কলাম

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে জাতিসংঘের কার্যকর হস্তক্ষেপ দরকার

বাংলাদেশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া দুই দফা পিছিয়ে গেছে। রোহিঙ্গারা এখন নিজ দেশে ফিরে যেতে চাচ্ছে না। বরং তারা ৫ দফা শর্ত দিয়ে বলছে, এই শর্তগুলো পূরণ হলেই কেবল তারা ফিরে যাবে।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রোহিঙ্গারা দলে দলে নাফ নদী পেরোতে থাকলে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ মানবিক কারণে তাদের আশ্রয় দেয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় জাতিসংঘসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করে। কিন্তু এখন ২ বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অনিশ্চয়তা কাটেনি। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা একের পর এক শর্তারোপ করলেও জাতিসংঘসহ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারকে কার্যকরভাবে চাপ না দিয়ে উল্টো বাংলাদেশকে বলছে, পরিবেশ উন্নত না হলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো ঠিক হবে না।
বাংলাদেশের দিকে রোহিঙ্গাদের ঢল নামার পর থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ অবশ্য এই ইস্যুতে সরব রয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত মানবাধিকার পরিষদের ৬টি নিয়মিত অধিবেশনেই। এ ছাড়া একটি বিশেষ অধিবেশন হয়েছে রোহিঙ্গা নিপীড়নের পটভূমিতে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিষয়ে মিয়ানমারকে জবাবদিহির আওতায় আনার ল্েয বিশেষ কাঠামো, স্বাধীন আন্তর্জাতিক সত্যানুসন্ধানী মিশন গঠন এবং মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত নিয়োগ দেয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সব উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে মিয়ানমার ইস্যুতে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হলেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে কোনো প্রস্তাব গৃহীত হতে দেখা যায়নি।
তবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ বেশকিছু উদ্যোগ নিলেও সংস্থাটির নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে চীনের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ বা আপত্তির কারণে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এখনও কঠিন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি জাতিসংঘ। দৃশ্যত বিশ্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত নিরাপত্তা পরিষদের কয়েকটি স্থায়ী সদস্যের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে জিম্মি হয়ে আছে। আরো স্পষ্টভাবে বললে, স্থায়ী সদস্য চীনের কারণেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। আশা করা হচ্ছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। কারণ জাতিসংঘের বোঝা উচিত, চীন-মিয়ানমার যেমন তার সদস্য রাষ্ট্র, বাংলাদেশও তার সদস্য রাষ্ট্র। জাতিসংঘ শুধু চীন-মিয়ানমারের স্বার্থ দেখবে, বাংলাদেশের দেখবে না, এটা তো হয় না। বিশ্বসংস্থা হিসেবে তাকে বাংলাদেশের স্বার্থও দেখতে হবে। আমরাও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের কার্যকর হস্তক্ষেপ চাই।