ফিচার

ছেলেদের ত্বক উজ্জ্বল করার টিপস

স্বদেশ খবর ডেস্ক
ছেলেদের ক্ষেত্রে শুধু রূপচর্চা করে ত্বক উজ্জ্বল করলেই চলবে না, সেই সাথে সঠিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া ও ব্যায়াম করতে হবে। কারণ সুঠাম, সুগঠিত শরীর আর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বকের মায়াবি সন্নিবেশই হচ্ছে ছেলেদের রূপ রহস্যের গোপন পাসওয়ার্ড।
সকাল থেকেই ছেলেদের বাইরের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয় যায়। তাদের ঘরের বাইরেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটাতে হয়। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, ধুলোবালির প্রলেপে ত্বকের রঙ তামাটে, রু ও ম্লান হয়ে যায়। ছেলেদের ত্বকের এ রুতা দূর করতে নিয়মিত যতেœর প্রয়োজন। এছাড়া পুরুষের ত্বক মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি পুরু। তাই মেয়েদের ত্বকচর্চা থেকে পুরুষদের রূপচর্চার ধরনটাই আলাদা।
ছেলেদের সবচেয়ে বেশি সমস্যার জায়গা হলো ভ্রুর রেখার ভাঁজ, চোখের কোলের ত্বকে কুঁচকে যাওয়া দাগ, ঝুলে পড়া গাল আর এবড়ো-থেবড়ো ছিদ্রযুক্ত অমসৃণ ত্বক। অবশ্য ত্বকের যতেœ ছেলেরা এখন অনেক সচেতন। পার্লার বা সেলুনগুলোতে তারা শুধু চুল কাটাতে নয়, এর পাশাপাশি চুল সাজানো, শ্যাম্পু, মেনিকিউর, ব্লিচ, ফেসিয়াল, বডি ম্যাসাজ, বডি প্যাকও করছেন। এই কারণে ছেলেদের রূপচর্চার জন্য গড়ে উঠেছে আলাদা পার্লার।

ছেলেদের ফেসিয়াল
ছেলেরা দিনের বেশিরভাগ সময়ে বাইরে কাটায়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে হাত মুখ ধুয়ে সানস্ক্রিন লোশন লাগিয়ে নেয়া উচিত। সাথের ব্যাগটিতে রাখতে হবে কোনো ফেসিয়াল বা ফেসওয়াশ।
ব্যস্ত শহরের যানজট আর ধুলোবালির মধ্য দিয়ে কর্মস্থলে পৌঁছে প্রথমেই ব্যাগে রাখা ফেসিয়াল বা ফেসওয়াশটি দিয়ে একটু হাত ও মুখ ধুয়ে নিলে কাজে মনোযোগ দেয়া যায় ভালো। ধুলোবালি ও ঘাম থেকেই সৃষ্টি হয় নাকের দুই পাশে, ঠোঁটের কোণে, থুতনির কাছে ব্ল্যাক-হেডসের মতো ত্বকের নানান সমস্যা।
যারা সারা দিনে হাত-মুখ পরিষ্কার করার সময় কম পান তাদের মাসে অন্তত একদিন ছেলেদের বিউটি সেলুনে গিয়ে ফেসিয়াল করানো উচিত। যাদের শুষ্ক ত্বক তারা সানবার্ন ফেসিয়াল করাতে পারেন। এটি রোদে পোড়া ত্বকের জন্যও উপকারী। যাদের ত্বক তৈলাক্ত তারা অ্যালোভেরা ও গোল্ড ফেসিয়াল করাতে পারেন। যাদের ত্বকে ব্রনের সমস্যা রয়েছে তারা আয়ুর্বেদিক ফেসিয়াল করালে উপকার পাবেন। আর যারা ঘরে বসে ত্বকের যতœ নিতে চান তারা রোদে পোড়া ভাব কমাতে চন্দনের প্যাক লাগাতে পারেন। এখন বাজারে নানা ধরনের স্ক্র্যাব পাওয়া যায়। এসব স্ক্র্যাব দুই-তিনদিন পরপর মুখে লাগিয়ে কিছু সময় মালিশ করে ধুয়ে ফেলুন। এছাড়া মাঝে মাঝে রাতে ঘুমানোর আগে উপটান লাগিয়ে কিছু সময় রেখে দিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকে ব্ল্যাক-হেডস থাকলে গরম পানিতে কিছু সময় ভাপ নিয়ে আস্তে আস্তে দুই আঙ্গুলের ডগা দিয়ে চেপে ব্ল্যাক-হেডস বের করতে পারেন।

