কলাম

এমএলএম ব্যবসা ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে: বিপর্যয় এড়াতে এখনই লাগাম টেনে ধরতে হবে

ক্যাসিনোর মতো আবারো এমএলএম ব্যবসা ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। ডেসটিনি, যুবক, ইউনিপেটুইউ, ইউনিগেটটুইউসহ অন্তত ২০টি এমএলএম কোম্পানি সাধারণ মানুষের ৭০ হাজার কোটি টাকা লুটে নেয়ার পর সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়া হয়। ডেসটিনির বিপর্যয়ের পর দেশে এমএলএম ব্যবসা কিছুদিন বন্ধ ছিল। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নিস্পৃহতায় ওই অবৈধ ব্যবসাটি আবার জেঁকে বসেছে।
জানা যায়, বর্তমানে দেশে দুই শতাধিক এমএলএম কোম্পানি প্রতারণার জাল বিস্তার করেছে। লাইসেন্স ছাড়াই তারা এ প্রতারণামূলক ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে এমএলএম পদ্ধতিতে ব্যবসা নিষিদ্ধ হওয়ায় প্রতারণার ধরন পাল্টে ই-কমার্স, ই-বিজনেস ও ডাইরেক্ট টেলিমার্কেটিং ইত্যাদি নামে এমএলএম কোম্পানি গড়ে উঠেছে। এসব কোম্পানি ফুড সাপ্লিমেন্ট, প্রসাধনসামগ্রী, হারবাল ওষুধ, ব্রেসলেট ইত্যাদি বিপণনের নামে এমএলএম কার্যক্রম চালাচ্ছে। এছাড়া ভারত, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা, নেপাল ও পাকিস্তান থেকে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসছে। তারা মাল্টিপারপাস আদলের যেনতেন একটা সার্টিফিকেট/ট্রেড লাইসেন্স জোগাড় করেই প্রতারণার পসরা নিয়ে বসছে।
এসব এমএলএম কোম্পানির কোনোটিরই অনুমোদন নেই, অফিস নেই, দেশে প্রচলিত ব্যবসাবাণিজ্য, রীতিনীতির সঙ্গেও কোনো মিল নেই। সরকারের অনুমোদন ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনা করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এরা। অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে কোম্পানিগুলো সদস্য বানাচ্ছে সহজ-সরল তরুণ-তরুণীদের। ভার্চুয়াল মাধ্যমেও এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা করছে কিছু কোম্পানি।
বেকার তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে গৃহবধূরাও এই প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছেন। নিত্যনতুন কৌশলে সাধারণ মানুষজনের তিল তিল করে জমানো টাকা লুটে নেয়ার দৌরাত্ম্য আবার নতুন করে শুরু হয়েছে। তারা ডেসটিনি, যুবক, ইউনিপেটুইউ, ইউনিগেটটুইউর প্রতারণা ভুলে গেছে। ভুলোমনা চরিত্র, অত্যধিক লোভ, দুর্নীতিপরায়ণতা, আয়েশি মনোভাব, দ্রুত ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা শিক্ষিত-অশিক্ষিত মানুষকে আবারো টেনে নিয়ে যাচ্ছে এমএলএম কোম্পানিগুলোর দিকে।
মাল্টি লেভেল মার্কেটিং অনেকটাই জুয়া খেলার মতো। সরকার জুয়া খেলা অর্থাৎ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। এর মাঝেই এমএলএম কোম্পানিগুলো নিরবে তাদের জুয়ার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্যাসিনোর মতো নতুন গজিয়ে ওঠা এমএলএম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থানে যেতে হবে। এদের লাগাম এখনই টেনে ধরা না গেলে ডেসটিনি-যুবকের মতো আরেকটি বিপর্যয়ের দিকেই এগিয়ে যেতে হবে। প্রতারকদের প্রতারণার দায় এসে পড়বে সরকারের ওপর। তাই দ্রুত বিনষ্ট করে দেয়া উচিত এমএলএম কোম্পানির প্রতারণার জাল।