কলাম প্রতিবেদন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকুক

দুর্নীতি মানুষের মজ্জাগত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক, সবখানেই ছড়িয়ে পড়েছে দুর্নীতি। ঘুষ দিয়ে এবং ঘুষ নিয়ে যেমন দুর্নীতি করা হচ্ছে, তেমনি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে এবং ট্যাক্স কম দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েও দুর্নীতিকে লালন করা হচ্ছে। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেই দুর্নীতির মাধ্যমে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা যেমন বাড়ছে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও দুর্নীতির মনোভাব ক্রমেই দৃঢ় হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ মানুষের দুর্নীতিপ্রবণ এই মনোভাবের কারণে সরকারের অর্জন ম্লান হচ্ছে, সরকার হচ্ছে সমালোচিত। দুর্নীতির কারণে অবৈধ লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় এবং টাকা পাচার হয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আর দলমতনির্বিশেষে এ নীতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্ব এমনকি দলীয় এমপি-মন্ত্রীরাও বাদ পড়ছে না। এতে দলের মুষ্টিমেয় লোকজন অখুশি হলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের কারণে খুবই খুশি।
এমতাবস্থায় দুর্নীতি দমনে সমন্বিত অভিযান জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন, এনবিআর এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
সমাজ বা রাষ্ট্রে দুর্নীতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা, যার দায় এসে পড়েছে সরকারের ওপর। তাই দুর্নীতিবাজদের লাগাম টেনে ধরতে সমন্বিত এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটর করবেন। তিনি উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেখে সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজদের একটি তালিকা তৈরি করবেন। ওই তালিকা দুদক, এনবিআর এবং আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানো হবে। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনা হবে।
আমরাও মনে করি, দুর্নীতি দমনে সমন্বিত অভিযান যেমন জরুরি, সারা বছর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখাও জরুরি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যেমন সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখতে হবে, তেমনি দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ জেল-জরিমানার ব্যবস্থা করলে সমাজে দুর্নীতির মাত্রা পর্যায়ক্রমে কমে আসবে।