ফিচার

ঘুরে আসুন মেঘ-পাহাড়ে মিতালির জাফলংয়ে

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ঋতু বদলের সঙ্গে সঙ্গে সিলেটের জাফলং তার রূপ বদলায়। বর্ষায় গেলে এখানে দেখা যায় পাহাড়ের ওপর থেকে নামে আসা ঝরনার অবিরাম বয়ে চলা। সঙ্গে উপভোগ্য আকাশে ভেসে বেড়ানো মেঘ। আকাশে মেঘ আর ভূমিতে রাশি রাশি পাথর Ñ এই হলো জাফলংয়ের চিরচেনা দৃশ্য।
সিলেট-জাফলং রোডে হরিপুরের কাছে যেতেই মনে হবে দু’পাশে পাহাড়ের প্রাচীর। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের খাসিয়া-জৈয়ন্তিয়া পাহাড়শ্রেণির কোলে জৈয়ন্তিয়া, লালখান বাজার আর জাফলং। খাসিয়া-জৈয়ন্তিয়া পাহাড়শ্রেণির কিছু অংশ পড়েছে বাংলাদেশের জৈয়ন্তিয়া-জাফলং রোডে যাওয়ার পথে ডান দিকে।
সিলেট শহর থেকে জাফলং রোডে হরিপুর পার হলেই দেখা যায় পাহাড়গুচ্ছ। সব পাহাড়েই মেঘ-পাহাড়ে লুকোচুরি আর ফেনিল ঝরনার অবিরাম বয়ে চলা।
আরো সামনে এগিয়ে দরবস্ত এলাকাটি পার হয়ে সারিঘাটের সামনে এলে ক্রমেই কাছাকাছি হতে থাকে সবুজ সবুজ পাহাড়। ওপারে মেঘালয়ের খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড় আর এপারে জাফলং, মাঝে পিয়াইন নদী। জাফলংয়ের বুক চিরে বয়ে গেছে দুই নদী Ñ ধলাই ও পিয়াইন। পিয়াইনের স্বচ্ছ পানিতে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের নুড়ি-পাথর আর তা তোলার দৃশ্য। নদীর তীরেই খাসিয়াপুঞ্জি। দূর থেকে তাকালে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়। আর পাহাড় বেয়ে ভারতের জিপ চলাচল ও সীমান্তসংলগ্ন ছোট্ট বাজার। পাহাড়ের ওপরে নরম তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘরাশি।
প্রকৃতির এই এক অপরূপ সৌন্দর্য। প্রকৃতি যেন নিজ হাতেই সৌন্দর্য দিয়েছে জাফলংকে। বর্ষায় যেন পূর্ণ রূপ পায় জাফলং।
পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে স্তূপে স্তূপে পাথর ছড়ানো। যেন পাথরের খনি। স্বচ্ছ পানির নিচের দিকে তাকালে এ দৃশ্য বিমোহিত করবে সবাইকে। ডিঙি নৌকায় করে নারী-পুরুষ আর শিশুদের পাথর উত্তোলন ও ভাঙার দৃশ্য। জাফলংয়ের চার পাশ পাথরে ভরপুর, অথবা বলা যায়, জাফলং যেন দাঁড়িয়ে আছে পাথরের ওপর।
সবুজের বুকে নেমে আসা পানির ধারায় সূর্যের আলোর ঝিলিক ও ভেসে বেড়ানো মেঘমালা বেশ উপভোগ করেন পর্যটকরা। সবুজ পাহাড়ের ওপরে ুব্ধ মেঘদের চোখ রাঙানি, যেন এখনই প্রকৃতিকে ভাসিয়ে নেবে। নদীতে জেগে ওঠা পাথুরে বালির চর, যেখানে স্তরে স্তরে রয়েছে নুড়ি পাথর, চালনি দিয়ে সে পাথর তুলে সরু নৌকায় নারী-পুরুষের এগিয়ে যাওয়া যে কাউকে মুগ্ধ করে।
খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশে স্বচ্ছ পানির নদী পিয়াইন। খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড় থেকে জন্ম নিয়ে এ নদী মিশেছে সুরমার সঙ্গে। বর্ষায় এ নদী যেন সমুদ্র, আর শুষ্ক মৌসুমে সরু খাল। পিয়াইনের স্বচ্ছ জলে নৌকা ভ্রমণও অনেক আনন্দের। নৌকায় করে ঝরনা আর ভারত সীমান্তের খুব কাছাকাছি গিয়ে ঝুলন্ত ব্রিজ, ভারতীয় বাজার-স্থাপনা দেখাও নতুন অভিজ্ঞতা। ইঞ্জিন ছাড়া নৌকা ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায় পাওয়া যায়।
এছাড়া এখানে পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য বিশেষ কিছু ইঞ্জিন নৌকাও আছে। এগুলোর ভাড়া ঘণ্টাপ্রতি ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা। সংগ্রামপুঞ্জি, চা-বাগান, রাজার বাড়ি, পান-সুপারির বাগান বা ঝরনার রোমাঞ্চ উপভোগ করতে হলে নদীর ওপারে ছোট্ট বাজার পেরিয়েই অটো রিজার্ভ করে যেতে হবে। পিয়াইন নদীর ওপারে খাসিয়াদের ৬টি পুঞ্জি রয়েছে।
এখান থেকে শেয়ারে অটো, শ্যালোচালিত যানবাহন পাওয়া যায়। খাসিয়াদের উৎপাদিত পান-সুপারি, হস্ত বা কারুশিল্প এবং ভারতীয় অনেক জিনিসপত্র দরদাম করে অনেক সস্তায় পাওয়া যায় সংগ্রামপুঞ্জিসহ আরো কয়েকটি পুঞ্জিতে। দিনে দিনেই সবগুলো পুঞ্জি ঘুরে আসতে পারবেন।

