প্রতিবেদন

বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালনায় কমিউনিটি ব্যাংকের যাত্রা শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের পরিচালনায় কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড তফসিলি ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ সেপ্টেম্বর গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ব্যাংকটির কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
পুলিশের জন্য বিশেষায়িত নতুন এই ব্যাংক নিয়ে দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৯টিতে। পদাধিকারবলে কমিউনিটি ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী।
কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মশিহুল হক চৌধুরী জানান, প্রাথমিকভাবে রাজধানীর পুলিশ প্লাজা কনকর্ডের করপোরেট শাখার পাশাপাশি মতিঝিল, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
৪০০ কোটি টাকা অনুমোদিত এবং ১০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে গঠিত কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ১ নভেম্বর ব্যাংকটি তফসিলি ব্যাংক হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়।
পুলিশ বাহিনীর জন্য তফসিলি ব্যাংক উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ সদস্যদের জীবনমানের উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে যাতে ভালো থাকতে পারে। সে কারণেই আমি ট্রাস্ট (পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট) গঠন করে দিয়েছিলাম। পাশাপাশি তাদের যদি শিা বা চিকিৎসার জন্য কোনো সাহায্য প্রয়োজন হয়, সে সুবিধাটা এই ট্রাস্ট থেকে করে দিয়েছি। এবার আমরা ব্যাংক করে দিলাম।
এর আগে সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি ও আনসার-ভিডিপিকে ব্যাংক দেয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, পুলিশ বাহিনীর জন্য বাকি ছিল, সেটাও করে দিলাম।
সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করে যাওয়ায় পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ বাহিনী দতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, মানুষের একটা আস্থা, বিশ্বাসের জায়গা সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশকে দেয়া সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কনস্টেবল থেকে এসআই পর্যন্ত ঝুঁকি ভাতা চালু করেছি। দেশের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো পুলিশকে করতে হয়। পুলিশের জন্য যেখানে যতটুকু কাজ করা দরকার আমরা করে যাচ্ছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশের জন্য গাড়ি, মোটরসাইকেল, এমনকি চাকরিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি সার্বিকভাবে সবার বেতন আমরা বৃদ্ধি করেছি। একসঙ্গে একবারে এত বেতন বৃদ্ধি পৃথিবীর কোথাও নেই, আমরা পুলিশ বাহিনীর জন্য সেটা করে দেখিয়েছি। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমাদের পুলিশ বাহিনী আরও দ হয়ে গড়ে উঠুক। ১৯৯৬ সালে মতায় থাকাকালে আমি স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দিই। চিকিৎসার জন্য রাজারবাগে হাসপাতাল নির্মাণ করে দিয়েছি। শতভাগ রেশনের ব্যবস্থাও আমরা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, পৃথিবী যতটা এগিয়ে যাচ্ছে, অপরাধের ধরনও তত পাল্টাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্রাইম এখন হচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য পুলিশের দতা অর্জনে আমরা বিভিন্ন পদপে নিচ্ছি এবং আধুনিক প্রযুক্তির শিার ব্যবস্থা করছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বব্যাপী এটা একটা বড় সমস্যা। আমাদের দেশে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটল। হলি আর্টিজান বা শোলাকিয়ার ঘটনায় সবার আগে কিন্তু পুলিশই ছুটে গেছে এবং জীবনও দিয়েছে। এছাড়া আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পুলিশের ওপরও আক্রমণ হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে পুলিশের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কারণ জাতিসংঘের শান্তিরা মিশনে আমাদের পুলিশকে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে চলতে হয়। জাতিসংঘ শান্তিরা মিশনে সবচেয়ে ভালো কাজ করছে আমাদের নারী পুলিশ। সেখানে তাদের চাহিদা বাড়ছে। আমি যখন জাতিসংঘে যাই, তখন জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আমাকে বার বার অনুরোধ করেন, আমি যেন আরও অধিকসংখ্যক নারী পুলিশ পাঠাই। এ অবস্থান সৃষ্টির জন্য আমি বাংলাদেশ পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। জাতির জনকই প্রথম মেয়েদের পুলিশে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়, সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকের জন্য ছেলে মাকে মেরে ফেলছে, ভাই ভাইকে মেরে ফেলছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, অভিযান চলবে এবং অভিযান আরও বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমিউনিটি ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজারবাগ পুলিশ অডিটরিয়ামে উপস্থিত পুলিশ সদস্য এবং কমিউনিটি ব্যাংকের গুলশান শাখার সঙ্গে মতবিনিময় করেন।