প্রতিবেদন

নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রকাশ ও উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। সারাদেশে বিভিন্ন নদনদীর ৪৬ হাজার ৭৪২ জন দখলদারের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকাশিত তালিকা অনুসারে সংশ্লিষ্টদের সময়াবদ্ধ উচ্ছেদ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রোগ্রাম) পরিচালনার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
জানা গেছে, হাইকোর্টের ১৩৯৮৯/২০১৬নং রিট পিটিশনের আদেশ সুষ্ঠু বাস্তবায়নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ১৯তম ও ২০তম সভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসক ও আহ্বায়ক, জেলা নদী রক্ষা কমিটির নিকট হতে প্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট জেলার নদ-নদীর অবৈধ দখলদারের তালিকা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য ইতোমধ্যে কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের চাহিদা মোতাবেক জেলাধীন নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসক ও আহ্বায়ক, জেলা নদী রক্ষা কমিটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ২০তম সভায় অবৈধ দখলদারদের তালিকা জনসম্মুখে প্রকাশ ও ওই তালিকা অনুসারে উচ্ছেদ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রোগ্রাম) পরিচালনার স্বার্থে জেলা প্রশাসকগণকে কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
নির্দেশনাগুলো হলো, নদ-নদীর অবৈধ দখলদারদের তালিকা জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই তালিকা অনুসারে অবিলম্বে সময়াবদ্ধ উচ্ছেদ কার্যক্রম (ক্রাশ প্রোগ্রাম) পরিচালনা করতে হবে। একইসঙ্গে উদ্ধারকৃত নদ-নদী ও তীরভূমি, ফোরশোর যাতে পুনঃদখল না হতে পারে তা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারির মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ইতোমধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করা হয়ে থাকলে ওই চাহিদাপত্রের অনুলিপি কমিশনে প্রেরণ করতে হবে। উচ্ছেদ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের বরাদ্দ চেয়ে এখনও ভূমি মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ না করা হয়ে থাকলে, জরুরি ভিত্তিতে চাহিদাপত্র ভূমি মন্ত্রণালয়ে এবং পত্রের অনুলিপি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনে প্রেরণ করতে হবে।
মহামান্য হাইকোর্টের ১৩৯৮৯/২০১৬নং রিট পিটিশনের ৩ নম্বর আদেশে বলা হয়েছে, নদী রক্ষা কমিশনকে তুরাগ নদীসহ দেশের সকল নদ-নদী দূষণ ও দখলমুক্ত করে সুরক্ষা, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নের নিমিত্ত আইনগত অভিভাবক (চবৎংড়হ রহ ষড়পড় ঢ়ধৎবহঃরং) ঘোষণা করা হলো। নদ-নদী সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়, বাংলাদেশের সকল নদ-নদী দূষণ ও দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক নৌ চলাচলের উপযোগী করে সুরক্ষা, সংরক্ষণ, উন্নয়ন, শ্রীবৃদ্ধিসহ যাবতীয় উন্নয়নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন বাধ্য থাকবে। নদ-নদী সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নদী রক্ষা কমিশনকে সঠিক এবং যথাযথ সাহায্য ও সহযোগিতা দিতে বাধ্য থাকবে। জেলা নদী রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে জেলা প্রশাসক ও কালেক্টরগণ নদ-নদী রক্ষা, দিয়ারা জরিপ সম্পন্ন করা, সীমানা নির্ধারণ ও অবৈধ দখল উচ্ছেদের কার্যক্রম ও দায়িত্বাবলি সংশ্লিষ্ট অফিস/দপ্তর/অধিদপ্তর/সংস্থাগুলোর পারস্পরিক সহায়তা ও সহযোগিতার মাধ্যমে অবিলম্বে সম্পন্ন করবে বলে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন প্রত্যাশা করছে।