বয়ঃসন্ধিতে ত্বকের যতœ
এই সময় হরমোনের তারতম্যের ফলে সাধারণত ত্বকে ব্ল্যাক-হেডস ও ব্রন বেশি হয়। বেড়ে ওঠার সময় এটি স্বাভাবিক। কিন্তু বেশিরভাগ েেত্র ছেলেরা এদিকে একদমই নজর দেয় না। অথচ একবার যদি ত্বকের সমস্যা বাড়তে শুরু করে তবে সেটিকে কমানো সাধ্যের বাইরে হয়ে যাবে।
মুখে এ জাতীয় কোনো গোটা দেখা দিলে তাতে নখ লাগানো মোটেও ঠিক নয়। যাদের মুখে ব্ল্যাক-হেডস আছে তারা কোনোভাবেই নখের সাহায্যে চাপ দিয়ে সেগুলো বের করার চেষ্টা করবেন না। চর্ম বিশেষজ্ঞ অথবা দ বিউটি এক্সপার্টের পরামর্শ নিন।
ব্ল্যাক-হেডস তোলার জন্য একটি ঘরোয়া পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ডাবের পানিতে অল্প কিছু চাল সারারাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে পানি ঝরিয়ে চাল বেটে নিন। বাটা চালের সঙ্গে পরিমাণমতো গোলাপ জল ও ২ থেকে ৩ ফোঁটা মধু মিশিয়ে ব্ল্যাক-হেডসের উপরে লাগান। কিছুণ পর আস্তে ঘষে ঘষে তুলে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। তবে ব্রনের ওপর এই মিশ্রণটি লাগাবেন না।

মধ্যবয়সী ছেলেদের ত্বকের যতœ
এই সময়ে সাধারণত ত্বকের প্রধান সমস্যা স্থিতিস্থাপকতা হারিয়ে ত্বক ঝুলে পড়ে। এজন্য ত্বকের বয়স ধরে রাখতে বিশেষ যতেœর প্রয়োজন। অক্সিজেন, আলট্রাসনিক, হাই ফ্রিকোয়েন্সি, ফেসিয়াল এেেত্র খুব ভালো কাজ দেয়। এ সময় চোখের নিচে ফোলা ভাবও দেখা দেয়। শরীরে ভেতর কোনো সমস্যা যেমন সাইনোসাইটিস বা কিডনির রোগ হলে এমনটা হতে পারে। এেেত্র অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
বেশি পরিমাণে পানি খেলে ত্বক ভালো থাকে। অল্প গরম পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
চোখের নিচের ত্বক অনেক পাতলা। তাই ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার লোশন ব্যবহার করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে আন্ডার আই ক্রিম লাগাতে পারেন।

চুলের যতœ
যদিও সুন্দর লম্বা চুলে মেয়েদেরই একচেটিয়া অধিকার আছে। তবে চুলহীন পুরুষও কারো কাম্য হতে পারে না। নারী-পুরুষ প্রত্যেকের কাছেই চুল শরীরের একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় অংশ। তাই নিয়মিত চুলের যতœ নেয়া প্রয়োজন।
সুন্দর চুলের অধিকারী হওয়ার জন্য পুরুষদেরও খানিকটা কষ্ট করতে হয়। চুলে নিয়মিত তেল দেয়া, চুল শ্যাম্পু করা, কন্ডিশনিং করা খুবই জরুরি। আর যদি সম্ভব হয় তবে সপ্তাহে অন্তত একদিন চুলে মেহেদি ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যাবে।