প্রচ্ছদ প্রতিবেদন প্রতিবেদন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল ও গতিশীল নেতৃত্বে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বিশ্বসেরা বাংলাদেশ

মেজবাহউদ্দিন সাকিল
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নীতি সংক্রান্ত কমিটি (সিডিপি) গত বছরের ১৫ মার্চ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের জন্য মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক Ñ এ তিনটি সূচকের যেকোনো দুটি অর্জনের শর্ত থাকলেও বাংলাদেশ ৩টি সূচকের মানদ-েই উন্নীত হয়েছে।
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) মানদ- অনুযায়ী এেেত্র একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হবে কমপে ১ হাজার ২৩০ ডলার। বাংলাদেশের এ অর্জন অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাঁড়াবে ১ হাজার ৯০৯ ডলার, যা গত অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৭৫১ ডলার।
মানবসম্পদ সূচক ৬৬ ভাগ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ অর্জন করেছে ৭২ দশমিক ৯ ভাগ। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচক হতে হবে ৩২ ভাগ বা এর কম, যেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২৪ দশমিক ৮ ভাগ।
এসবের পাশাপাশি গত ২৯ আগস্ট ‘দ্য স্পেক্টেটর ইনডেক্স’ প্রকাশিত বিশ্বের ২৬টি দেশের তথ্যের ভিত্তিতে শীর্ষ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে বিশ্বসেরা বলা হয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ ১৮৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অন্যান্য দেশের মধ্যে চীন ১৭৭ ভাগ, ভারত ১১৭, ইন্দোনেশিয়া ৯০, মালয়েশিয়া ৭৮, অস্ট্রেলিয়া ৪১ এবং ব্রাজিল ১৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। দেখা যাচ্ছে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিক থেকে চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত অর্থনীতির দেশকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের রূপকল্পÑ২০২১ বাস্তবায়নে এসব বড় অর্জন বলে বিবেচিত। এলডিসিভুক্ত দেশ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ, মাথাপিছু আয় প্রায় ২ হাজার ডলারে নিয়ে যাওয়া, মানবসম্পদ সূচককে ৭৩ ভাগে উন্নীতকরণ, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচককে ২৪ ভাগে নামিয়ে আনা এবং শীর্ষ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে বিশ্বসেরা বানানো Ñ এসবের পেছনে রয়েছে এক বন্ধুর পথ পাড়ি দেয়ার ইতিহাস। এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের কারণে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর ও উল্লেখযোগ্য সামাজিক অগ্রগতির মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
স্মরণ করা যেতে পারে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উন্নয়ন টার্গেট নির্ধারণ করে দেশ পরিচালনা শুরু করে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার ল্য নির্ধারণ করে সামনের এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় জন্মের ৫০ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যারিসম্যাটিক নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ দ্রুতগতিসম্পন্ন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎপেণের মতো সফলতা দেখিয়েছে। শেখ হাসিনা তাঁর গতিশীল নেতৃত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দিয়ে এমডিজি অর্জন করেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নে এগিয়ে চলেছেন, শিা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, কৃষি, দারিদ্র্যসীমা হ্রাস, গড় আয়ু বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি, পোশাক শিল্প, ওষুধ শিল্প, রপ্তানি আয় বৃদ্ধিসহ নানা অর্থনৈতিক সূচকে বিস্ময়কর উন্নতি দেখাচ্ছেন। পদ্মাসেতু, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, মেট্রোরেলসহ দেশের মেগা প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে শেখ হাসিনার দূরদর্শী সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

বাংলাদেশের অর্জন
ুদ্র আয়তনের একটি উন্নয়নশীল দেশ হয়েও বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সারা বিশ্বের কাছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের নিবিড় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ুদ্র ঋণের ব্যবহার এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে তার ভূমিকা, জনবহুল দেশে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুতা আনয়ন, বৃরোপণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রভৃতি েেত্র অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ৩০ ল শহীদের রক্তের বিনিময়ে জন্ম নেয়া এই বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে আসতে অতিক্রম করতে হয়েছে হাজারো প্রতিবন্ধকতা। যুদ্ধবিধ্বস্ত, প্রায় সর্বেেত্র অবকাঠামোবিহীন সেদিনের সেই সদ্যজাত জাতির ৪৮ বছরের অর্জনের পরিসংখ্যানও নিতান্ত অপ্রতুল নয়। সহস্রাব্দ উন্নয়ন ল্যমাত্রার ৮টি ল্েযর মধ্যে শিা, শিশুমৃত্যুর হার কমানো এবং দারিদ্র্য হ্রাসকরণের েেত্র বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য উন্নতি প্রদর্শন করতে সম হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, কিছু কিছু েেত্র বিশ্বকে চমকে দেয়ার মতো সাফল্য আছে বাংলাদেশের। বিশেষত শিা সুবিধা, নারীর মতায়ন, মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার কমানো, গরিব মানুষের জন্য শৌচাগার ও স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান এবং শিশুদের টিকাদান কার্যক্রম অন্যতম।

