ফিচার

এখনও বেশ কার্যকর প্রাচীনকালের রূপচর্চা

স্বদেশ খবর ডেস্ক
প্রাচীনকালে এখনকার মতো এত গ্ল্যামারাস রূপচর্চা সামগ্রী ছিল না। আর যা ছিল তা হয়ত সৌন্দর্যপিপাসু নারীদের নাগালের মধ্যেও ছিল না। আপনি আপনার দাদি বা নানির সাথে গল্প করলে জানতে পারবেন তারা কী দিয়ে তাদের সৌন্দর্য ধরে রেখেছিলেন!
প্রাচীনকালের উপকরণ আজও ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের রূপচর্চায়। প্রাচীন সেই রূপচর্চার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে সব কিছুই ন্যাচারাল এবং সস্তা। স্বদেশ খবর পাঠকদের সে যুগের কিছু উপকরণের কথাই জানাবো, যা বর্তমান সময়েও প্রচুর পরিমাণে ব্যবহার হয়। চলুন জেনে নিই সৌন্দর্যচর্চার সেই প্রাচীন পন্থাগুলো-

তৈলাক্ত ত্বকের যতেœ গমের আটার ব্যবহার
তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কার করার প্রধান উপাদান ছিল গমের আটা। গমের আটার সাথে দুধ বা পানি মিশিয়ে তৈরি পেস্ট তৈলাক্ত ত্বক পরিষ্কারে বেশ উপকারী।

মধুর ফেইসপ্যাক
প্রাচীনকাল থেকে রূপচর্চায় মধুর গুণাগুণ অতুলনীয়। মধুর ফেইসপ্যাক ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে, যা আপনি নিমিষেই ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

কাঁচা হলুদের ব্যবহার
হলুদে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল অ্যান্টিসেপটিক এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টাল উপাদান, যা মুখের দাগ দূর এবং ব্রন প্রতিহত করে। হলুদের ক্রমাগত ব্যবহার ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। কাঁচা হলুদ আজকাল সারা বছর বাজারে পাওয়া যায়। তাই কাঁচা হলুদকে যেমন প্রাচীনকালে সমান তালে রূপচর্চায় ব্যবহার করা হয়েছে এসময়ও রূপচর্চায় কাঁচা হলুদের ব্যবহার ব্যাপক।

নারিকেল তেলকে কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার
চুলকে নরম রেশমি স্বাস্থ্যকর করে তুলতে আদিমকাল থেকেই নারিকেল তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তাই বাজারে অন্য যেকোনো রাসায়নিক কন্ডিশনার থেকে নারিকেল তেল কন্ডিশনার হিসেবে অনন্য। বাজারে চুলের জন্য অনেক তেল রয়েছে কিছু নারিকেল তেল চুলের জন্য অনেক ভালো এবং এটি কন্ডিশনারের কাজ করে থাকে।

চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে আলুর ব্যবহার
নানি-দাদির কাছে গল্প তো শুনছেনই যে, চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতে আলু তুলনাহীন। এটি চোখের নিচের ফোলা ভাবও দূর করে।
এক্ষেত্রে যা করতে হবে তা হলো আলু পাতলা করে কেটে ধুয়ে চোখের উপরে ৫-১০ মিনিট রেখে দিতে হবে এবং নিয়মিত এটি করতে হবে। তাহলে দেখবেন চোখের নিচের কালো দাগ গায়েব।

তেলের সাহায্যে রূপচর্চা
প্রতি রাতে ঘুমের আগে কিছুণ হাঁটু ও কনুইয়ে সরিষার তেল মালিশ করা যেতে পারে। এটি ত্বক কোমল রাখে এবং ব্লিচের কাজও করে। সমপরিমাণ সরিষার তেল, তিলের তেল ও নারিকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে মালিশ করলে ত্বক মসৃণ হয়।
নারিকেল তেলের সঙ্গে আমলকি বাটা চুলায় জ্বাল দিয়ে তা কয়েক দিন বোতলে সংরণ করে রাখতে পারেন। এটি ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। শুধু তিলের তেল ব্যবহার করলেও কালচে ভাব দূর করা যায়। চন্দনের তেল নিয়মিত মালিশেও হাঁটু ও কনুইয়ের কালো ভাব দূর হয়।

লেবু ও মধুর সাহায্যে রূপচর্চা
লেবুর রস ও চিনির মিশ্রণ স্ক্রাবিংয়ের কাজও করবে আর কালো ভাব দূর করতেও সাহায্য করবে। সুজি হালকা টেলে নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে স্ক্রাব করা যেতে পারে।
তুলসী পাতা, লেবু ও মধুর মিশ্রণ ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করে ২০ মিনিট রেখে তুলে ফেলতে হবে। এটি করতে হবে সপ্তাহে ৩ দিন। আলুর রস ও মধুর মিশ্রণের ব্যবহারেও কালচেভাব কমবে।

টমেটো ও মধু ব্লিচের কাজ করবে
চন্দন ও লেবুর খোসা বাটা একসঙ্গে মিশিয়ে কিছুণ লাগিয়ে রাখলে কালচে ভাব কমে।

দুধের সাহায্যে রূপচর্চা
দুধের সর, কয়েক ফোঁটা পেস্তা বাদামের তেল এবং সামান্য পরিমাণ গ্লিসারিন মিশিয়ে হাঁটু ও কনুইয়ের ত্বকে লাগিয়ে রেখে মালিশ করে তুলে ফেলুন। এতে ত্বক কোমল হবে। দুধ, মধু ও লেবুর মিশ্রণও ত্বক উজ্জ্বল করে। ওটমিল ও দুধ মিশিয়ে কনুই ও হাঁটুতে স্ক্রাব করা যেতে পারে।