প্রতিবেদন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানে খুশি সাধারণ মানুষ: চিন্তিত দুর্নীতিবাজরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্রলীগ-যুবলীগই শুধু নয়, আওয়ামী লীগে যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রাক্কালে শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগকে ধরেছি, আওয়ামী লীগেও যারা দুর্নীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদেরও ধরা হবে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই কঠোর অবস্থানে খুশি সাধারণ মানুষ। এর বিপরীতে শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে দারুণ চিন্তায় পড়ে গেছে অনৈতিকভাবে অর্থ-সম্পদের মালিক বনে যাওয়া ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ, ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা এবং সরকারের প্রভাববলয়ে থাকা সুবিধাভোগী দুর্নীতিবাজ আমলারা।
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানের পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এখানে ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ-যুবলীগের প্রশ্ন নয়, আওয়ামী লীগেও এসব অপকর্ম যদি কেউ করে সেটারও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্নীতি, অপকর্ম, শৃঙ্খলাভঙ্গ- এসবের জন্য কিন্তু অনেকেই নজরদারিতে আছেন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
যত বড় রাঘববোয়াল, গডফাদারই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না Ñ এমন মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপকর্মের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েই অগ্রসর হচ্ছেন।
তিনি বলেন, শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক নেতাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। সারাদেশে যেখানেই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়ম হবে, শৃঙ্খলাভঙ্গ হবে, সর্বত্রই একই নিয়মে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা কার্যকর হবে। এখন যুবলীগ-ছাত্রলীগ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ছাত্রলীগের দু’জনকে অব্যাহতি দেয়া, যুবলীগের দুই জনকে গ্রেপ্তার করা, ক্যাসিনোকেন্দ্রিক যে অভিযান এটা ঢালাওভাবে ছাত্রলীগ আর যুবলীগের বিরুদ্ধে নয়। ছাত্রলীগ-যুবলীগে বহু ত্যাগী নেতাকর্মী আছে, তারা অনেক ভালো কাজও করছে। দুর্নীতি, অনিয়ম, বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারা জড়িত, যাদের আচরণে পার্টি ও সরকারের ভাবমূর্তি ুণœ হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেই ‘কেস টু কেস’ খোঁজখবর নিয়ে অ্যাকশন নেয়া হচ্ছে। এটা আগেও নেয়া হয়েছে।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দুদকও অনেকের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে। যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে, তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। কারও কারও কনভিকশনও হয়ে গেছে। সরকার এই প্রথম যে শুদ্ধি অভিযানে নেমেছে, তা তো নয়। শেখ হাসিনার সরকার প্রথম থেকেই জিরো টলারেন্স নিয়েই অপকর্ম, দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে একই মনোভাব প্রদর্শন করছে। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা অ্যাকশনেই তা দেখাচ্ছি। এই অ্যাকশনের কারণে শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা জনগণের কাছে অনেক বেড়ে গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুবলীগ নেতাদের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঢাকা শহরে অবৈধভাবে কোনো ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়ে কেউ মদদ দিয়ে থাকলে কিংবা আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে থাকলে, এমনকি পুলিশের মধ্যেও যদি কেউ এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদেরও কোনোরূপ ছাড় দেয়া হবে না। এমনকি এক্ষেত্রে কোনো গডফাদারেরই রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গুটিকয়েক মানুষের জন্য গোটা পার্টি তো বদনামের ভাগিদার হবে না। এসব অপকর্ম করছে গুটিকয়েক লোক। তারা ছাত্রলীগের, যুবলীগের কিংবা আওয়ামী লীগের যে সংগঠনেরই হোক। যারা দলের ভাবমূর্তি ুণœ করছে অপকর্ম করে। এতে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ুণœ হচ্ছে। অনেকেই নীরবে হয়ত অনেক কিছু হজম করছে। কিন্তু এই অ্যাকশনটা হওয়ার পর সারাদেশে সাধারণ মানুষ খুব খুশি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বিবৃতির পর আওয়ামী লীগের অনেকেরই গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য মায়াকান্না কেঁদে যেসব আমলা দেদারসে দুর্নীতি করে চলেছেন, তাদেরও গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। অনেকেই অবৈধ অর্থ-সম্পদ সরিয়ে ফেলার কাজে নেমেছেন। আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের যেসব লোক এতদিন মনে করতেন, তারা আওয়ামী ঘরানার লোক, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের পিলে চমকে যাওয়ার অবস্থা হয়েছে। অনেক দুর্নীতিবাজ নেতা ও আমলা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে আসলে দুর্নীতি করে পার পাওয়ার কোনো উপায় নেই। এর বিপরীতে সাধারণ মানুষ মনে করছে, দুর্নীতি প্রতিরোধে শেখ হাসিনা প্রকৃতই জিরো টলারেন্স নীতিতে আছেন, যার জন্য নেত্রীর নিজ দলের লোকও রেহাই পাচ্ছে না। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুষ্টিমেয় দুর্নীতিবাজ অখুশি হলেও দলমত নির্বিশেষে সারাদেশের অধিকাংশ মানুষ খুশি।