জেলা প্রশাসক/কালেক্টর ঝঃধঃব অপয়ঁরংরঃরড়হ ধহফ ঞবহধহপু অপঃ (ঝঅঞঅ) ১৯৫০-এর ১৪৩ ও ১৪৯ (৪) ধারার ক্ষমতার যথার্থ ও ন্যায়ানুগ প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো সময় সিএস পর্চানুযায়ী নদীর বাস্তব অবস্থা/সীমানা/পূর্বাপর দলিলাদি/পর্চাসহ (যদি থাকে) ব্যক্তি/গোষ্ঠী/সংস্থার মালিকানা, দখল ও দাবির পক্ষে সকল প্রমাণাদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারের নামে (রাষ্ট্রের পক্ষে) জনঅধিকারভুক্ত সম্পত্তি (জরমযঃ ড়ভ ঢ়ঁনষরপ বধংবসবহঃ) হিসেবে হালনাগাদ করে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ক্ষমতাবান ও দায়িত্বপ্রাপ্ত। ১৪৪ (ক) ধারায় বর্ণিত জড়জ (ঝজ/ইঝ/ঝঅ)-এর চৎবংঁসঢ়ঃরাব ঠধষঁব প্রমাণাদি/সাক্ষ্যাদির প্রেক্ষিতে বস্তুনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে তা ভুল (রহপড়ৎৎবপঃ) প্রমাণিত হলে সেই রেকর্ড/খতিয়ান জঝ/ইঝ যাই-ই হোক না কেন, কালেক্টর উক্ত ১৪৩/১৪৯ (৪) ধারায় তা বাতিল করবেন/করাবেন/ভূমি মন্ত্রণালয়ের ২৩/৯/২০১৫ তারিখে জারিকৃত পরিপত্র (স্মারক নং-৮৪১) এ পত্রে সংযুক্ত করা হলো। পরিপত্রটি অবশ্য অনুসরণীয়। উক্ত আইন ও হাইকোর্টের রায়ের নজির যথোপযুক্ত বিবেচনায়, জেলা প্রশাসক/কালেক্টর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ঝঅঞঅ-এর ১৪৫ (ঙ) এবং ১৪৫ (চ) ধারায় বর্ণিত বিধান ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র বিবেচনায় এনে কালেক্টর যথোপযুক্ত আইনানুগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। মহামান্য হাইকোর্টের পূর্বোক্ত রায়ে বর্ণিত আদেশ-নির্দেশনা, বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধান অনুসরণে জেলা নদ-নদীসমূহের অবৈধ দখল, উচ্ছেদ ও উদ্ধার এবং নদীসম্পদ-পানি, পলি, বালু, পাথর ইত্যাদি প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগে যথোপযুক্ত ব্যবস্থাপনা এবং পানি ও পরিবেশের দূষণমুক্তকরণ, নদীর প্রবাহ সচল নিশ্চিতকরণ এবং নাব্যতা পুনরুদ্ধারে সর্বোপরি ন্যাস সম্পত্তি (নদী ও নদীর তীরভূমি) সংরক্ষণ করতে জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর সাহসী পদক্ষেপ ও ন্যায়ানুগ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে আশা করে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন।
জেলা প্রশাসক নদ-নদীর অবৈধ দখল উদ্ধারে ফৌজদারী কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট বিধি-১৩৩, ১৩৯(ক) ধারায় নদী, খাল বা পথ/স্থানের গণউৎপাত বা উপদ্রব অপসারণের আদেশ প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন। সংশ্লিষ্ট দ-বিধির অধীনেও (ধারা ২৭৭, ২৭৮, ২৮১-২৮৩) অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গৃহীত হতে পারে।
এমতাবস্থায়, বর্ণিত নির্দেশনাসমূহ অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নপূর্বক এ কমিশনকে অবহিতকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এক্ষেত্রে ব্যর্থতাকে তার (জেলা প্রশাসক ও আহ্বায়ক, জেলা নদী রক্ষা কমিটি) কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা (ওহধপঃরড়হ) বলে গণ্য করা হবে।