প্রতিবেদন

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি)। বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাপক প্রশংসা করেন সিপিসি নেতৃবৃন্দ।
চীনের গুইচৌ প্রদেশের চোনি শহরে সিপিসি স্কুলের সম্মেলন কে চীন সফররত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল ও সিপিসি নেতাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে চীনা নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারের এ প্রশংসা করেন।
চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ তাদের ভাষণে বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনে চীনের পাশাপাশি বাংলাদেশ যে সংগ্রাম করে যাচ্ছে তা প্রশংসনীয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে তাতে ল্য অনুযায়ী বাংলাদেশ সফল হবে।
সেমিনারে সিপিসি নেতারা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং কর্তৃক চীনের দারিদ্র্য বিমোচনে গৃহীত বিভিন্ন পদপে ও কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, আমরা আশা করি, এসব কর্মসূচি শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশেও বাস্তবায়ন করছে বা করবে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রকল্প তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আশা করে ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাবে।
পরে দুই পরে নেতারা আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ে দুই দেশের দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে।
আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলের নেতা আবদুল মতিন খসরু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তিনি দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের সরকারের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্যতম ল্য দারিদ্র্য বিমোচন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে বেশকিছু আর্থসামাজিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এসব পদেেপর ফলে গত দশ বছরে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২২ শতাংশে নেমে এসেছে। দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোটায় নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বেশকিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে ‘আমার বাড়ি, আমার খামার’ প্রকল্পে। এই প্রকল্পের মূল ল্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী ৭০ শতাংশ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দেয়া। ‘ুদ্র ঋণ নয়, ুদ্র সঞ্চয়’-এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার শেখ হাসিনার এই ধারণা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এনজিওদের প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে নিজস্ব অর্থে আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই এর মূল ল্য। প্রকল্পের ধারণা অনুযায়ী প্রতি গ্রামে ৬০টি পরিবার নিয়ে গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা (ভিডিও) গঠন করা হচ্ছে। ২০২০ সালে সারাদেশে এমন ১ লাখ সংস্থা গঠনের কাজ শেষ হবে। এসব সংস্থায় যুক্ত হবে ৬ লাখ পরিবার। পর্যায়ক্রমে পুরো বাংলাদেশকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গঠন করা হয়েছে পল্লী উন্নয়ন ব্যাংক। যেকোনো কৃষক মাত্র ১০ টাকায় ওই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন।
প্রকল্পের ধারণাপত্রে বলা হয়, প্রতি সদস্য মাসে ২০০ টাকা ব্যাংকে জমা দেবে। সরকারের প থেকে জমা দেয়া হবে আরও ২০০ টাকা। এতে সদস্যদের একটি নিজস্ব পুঁজি দাঁড়াবে। এই পুঁজি কাজে লাগিয়ে সংস্থাগুলো প্রশিণ, বিনিয়োগ, আয় বৃদ্ধির কর্মসূচি পরিচালিত করতে পারবে। গড়ে তুলতে পারবে ুদ্র খামার। বিনিয়োগ করতে পারবে ব্যবসাবাণিজ্যে। আওয়ামী লীগ সরকার মনে করে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে দ্রুত দারিদ্র্য হ্রাস পাবে।
এর আগে সিপিসির প থেকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ঘোষিত দারিদ্র্য বিমোচনের একটি মডেল উপস্থাপন করা হয়। এটি উপস্থাপন করেন সিপিসি নেতা লিং হোন। এতে বলা হয়, সি চিনপিংয়ের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির ৬টি প্রধান দিকনির্দেশনা রয়েছে। এর প্রথমটি হচ্ছে, কে দরিদ্র এবং কেন দরিদ্র তা খুঁজে বের করা। এ জন্য দরিদ্র এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন করে সরকার ও দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দারিদ্র্যের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করেন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনে দেখানো হয়, প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিজেও দারিদ্র্য কবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন।
সাধারণত চীনের পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে দারিদ্র্যের হার বেশি। একেক এলাকায় দারিদ্র্যের কারণেও ভিন্নতা রয়েছে। তাই ঠিক কারণটি নির্ধারণ করে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দারিদ্র্য বিমোচনের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। সরকার ও দলের মাঠ পর্যায়ের নেতাদের সমন্বয়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের ল্য প্রতিটি নাগরিকের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা। এসব পদেেপর ফলে চীনে দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে। সিপিসি আশা করে, আগামী ২০২০ সালের মধ্যে চীন সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত হবে।
সেমিনারে সিপিসির পে আলোচনায় অংশ নেন লিং হোন এবং সি ইউ পো ছাড়াও সিএ ইউ চৌ, ইয়ান চেন ইউ, চং ইউ লান প্রমুখ।
সেমিনারে দুই পরে পারস্পরিক প্রশ্নে উঠে আসে দুই দলের কাঠামো ও কর্মপন্থা। বিভিন্ন প্রশ্নে সিপির নেতারা জানান, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক হচ্ছে সিপিসির পলিট ব্যুরো। সরকার এই নীতি বাস্তবায়ন করে। নীতি বাস্তবায়নে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা দায়ভুক্ত থাকেন। প্রাদেশিক কমিটি দায়ভুক্ত থাকে নীতি বাস্তবায়ন পর্যবেণে। সরকারের নানা সংস্থা নীতি বাস্তবায়ন করে থাকে। গ্রাম পর্যায়ে দলের কমিটি গঠন করা হয় সরাসরি সাধারণ মানুষের ভোটে। পরবর্তী পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কমিটি নির্বাচিত হয় দলীয় সদস্যদের ভোটে।
সেমিনার শেষে সিপিসির প থেকে সি ইউ পো আওয়ামী লীগ প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আশা করি, উন্নয়ন সহযোগী দুই রাষ্ট্র বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার হবে।