খেলা

ক্রিকেট কোচদের আয়-রোজগারের কাহিনি

ক্রীড়া প্রতিবেদক
বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ‘ক্রিকেট’-এ কোচের গুরুত্ব অনেক। কোচরা ক্রিকেটারদের কৌশলগত নানা দিক শিখিয়ে থাকেন। খেলোয়াড়দের মানসিক দিকটিও পরিচর্যা করতে হয় তাদের। দলের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে তাদের আয়-রোজগার ও চুক্তির মেয়াদ। যে কোচের কৌশলজ্ঞান যত বেশি, তার পারিশ্রমিকও তত বেশি।
এই মুহূর্তে রবি শাস্ত্রী ক্রিকেটদুনিয়ার সবচেয়ে ধনী কোচ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) বলা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড। আর তাই জাতীয় কোচকে তারা আকর্ষণীয় বেতন দেয়। বছরে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বেতন পেয়ে থাকেন শাস্ত্রী। জাতীয় দল থেকে অবসর নেয়ার পর ধারাভাষ্য দিয়ে যথেষ্ট খ্যাতি অর্জন করেন শাস্ত্রী। ভারতীয় দলে টিম ডিরেক্টরের পদ সামলানোর পাশাপাশি এবার দ্বিতীয় মেয়াদে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন রবি শাস্ত্রী।
খেলোয়াড়ি জীবনে সফল অস্ট্রেলিয়ার জাস্টিন ল্যাঙ্গার এখন দেশটির প্রধান ক্রিকেট কোচ। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে ওপেনারদের তালিকায় সেরার কাতারে ছিলেন ল্যাঙ্গার। ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের দায়িত্ব পান তিনি। অস্ট্রেলিয়া দলের প্রধান কোচ হিসেবে তার বার্ষিক বেতন ৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা।
অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম শ্রেণি ও লিস্ট-এ ক্রিকেট খেলেছেন ট্রেভর বেলিস। কিন্তু জাতীয় দলে খেলার সৌভাগ্য হয়নি তার। তবে একুশ শতকে ক্রিকেট কোচিং পেশায় দ্রুতই খ্যাতি পান বেলিস। শ্রীলংকা জাতীয় দল ছাড়াও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ঘুরে ২০১৫ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় দলে কোচের দায়িত্ব নেন এ অস্ট্রেলিয়ান। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের কোচ হিসেবে তার বার্ষিক বেতন ৫ লাখ ২০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে নিজেকে কোচ হিসেবে এরই মধ্যে তিনি নিয়ে গেছেন অন্য উচ্চতায়।
গত বিশ্বকাপে বাজে পারফর্ম করায় শ্রীলংকা কোচের পদ থেকে যেকোনো মুহূর্তে ছাঁটাই হওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন চন্দ্রিকা হাথুরাসিংহে। এসএলসি এখনো তাকে ছাঁটাই না করলেও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন হাথুরাসিংহে। বাংলাদেশ দলের সাবেক এ কোচ ক্রিকেট দুনিয়ায় একজন কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কোচ ছিলেন হাথুরাসিংহে। এরপর শ্রীলংকার দায়িত্ব নেন তিনি। শ্রীলংকা জাতীয় দলে তার বার্ষিক বেতন ৫ লাখ ডলার বা প্রায় ৪ কোটি ৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।
শুধু প্রধান কোচ নন, পাকিস্তান দলের প্রধান নির্বাচকও মিসবাহ-উল হক। গত বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের বাজে পারফরম্যান্সের পর ছাঁটাই হন মিকি আর্থার। তার জায়গায় প্রধান কোচের দায়িত্ব পান মিসবাহ। পাকিস্তান দলের টেস্ট ইতিহাসে সেরা অধিনায়কও তিনি। কোচিংয়ের তেমন কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও মিকি আর্থারের সমান বেতনই পাচ্ছেন মিসবাহ। তার বার্ষিক বেতন আড়াই লাখ ডলার বা প্রায় ২ কোটি ১১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
ক্রিকেটবিশ্বে নিউজিল্যান্ড সব সময়ই পাদপ্রদীপের বাইরে থাকা দল। দলটির কোচেরাও সেভাবে আলোচিত হন না। তবে মাইক হেসন গত কয়েক বছরে বেশ সুনাম অর্জন করেছিলেন। তিনি যাওয়ার পর হাল ধরেছেন গ্যারি স্টিড। ঘরোয়া ক্রিকেটেও বেশ সফল ছিলেন তিনি। কোচের দায়িত্ব পাওয়ার পর তার অধীনে তিন সংস্করণেই বেশ ভালো করছে নিউজিল্যান্ড। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে ছন্দে ফিরেছে কিউইরা। নিউজিল্যান্ড কোচ হিসেবে স্টিডের বার্ষিক বেতন ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার বা প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা।
সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট না খেলেও বড় মাপের কোচ হতে পেরেছেন, এমন বিরল মানুষদের একজন রাসেল ডমিঙ্গো। দণি আফ্রিকার ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়াও দেশটির বয়সভিত্তিক দলে কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে ডমিঙ্গোর। সামলেছেন দণি আফ্রিকা জাতীয় দলের দায়িত্বও। চার বছর নিজ দেশের জাতীয় দলের কোচ থাকার পর কিছুদিন বসেই ছিলেন ডমিঙ্গো। এরপর কোচ হওয়ার প্রস্তাব পান বাংলাদেশের তরফ থেকে। বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে ডমিঙ্গোর বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার বা প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেয়ার পর বয়সভিত্তিক দলে কোচের দায়িত্বে ছিলেন ফয়েড রেইফার। এ বছরের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দায়িত্ব ছাড়েন রিচার্ড পাইবাস। তার জায়গায় রেইফারকে বেছে নেয় ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট বোর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের কোচ হিসেবে রেইফারের বার্ষিক বেতন ৯০ হাজার ডলার বা প্রায় ৭৬ লাখ ২৯ হাজার টাকা।
শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট। আইসিসি নিষিদ্ধ করেছে দলটিকে, এ বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নিতে পারবে না তারা। এ ছাড়া পারিশ্রমিক নিয়ে জটিলতাও রয়েছে। তবে দেশটির ক্রিকেট কাঠামো বিবেচনায় বেশ ভালো অংকের বেতনই পান কোচ লালচাঁদ রাজপুত। গত বছর অন্তর্বর্তীকালীন কোচ থেকে পূর্ণ মেয়াদে জিম্বাবুয়ে দলের কোচের দায়িত্ব পান এ ভারতীয়। জিম্বাবুয়ে কোচ হিসেবে রাজপুতের বার্ষিক বেতন ৫০ হাজার ডলার বা প্রায় ৪২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।