কিভাবে যেতে হবে
সিলেট শহর থেকে ৫৬ কিলোমিটার দূরে জাফলং। বাস, ট্রেন বা উড়োজাহাজে সিলেটে যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সিলেটের বাসগুলো ছাড়ে। ভাড়া ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা। সিলেট নগরী থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাফলংয়ে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা বা লেগুনায় যাওয়া যায়। লোকাল বাসে ভাড়া ৬৫ টাকা। রিজার্ভ মাইক্রোবাসে ভাড়া ৩০০০-৩৫০০ টাকা।

থাকবেন কোথায়
সিলেটের জাফলং এলাকায় থাকার জন্য বিভিন্ন মান ও মূল্যের আবাসিক হোটেল রয়েছে; যেখানে নিরাপদে নির্বিঘেœ অবস্থান করা যায়। তারপরও পাঠকদের সুবিধার জন্য এখানে কয়েকটি হোটেলের নাম ও টেলিফোন নাম্বার দেয়া হলো: হোটেল রোজ ভিউ, ফোন: ০৮২১৭২১৪৩৯; দরগা গেটে হোটেল স্টার প্যাসিফিক, ফোন: ০৮২১-৭২৭৯৪৫; ভিআইপি রোডে হোটেল হিলটাউন, ফোন: ০৮২১৭১৬০৭৭; বন্দরবাজারে হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ফোন: ০৮২১-৭২১১৪৩; নাইওরপুলে হোটেল ফরচুন গার্ডেন ফোন: ০৮২১৭১৫৫৯০; জেল সড়কে হোটেল ডালাস, ফোন: ০৮২১৭২০৯৪৫; লিঙ্ক রোডে হোটেল গার্ডেন ইন, ফোন: ০৮২১৮১৪৫০৭; আম্বরখানায় হোটেল পলাশ, ফোন: ০৮২১৭১৮৩০৯; জিন্দাবাজারে হোটেল মুন লাইট, ফোন: ০৮২১৭১৪৮৫০; তালতলায় গুলশান সেন্টার, ফোন: ০৮২১৭১০০১৮ ইত্যাদি।