রাজনীতি

২০-২১ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল: ব্যস্ত সময় পার করছেন দলীয় নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় কাউন্সিল আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিল আয়োজন নিয়ে ক্রমেই সরব হয়ে উঠছে দলটি। দলের সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর নেতাকর্মীরা প্রত্যাশিত পদ-পদবির জন্য দলের শীর্ষ পর্যায়ে দেনদরবারে ব্যস্ত।
আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের আগেই ৭৭টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন শেষ করার বিষয়ে দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। দলের ৮ জন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন স্বদেশ খবরকে জানিয়েছেন, ২০-২১ ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তারা সাংগঠনিক জেলা সম্মেলন শেষ করার বিষয়ে দলের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ।
আগামী কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের বঞ্চিত নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। বঞ্চিত নেতাদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে মত দিয়েছে দলটির হাইকমান্ড। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়নের ল্েয ঢাকাসহ দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
এবার আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় কাউন্সিলে ক্ষমতাসীন দল ও সরকার যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে না যায়, সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলকে সাজাতে কাজ করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
জানা যায়, এবার একই ব্যক্তি দল ও সরকারে থাকবেন না; যিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন তিনি দলের দায়িত্বশীল পদে থাকবেন না। আবার যিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকবেন তিনি সরকারের কোনো লাভজনক পদে থাকবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দল ও সরকার দু’টোকেই সক্রিয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এবার দলীয় কাউন্সিলে এ নীতি বাস্তবায়ন করতে চান। তাই সরকার থেকে দলকে আলাদা করা প্রাধান্য পাবে এবারের কাউন্সিলে।
পাশাপাশি যেসব নেতা টানা তৃতীয় মেয়াদেও বঞ্চিত হয়েছেন তাদের মূল্যায়নে আসন্ন কাউন্সিলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন চেয়ে পাননি, সরকারের লাভজনক কোনো পদে বসেননি কিংবা আর্থিক সুবিধা ভোগ করেননি Ñ এমন নেতাদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
আসন্ন কাউন্সিলে তরুণদের স্থান পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তরুণ ও প্রবীণদের সমন্বয়ে দলের আগামী নেতৃত্ব সাজাতে চান। তবে কমিটিতে স্থান দেয়ার েেত্র আওয়ামী লীগ সবসময় ৩টি যোগ্যতা বিবেচনায় নেয়। প্রথমত, দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা; দ্বিতীয়ত, দলে গ্রহণযোগ্যতা; তৃতীয়ত, যে কাজটি তাকে দেয়া হবে তা তিনি সঠিকভাবে করতে পারবেন কি না। দেখা গেছে, এই ৩টির মধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়ার বিষয়ে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়।
সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দলটির গঠনতন্ত্র অনুসারে, আগামী অক্টোবরে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তবে দেশে সাম্প্রতিক ডেঙ্গু ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে কিছুটা সময় পিছিয়ে ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দলের পরবর্তী জাতীয় সম্মেলন। এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে টানা তিন মেয়াদে মতায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বড় ধরনের রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কারা আসবেন, এর একটা প্রতিফলন থাকবে এই কমিটিতে। তরুণ ত্যাগী নেতাদের অনেককেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান দেয়া হবে।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন আসতে পারে বলে জোর গুঞ্জন আছে। প্রচার সম্পাদক পদেও পরিবর্তনের জোর আভাস মিলছে। দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভাবের কারণে ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকার কারণে এবার দলীয় পদ থেকে ওবায়দুল কাদেরকে সরিয়ে দেয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে দলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানককে আওয়ামী লীগের নতুন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কারণ জাহাঙ্গীর কবির নানক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা কিংবা বরিশালÑ কোনো আসন থেকেই মনোনয়ন পাননি। এমপি না হলেও তাঁকে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী বানানো হবে শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রীও হতে পারেননি। সে সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাহাঙ্গীর কবির নানককে ডেকে বড় কোনো দায়িত্ব নেয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন। সেই বড় দায়িত্বটিই হতে পারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার দায়িত্ব। তবে এ পদে দলের আরেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের নামও শোনা যাচ্ছে।
অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন ড. হাছান মাহমুদ। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের একটি আসন থেকে এমপি পদে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দলের প্রচার সম্পাদকের কাজটি সঠিকভাবে করতে পারছেন না।
জানা গেছে, সরকার থেকে দলকে আলাদা করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই পদে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এক্ষেত্রে জাহাঙ্গীর কবির নানক অথবা মাহবুব-উল আলম হানিফ হচ্ছেন ওবায়দুল কাদেরের স্থলাভিষিক্ত। আর ফজলে নূর তাপস এমপি ড. হাছান মাহমুদের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
তাছাড়া আসন্ন কাউন্সিলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে কারা নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানা গেছে। এটি মাথায় রেখে নতুন কমিটি সাজানোর চিন্তাভাবনা চলছে। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে দলকে আরো বেশি যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারবেন – এমন তরুণ ও মেধাবী নেতাদের এবারকার কাউন্সিলে অধিক গুরুত্ব দেয়া হবে।