শিাখাতে অর্জন
শিাকে সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সরকারের নেয়া পদপেসমূহের অন্যতম হলো শতভাগ ছাত্রছাত্রীর মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ কার্যক্রম। নারীশিাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি ব্যবস্থা। বর্তমান ২৬ হাজার ১৯৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নতুন করে জাতীয়করণ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিকের চাকরি সরকারীকরণ করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া শিশুর শতকরা হার ছিল ৬১, বর্তমানে তা উন্নীত হয়েছে শতকরা ৯৭.৭ ভাগে। শিার সুবিধাবঞ্চিত গরিব ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের শিা নিশ্চিত করার ল্েয ‘শিা সহায়তা ট্রাস্ট আইন, ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে, গঠন করা হয়েছে ‘শিা সহায়তা ট্রাস্ট’।

স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম আদর্শ দেশ হিসেবে তার স্থান করে নিয়েছে। স্বাস্থ্য খাতকে যুগোপযোগী করতে প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য নীতিমালা-২০১১’। তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গড়ে তোলা হয়েছে ১২ হাজার ৭৭৯টি কমিউনিটি কিনিক। ৩১২টি উপজেলা হাসপাতালকে উন্নীত করা হয়েছে ৫০ শয্যায়। মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে ২ হাজার শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মাতৃ ও শিশু মৃত্যুহার ও জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ১৯৯০ সালে নবজাতক মৃত্যুর হার ১৪৯ থেকে নেমে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৩তে। স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ল্যকে সামনে রেখে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ১২টি মেডিকেল কলেজ, নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৪৭ হাজারেও বেশি জনশক্তি।

নারী ও শিশু উন্নয়নে অর্জন
নারীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা-২০১১’। নারী শিাকে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত চালু করা হয়েছে উপবৃত্তি কার্যক্রম। সমাজের প্রতিটি স্তরে নারী অংশগ্রহণকে নিশ্চিত করতে গৃহীত হয়েছে নানামুখী পদপে। প্রযুক্তি জগতে নারীর প্রবেশকে সহজ করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল কেন্দ্রের মতো ইউনিয়নভিত্তিক তথ্যসেবায় উদ্যোক্তা হিসেবে একজন পুরুষের পাশাপাশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে একজন নারী উদ্যোক্তাকেও। ‘জাতীয় শিশু নীতি-২০১১’ প্রণয়নের মাধ্যমে সুরতি করা হয়েছে শিশুদের সার্বিক অধিকারকে। ৪০টি জেলার সদর হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপন করা হয়েছে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল। দুস্থ, এতিম, অসহায় পথ-শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ১৫টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের নারী ও শিশুর উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভূষিত করা হয়েছে জাতিসংঘের সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ডে।

নারীর মতায়নে অর্জন
নারী বঞ্চনার তিক্ত অতীত পেরিয়ে বাংলাদেশ নারীর মতায়নে অনেক দূর এগিয়েছে। পোশাকশিল্পে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। এই শিল্পের সিংহভাগ কর্মী হচ্ছে নারী। বাংলাদেশে গ্রামীণ উন্নয়নে ও নারীর মতায়নে ুদ্র ঋণ অভূতপূর্ব অবদান রেখেছে। আর ুদ্র ঋণ গ্রহীতাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের ওপর নারী। বাংলাদেশ সরকার নানাভাবে নারী উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা দিয়ে এসেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন
ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার নিয়েছে যুগান্তকারী সব পদপে। তৃণমূল পর্যায়ে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি সেবা পৌঁছে দেয়ার অভিপ্রায়ে দেশের ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বিশাল ন্যাশনাল ওয়েব পোর্টাল। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত এ পোর্টালের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। দেশের সব উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। টেলিযোগাযোগের েেত্র নেয়া বিভিন্ন পদেেপর কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ ল এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লে উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পাদন করার বিষয়টিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছে। ৪-জি প্রযুক্তির মোবাইল নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

কৃষিতে কৃতিত্ব এবং খাদ্যে
স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন
কৃষি খাতে অভূতপূর্ব কিছু সাফল্যের জন্য বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ বারবার আলোচিত হয়েছে। ১৬ কোটি জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে ধানের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫০ ল মেট্রিক টন। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম আবিষ্কার করেছেন পাটের জিনোম সিকুয়েন্সিং। সারা বিশ্বে আজ পর্যন্ত মাত্র ১৭টি উদ্ভিদের জিনোম সিকুয়েন্সিং হয়েছে, তার মধ্যে ড. মাকসুদ করেছেন ৩টি। এই অনন্য অর্জন বাংলাদেশের মানুষকে করেছে
গর্বিত।

প্রবাসী শ্রমিকদের উন্নয়নে অর্জন
বর্তমানে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে বাংলাদেশের ১ কোটির বেশি শ্রমিক কর্মরত আছে। বিদেশে শ্রমিক প্রেরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ স্থাপন করেছে অনন্য দৃষ্টান্ত। স্বল্প সুদে অভিবাসন ঋণ প্রদানের ল্েয প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক স্থাপন করে দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে এর শাখা স্থাপন করা হয়েছে। এই ব্যাংকের মাধ্যমে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫০ কোটি টাকারও বেশি অভিবাসন ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সারাদেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিদেশ গমনেচ্ছু জনগণকে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণকেও এ সেবা গ্রহণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের হয়রানি ছাড়াই স্বল্প ব্যয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমিকরা যেতে পেরেছে।

জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ
১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তি মিশনে যোগদানের পর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৩৯টি দেশের ৬৪ শান্তি মিশনে খ্যাতি ও সফলতার সাথে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ যাবৎকালে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী ১১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সর্বাগ্রে।
বিদ্যুৎ খাতে সাফল্য
বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সংযোজন, যার ফলে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। বিদ্যুতের সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৮৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ ২২০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা থেকে বেড়ে ৩৪৮ কিলোওয়াট/ঘণ্টায় দাঁড়িয়েছে। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে ৩৫ ল গ্রাহককে। নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ৬৫টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

শিল্প ও বাণিজ্য খাতে অর্জন
বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের পাশাপাশি প্রসার ঘটেছে আবাসন, জাহাজ, ওষুধ, ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাদ্য শিল্পের। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের তালিকায় যোগ হয়েছে জাহাজ, ওষুধ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী। বাংলাদেশের আইটি শিল্প বহির্বিশ্বে অভূতপূর্ব সুনাম কুড়িয়েছে। আর আইটি শিল্পে ইতোমধ্যে ১০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় ছাড়িয়ে গেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্জন
হতদরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বিস্তৃত করতে বয়স্ক, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্ত ও দুস্থ মহিলা ভাতা, অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃকালীন ভাতাসহ ভাতার হার ও আওতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০০৮-০৯ সালে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ১৩ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, বর্তমানে যার পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। খানা আয়-ব্যয় জরিপের সমীায় দেখা গেছে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৪.৫ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত।

ভূমি ব্যবস্থাপনায় অর্জন
ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করতে ৫৫টি জেলায় বিদ্যমান মৌজা ম্যাপ ও খতিয়ান কম্পিউটারাইজেশনের কাজ সম্পন্ন করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ভূমির পরিকল্পিত ও সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে মোট ২১টি জেলার ১৫২টি উপজেলায় ডিজিটাল ল্যান্ড জোনিং ম্যাপ সংবলিত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রণীত হয়েছে ‘কৃষি জমি সুরা ও ভূমি ব্যবহার আইন, ২০১২ এর খসড়া’।

মন্দা মোকাবিলায় সাফল্য
মন্দার প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনীতি যখন বিপর্যস্ত ছিল বাংলাদেশ তখন বিভিন্ন উপযুক্ত প্রণোদনা প্যাকেজ ও নীতি সহায়তার মাধ্যমে মন্দা মোকাবিলায় শুধু সমই হয়নি, জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার গড়ে সাড়ে ৬ শতাংশের বেশি বজায় রাখতেও সম হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির শ্লথ ধারার বিপরীতে আমদানি-রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে রেমিট্যান্সের পরিমাণ। ঋণ পরিশোধে সমতার মানদ-ে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামের সমকতা অর্জিত হয়েছে।

শেষ কথা
কয়েক বছর ধরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ। ৬ অংকের বৃত্ত ভেঙে জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখন ৮-এর ঘরে অবস্থান করছে। রূপকল্প-২১ সামনে রেখে এই জিডিপি দুই অংকের ঘরে পৌঁছানোর ল্যমাত্রা রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এ ল্েয রপ্তানি বাড়াতে সব ধরনের পদপে নেয়া হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন বাড়াতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসছে দেশে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার।
চলতি অর্থবছর (২০১৮-১৯) শেষে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে দণি এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে যৌথভাবে শীর্ষে থাকবে বাংলাদেশ ও ভারত। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ল্যমাত্রার চেয়ে বেশি জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে যাচ্ছে। গত অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যমতে, অর্থবছর শেষে এই প্রবৃদ্ধি হয় ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। এছাড়া চলতি অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির ল্যমাত্রা ৮ দশমিক ২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনেক সাফল্যের পথ বেয়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধির এই অর্জন এসেছে। দুই অংকের ঘরে জিডিপি হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। শীর্ষ ধনী দেশগুলোর কাতারে থাকবে এদেশের নাম। বাংলাদেশ দুই অংকের ঘরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে যাওয়ার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশে উন্নীত করা।
তিনি আরো বলেছেন, সরকারের ল্য রয়েছে ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে ৩ কোটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
গত ১০ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে উচ্চ হার বজায় থাকায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ প্রবৃদ্ধির হার দুই অংকে উন্নীত করার জন্য ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের ল্য, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত
দেশে পরিণত করা। গত ৫ বছরে বাংলাদেশের মতো ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি বিশ্বের অন্য কোনো দেশ। সে হিসাবে দেশের অগ্রযাত্রার যে গতি পরিলতি হচ্ছে, তাতে আশা করা যায় ২০৪১ সালের আগেই আমরা উন্নত দেশ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পারব।