খেলা

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল: আশাবাদী মানুষ

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৭০ রানের বড় জয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এমন সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আফগানিস্তান-বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচে নিজ দেশের মাটিতে সাকিব বাহিনী যখন দেশের দর্শকদের হতাশ করেছে; ঠিক তখনই নারী ক্রিকেটারদের অর্জন বাংলাদেশের মানুষকে আশাবাদী করে তুলছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। ২০১৮ সালে হওয়া বাছাইয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়নরা এবারও সব ম্যাচেই জিতে শিরোপা নিয়ে দেশে ফিরেছে। ফাইনালে ওঠার পরই আগামী বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়েছিল। ফাইনালে থাইল্যান্ডের মেয়েদের ৭০ রানের বড় ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়াতে বাংলাদেশের অবশ্য কিছুটা অসুবিধাই হয়েছে। বেশ কঠিন গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ও স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপে খেলবে বাংলাদেশ। ২৪ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপে পার্থে প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশের মেয়েরা।
২০১৪ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো খেলার গৌরব অর্জন করে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল। ২০০৯ সাল থেকে মহিলা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের যাত্রা শুরুর পর সেটি ছিল চতুর্থ আসর। তবে প্রথমবারের ওই অংশগ্রহণে আয়োজক হিসেবে সরাসরি খেলার সুযোগ করে নেয় সালমা খাতুনের দল।
২০১৩ সালে যে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই হয়েছিল সেখান থেকে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। ২০১৫ সালে প্রথমবার বাছাই পর্বে খেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। কিন্তু থাইল্যান্ডে আয়োজিত আসরের ফাইনালে উঠলেও আয়ারল্যান্ড মহিলা দলের কাছে ২ উইকেটে হেরে শিরোপা জেতা হয়নি। তবে গত বছর হল্যান্ডে হওয়া বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সালমা খাতুনের দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। সেবার ফাইনালে আইরিশ মেয়েদের ২৫ রানে পরাজিত করে প্রতিশোধ নেয় সালমারা।
এবার স্কটল্যান্ডে আয়োজিত বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাপুয়া নিউগিনি ও স্বাগতিক স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই ২০২০ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত হয়ে যায়। বাকি ছিল শিরোপা ধরে রাখার লড়াই। এবার আর আইরিশ মেয়েরা আসতে পারেনি ফাইনালে। বাংলাদেশের প্রতিপ এবার থাইল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলার গৌরব অর্জন করেছে থাই মেয়েরা। তবে ফাইনালে বাংলাদেশি স্পিনারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি তারা।
বাছাই পর্বের আগে অনুশীলন ম্যাচেও দুইবার বাংলাদেশের কাছে হেরে যায় থাইল্যান্ড। ফাইনালেও আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ দল ৫ উইকেটে ১৩০ রান করার পর নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে মাত্র ৬০ রান করতে পেরেছে থাইল্যান্ড। ফলে টানা দ্বিতীয়বার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েই বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে যাচ্ছে সালমারা।
নিজেদের চতুর্থ এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েদের প্রথম ম্যাচ ২৪ ফেব্রুয়ারি। পার্থে এশিয়ার প্রতিপ ভারতের বিপে সেই ম্যাচটির পর ২৭ ফেব্রুয়ারি স্বাগতিক ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপে ক্যানবেরার মানুকা ওভালে দ্বিতীয় ম্যাচ। এরপর মেলবোর্নের জাংশন ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপে ২৯ ফেব্রুয়ারি এবং একই ভেন্যুতে ২ মার্চ আরেক এশিয়ান প্রতিপ শ্রীলঙ্কার বিপে এ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ মহিলা ক্রিকেট দল।
২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল খেলেছে। সবমিলিয়ে এই তিন আসরে ১৩ ম্যাচ খেলে মাত্র ২ জয় আছে সালমাদের, বাকি ১১ ম্যাচেই হারতে হয়েছে। সে কারণেই কখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি বাংলাদেশ। আগামী বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বটা পেরিয়ে যাওয়া কঠিন হবে বলে মনে হয়। কারণ গ্রুপ পর্বের অপর ৪টি দল যে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা।
অপরদিকে থাই মেয়েদের জায়গা হয়েছে বি গ্রুপে ইংল্যান্ড, দণি আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের সঙ্গে। বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডকে আগামী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগত জানিয়ে আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী নিক হকলে এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডকে ২০২০ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা রোমাঞ্চিত। আশা করছি, যেসব সমর্থক এখানে (অস্ট্রেলিয়া) আছেন আর বাইরে থেকেও অনেকেই প্রচুর সমর্থন দেবেন এ দুটি দলকে।