৫ দিন দেশ শাসন করলেও বিশ্বরাজনীতিতে শেখ হাসিনার মতো ততটা পরিচিত নন লুজি। অবশ্য দেশ-বিদেশি অনেক রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা ও সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যদি শারীরিকভাবে সক্ষম ও সুস্থ থাকেন তা হলে ডেম পিয়ারলেত্তে লুজি’র রেকর্ডও তিনি নির্বিঘেœ অতিক্রম করতে পারবেন; সে ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ও অনুকূল পরিবেশ-পরিস্থিতি দেশে বিরাজমান। তাছাড়া শেখ হাসিনার যোগ্য উত্তরসূরী বা বিকল্প নেতৃত্ব বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত নেই অথবা সহসা তৈরি হওয়ার কোনোরূপ সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না।
তাছাড়া ১ আগস্ট, ১৯৮০ সাল থেকে ১ আগস্ট ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত টানা ১৬ বছর আয়ারল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন ভিগডিস ফিনবোগাদোত্তির। তিনিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার মতো এতটা সুপরিচিত নন।
১৪ বছর ৩২৮ দিন ডমিনিকান রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশ শাসন করেছেন ডেম উজেনিন। আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ম্যারি ম্যাকেলিস মতায় ছিলেন ১৩ বছর ৩৬৪ দিন।
এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী নারী রাষ্ট্রপ্রধান জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। ২০০৫ সালের ২২ নভেম্বর দেশের মতাভার গ্রহণ করে এখনো জার্মানি শাসন করছেন তিনি।
ইন্দিরা গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৫ বছর রাষ্ট্রীয় মতায় ছিলেন। সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্গারেট থ্যাচার যুক্তরাজ্য শাসন করেছেন ১১ বছর ২০৮ দিন। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা শ্রীলংকার প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দু’ভাবেই মতায় ছিলেন ১১ বছর ৭ দিন। আর চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রায় ১৬ বছর সময় পার করে ফেলেছেন শেখ হাসিনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ-পরিস্থিতি থাকার কারণে এবারও পূর্ণ মেয়াদকাল শেষ করতে সক্ষম হবেন শেখ হাসিনা; অর্থাৎ তাঁর শাসনকাল হবে ২০ বছর।
প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শাসন করেন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত। মাঝখানে এক মেয়াদ বিরতি দিয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০০৯ সালে আবার মতায় আসে তার দল। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই মতায় আছেন তিনি। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনেও তার দল আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা।
ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৫ বছর পূর্ণ করেছেন তিনি। চতুর্থ মেয়াদের ১ বছর পার না হলেও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের রেকর্ডকে অতিক্রম করা একমাত্র নারী নেত্রী শেখ হাসিনা।
নারী শাসকদের মধ্যে মাত্র চারজনই বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের নাম ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। তারা হলেন ইন্দিরা গান্ধী, মার্গারেট থ্যাচার, অ্যাঙ্গেলা মার্কেল ও শেখ হাসিনা। তারা সবাই নিজের দেশকে একটি নতুন সম্ভবনার দুয়ারে নিয়ে গেছেন। চতুর্থবার মতায় আরোহনের পর শেখ হাসিনা বিশ্বে সুপরিচিত অন্যান্য নারী নেতাদের বিভিন্ন েেত্র অতিক্রম করে গেছেন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। তার সময়ে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে প্রবেশ করেছে। আগে যেখানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ ডলার, শেখ হাসিনার শাসনামলে তা বেড়ে ১ হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশ হতে হলে যেখানে মানবসম্পদ সূচক ৬৬ ভাগ প্রয়োজন, সেখানে শেখ হাসিনার শাসনামলে বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ ভাগ। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক যেখানে হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এই সূচক ২৪ দশমিক ৮ ভাগে নামিয়ে এনেছে। ১৯৭১ সালের অগ্নিঝরা মার্চের ৭ তারিখে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণকে জাতিসংঘের শিা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্যারিসে অনুষ্ঠিত এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা সংস্থাটির মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করে। দীর্ঘ ৪৬ বছর পরে হলেও জাতিসংঘের মতো বিশ্বসংস্থার এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এর ফলে বাঙালির ইতিহাসের মহানায়ক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ সৃষ্টির প্রণোদনাময়ী ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ্বব্যাপী মানবজাতির মূল্যবান ও ঐতিহ্যপূর্ণ সম্পদ হিসেবে স্বীকৃত ও গৃহীত হয়। মূলত বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক পরিচিতির কারণে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ সম্ভব হয়।
২০১৫ সালের শুরু থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ৩ বছর নিবিড় পর্যবেণের পর জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জনের স্বীকৃতিপত্র দেয়। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হলো এই অর্জন। এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘ ঘোষিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্যগুলো (এমডিজি) ভালোভাবে অর্জনের স্বীকৃতি পায় শেখ হাসিনার শাসনামলেই।
বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন এক উন্নয়ন বিস্ময়। বিশ্বদরবারে ইতোমধ্যে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের ইনকুসিভ ইকোনমিক ইনডেক্স অনুযায়ী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিক থেকে ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ। গত ২৯ আগস্ট ‘দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্স’ প্রকাশিত বিশ্বের ২৬টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে বিশ্বসেরা বলা হয়েছে। এসব উন্নয়নের পথে আরেকটি মাইলফলক। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে অন্তর্ভুক্ত হবে। এসব অর্জনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রতি বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আস্থা বেড়েছে এবং তাঁকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসকে সম্মান জানানোর জন্য ২৬ মার্চকে বাংলাদেশ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছেন ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মুরিয়েল বাওসার। বাংলাদেশের ৪৮তম স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চিঠি তারই প্রমাণ বহন করে। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক, সহনশীল, বহুত্ববাদী এবং মধ্যপন্থী জাতির দেশ হিসেবে বিশ্বের কাছে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
বাংলাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য বিশ্বের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সম্মানসূচক ডিগ্রি ও পুরস্কার প্রদান করেছে। ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় ৪০টি পুরস্কার, পদক, ডক্টরেট ও সম্মাননা অর্জন করেন তিনি। এর মধ্যে জাতিসংঘের বেশক’টি পুরস্কারও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী ও ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে। এছাড়া ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ডিপ্লোমা প্রদান করে।
সামাজিক কর্মকা-, শান্তি ও স্থিতিশীলতার েেত্র অসামান্য অবদানের জন্য শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থা সম্মানিত করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের েেত্র শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাঁকে হুপে-বোয়ানি (ঐড়ঁঢ়যড়ঁবঃ-ইড়রমহু) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের েেত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা ও দূরদর্শিতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উইমেন্স কলেজ ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল শেখ হাসিনাকে মর্যাদাসূচক চবধৎষ ঝ. ইঁপশ পুরস্কারে ভূষিত করে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক সেরেস (ঈঊজঊঝ) মেডেল প্রদান করে। সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালে মাদার তেরেসা পদক প্রদান করে। ১৯৯৮ সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন তাঁকে চধঁষ ঐধৎরং ফেলোশিপ প্রদান করে। পশ্চিমবঙ্গ সর্বভারতীয় কংগ্রেস ১৯৯৭ সালে তাঁকে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু স্মৃতি পদক প্রদান করে। আন্তর্জাতিক লায়ন্স কাব কর্তৃক ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনা গবফধষ ড়ভ উরংঃরহপঃরড়হ পদক ও ১৯৯৬-১৯৯৭ সালে ঐবধফ ড়ভ ঝঃধঃব পদক লাভ করেন। ২০০৯ সালে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য ভূমিকা পালনের জন্য শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া তিনি ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার এবং ২ বার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ইউনেস্কো তাঁকে শান্তিরবৃ এবং ২০১৫ সালে উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরাম নারীর মতায়নের জন্য তাঁকে রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার এবং গ্লোবাল সাউথ সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করে।
বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন, খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে অবদানের জন্য আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় ২০১৫ সালে শেখ হাসিনাকে সম্মাননা সনদ প্রদান করে। জাতিসংঘ পরিবেশ উন্নয়ন কর্মসূচি দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিবেশ এবং টেকসই উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার জন্য লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনাকে তাদের সর্বোচ্ছ পুরস্কার চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ-২০১৫ পুরস্কারে ভূষিত করে। এছাড়া, টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ওহঃবৎহধঃরড়হধষ ঞবষবপড়সসঁহরপধঃরড়হ টহরড়হ (ওঞট) শেখ হাসিনাকে ওঈঞং রহ ঝঁংঃধরহধনষব উবাবষড়ঢ়সবহঃ অধিৎফ-২০১৫ প্রদান করে। সর্বশেষ জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ান ও এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাডওয়ার্ড পুরস্কারে ভূষিত হন শেখ হাসিনা।
শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘসহ বিশ্বের খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর দেয়া এ ধরনের পুরস্কার গোটা জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তারা আরো মনে করেন, এসব পুরস্কার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছে এবং তিনি বিশ্বনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন।