প্রতিবেদন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবং চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে জনমনে স্বস্তি: আতঙ্কিত দুর্নীতিবাজ মহল

এম নিজাম উদ্দিন
দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনা সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির আলোকে সম্প্রতি অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশেই এখন আলোচনার শীর্ষে রয়েছে সরকারের চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলমান এই অভিযানে দুর্নীতিবাজ মহল আতঙ্কিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে দেশের মানুষ সমর্থন দিচ্ছে। জনগণের কাছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে। নিজ দলের দুর্নীতিবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করায় জনগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘আয়রন লেডি’ বলে সম্বোধন করতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, দেশে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলাকালীন জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ পরিষদে যোগদান করতে নিউইয়র্ক শহরে অবস্থানকালে গত ২৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় বক্তৃতাকালেও শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, কারা উন্নয়ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত করছে, কোথায় ফাঁকফোকর রয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। দুর্নীতি না হলে দেশের চেহারা অনেক আগেই পাল্টে যেত।
শেখ হাসিনা বলেন, দুর্নীতি-অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খলতার সাথে জড়িত থাকলে দলের লোকদেরও কোনোরূপ ছাড় দেয়া হবে না।
এমতাবস্থায় অনেকেই এখন মন্তব্য করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করেছেন, সন্ত্রাস দমন করেছেন। একমাত্র তাঁর পক্ষেই সম্ভব দুর্নীতির মূলোৎপাটন করা।
দুর্নীতি করলে কেউ যে ছাড় পাবেন না, এমনকি আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা, শীর্ষ আমলা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবহন নেতা যে অভিযানের বাইরে নেই, তা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। তাঁর সঠিক, সময়োপযোগী ও দৃঢ়চেতা সিদ্ধান্তে দুর্নীতিবাজরা কোথায় লুকাবে, ভেবে পাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের আদর্শিক ও ত্যাগী নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করে অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তারা বলেছেন, সবচেয়ে ভালো লক্ষণ এই যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের দল থেকেই শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। দুর্নীতির মূলোৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই অভিযান অব্যাহত রাখবেন এবং আরো বিস্তৃত করবেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন, ‘ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি, একে একে সকলকে ধরব।’
অনেকে মন্তব্য করছেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন অভিযান অব্যাহত রেখে প্রথমে দলকে শুদ্ধ করবেন, তারপর দেশকে শুদ্ধ করবেন এবং এ কাজে তিনি খুব একটা সময় নেবেন না। টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম দেড় বছরের মধ্যেই তিনি সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করবেন, পরবর্তী সাড়ে তিন বছরে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাবেন।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গডফাদারের নাম চলে এসেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা অনেক আমলা, মন্ত্রী, এমপি, প্রভাবশালী রাজনীতিক এমনকি কিছু ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার নামও বলেছেন, নাম এসেছে প্রভাবশালী অনেক সাংবাদিকের; যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ উপায়ে কাড়ি কাড়ি টাকা বানিয়েছেন এবং বিদেশে পাচার করেছেন। এই গডফাদারদের ধরার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণদান শেষে দেশে ফিরলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে গডফাদারদের ধরার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে।
শেখ হাসিনার গৃহীত চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে চলা অনেক গডফাদার। দুর্নীতিবাজের তালিকায় নিজেদের নাম রয়েছে কি না সেটি জানতে ক্ষমতাসীন দলের অনেক এমপি দ্বারস্থ হচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের। কেন্দ্রীয় নেতারাও তালিকায় কাদের নাম রয়েছে বলতে পারছেন না। ফলে মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা কেউই এ নিয়ে মুখ খুলছেন না।
তবে জানা গেছে, বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত সাবেক ১০ মন্ত্রী, ৫০ এমপি, ৪ সিটি মেয়র, ৬ পৌর মেয়র, সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শতাধিক কর্মকর্তা এবং ১২৮ জন প্রভাবশালী সাংবাদিকের নাম আলোচনায় আছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজস্ব টিম দিয়ে এদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন এবং অনেকের বিরুদ্ধেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহীর কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস এবং ক্যাডার রাজনীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। ওই দিনই মূলত শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অপসারণের মাধ্যমে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছিল, যা এখন যুবলীগ ও তাদের নিয়ন্ত্রিত সাম্রাজ্যের ওপর আঘাত হেনেছে। অনেকে বলছেন, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে ফিরে এসে এ অভিযান আরো জোরদার করবেন এবং তখন ধরপাকড় থেকে বাদ পড়বে না কোনো রাঘব বোয়াল।
জানা গেছে, গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী লন্ডন থেকে ফিরলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা থেকে একটি ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়। সেই ফাইলে পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতার বিভিন্ন অপকর্মের বিবরণ ছিল। প্রধানমন্ত্রী এর পর তাঁর নিজস্ব টিম দিয়ে এইসব অভিযোগ খতিয়ে দেখেন। সেখান থেকে তিনি ২০০ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পান।
এর আগে চলতি বছরের ২৯ মার্চ গণভবনে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সভায় এ বিষয়ে আলোচনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। সে সময় যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়।
দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একাধিকবার বলেছেন, ‘এই অভিযান শুধু ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, সেন্টমার্টিন থেকে তেঁতুলিয়া Ñ যেখানে যত দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ী আছে, সেখানে অভিযান চলবে। মাদক, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি যারাই করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে চুনোপুঁটি হোক আর রাঘব বোয়ালই হোক।’
দেখা যাচ্ছে, অপরাধ নির্মূল এবং দলের শুদ্ধি অভিযানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদক্ষেপ ও জিরো টলারেন্স নীতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে স্বাগত জানাচ্ছে সারাদেশের সাধারণ মানুষ। অনেকে বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকা-ে জড়িত অল্পসংখ্যক নেতার কারণে পুরো আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি এখন প্রশ্নের মুখে। তবে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে।
তারা আরো বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে চালানো এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অনেক চাপ ও হুমকি যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিবেচনায় নিতে হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একটা শুদ্ধি অভিযানের প্রয়োজন অবশ্যম্ভাবী ছিল, সেটা দেশের আপামর জনসাধারণ স্বীকার করে এবং প্রত্যাশাও করে।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের মতে, দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু লোকের অপকর্মের কারণে সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছিল। এদের অপকর্মের দায় আওয়ামী লীগের ওপর এসে পড়ে। এই অভিযানে কাউকে ছাড়া হচ্ছে না, সে দলের হোক আর দলের ছত্রছায়ায় থেকে করুক। ফলে এই অভিযান জনগণ ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছে। এতে জনগণের কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার ও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি বাড়ছে।
জানা গেছে, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় অন্তত চার শতাধিক নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। ছয় শতাধিক নেতাকর্মী আছে আত্মগোপনে। আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী ও আদর্শবান নেতারা বলছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে যারা এতদিন অপরাধ করত, তারা এখন টেনশন ও পেরেশানির মধ্যে রয়েছে।
তারা আরো বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের সুশৃঙ্খল বাংলাদেশ গড়তে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, লুটপাট, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে।
আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাদের মতে, অনুপ্রবেশকারীদের দাপটে ত্যাগী ও দলের পুরনো নেতাকর্মীরা তটস্থ থাকেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চায় না আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করুক। তাই এই শুদ্ধি অভিযানকে দলমতনির্বিশেষে সবাই স্বাগত জানাচ্ছে।
দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে দলের যেসব নেতাকর্মী চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অন্যায়, অপকর্ম, অনিয়ম, দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে সরকার। তবে বিভিন্ন সেক্টরে দাপুটে, বিতর্কিত এবং আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে যারা, তাদের অধিকাংশই পর্দার আড়ালে চলে গেছে।
জানা গেছে, টার্গেটে এবার সরকারদলীয় সুবিধাভোগী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, পরিবহন চাঁদাবাজ, স্কুল ও কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, কোচিং ব্যবসায়ী, নদী দখলদার, ভূমিদস্যু, বনখেকো, মিথ্যা ঘোষণার অবৈধ মালামাল আমদানিকারকসহ বিভিন্ন শ্রেণির দুর্নীতিবাজরা রয়েছে। শিগগির তাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারিতে যারা অনৈতিক প্রভাব রাখতেন, তারাও আছেন নজরদারিতে। এছাড়া আয়ের প্রকাশ্য উৎস না থেকেও অবৈধ সম্পদ অর্জন, সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে ইতোমধ্যে সমালোচিত হয়েছেন – কেন্দ্র থেকে তৃণমূল আওয়ামী লীগের এমন নেতাদের বিরুদ্ধেও বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় পরিবহনে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। প্রভাবশালী মালিকপক্ষ সরকারের ছত্রছায়ায় কৌশল বদলে চাঁদার অংক জিইয়ে রেখেছে। সরকার এবার পরিবহনের চিহ্নিত চাঁদাবাজদের ছাড় দেবে না। ঢাকায় বিভিন্ন রুটের প্রায় ৬ হাজার বাস, মিনিবাস থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এ চাঁদাবাজির নেপথ্যে ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে চলা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট জড়িত। তাদের তালিকাও সরকারের হাইকমান্ডের কাছে। শুধু বাস-মিনিবাস নয়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় চলাচলকারী টেম্পো, লেগুনা এমনকি ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা থেকেও প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তোলা হচ্ছে। এই চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধেও অভিযান চলবে।
অতীতে চাঁদাবাজদের অপতৎপরতা রোধে র‌্যাব-পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। কয়েকজন তথাকথিত প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা পরিবহন চাঁদাবাজদের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় র‌্যাব-পুলিশের সব উদ্যোগ ভেস্তে যায়। রাজধানীর শতাধিক পয়েন্টে এ চাঁদাবাজি এখন অপ্রতিরোধ্য রূপ নিয়েছে। রাজধানীর ওপর দিয়ে চলাচলকারী পণ্যবাহী ট্রাক থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। যানবাহনের চালক, কন্ডাক্টর ও হেলপাররা জানান, কোনো রুটের যানবাহনই চাঁদামুক্ত নয়।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত অনুযায়ী তাঁর একজন উপদেষ্টা সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটর করছেন। এর আগে তিনি উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা এবং সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেখে আওয়ামী লীগসংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজদের তালিকা দুদক, এনবিআরসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠান। সে অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অত্যন্ত ইতিবাচক: সেনাপ্রধান
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে নির্দেশনা দিয়েছেন এটা অত্যন্ত পজেটিভ। দুর্নীতি বা অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর যে কঠোর অবস্থান তা এ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমেই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এতে অনেক ক্রাইম কমে যাবে। তাই এটাকে আমি স্বাগত জানাই।
২৪ সেপ্টেম্বর সাভার সেনানিবাসের মিলিটারি ফার্মে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশের প্রথম ‘মিল্কিং পার্লার’ উদ্বোধনে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চলমান ক্যাসিনো অভিযান প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্তদের সৈনিক ক্লাব কিংবা এই ধরনের দুই-একটার বিরুদ্ধে যে নোটিশ হয়েছে তা আমাদের নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থাকে খোঁজ নিতে বলেছি। অবশ্যই এগুলোর ব্যাপারে যা করণীয় তা আমরা করব।

সমন্বিত অভিযান দীর্ঘায়িত হবে
জানা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বড় ধরনের দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী সমন্বিত অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে চায় সরকার। সে জন্য এনবিআরের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনকে এ কাজে সক্রিয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এমন নির্দেশনা দিয়েছেন। র‌্যাব অভিযান শুরু করার পর অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে গণভবনে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তৈরি করা একটি প্রতিবেদন পড়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রী ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সরকারি দলের নেতাদের সম্পর্কে অভিযোগগুলো বর্ণনা করে কী পদক্ষেপ নেয়া যায়, তা জানতে চান। তখন সেখানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘অ্যাকশনে’ যাওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেও ওই নেতাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। এরপর র‌্যাব মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার করা হয় যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ ভূঁইয়া এবং তাঁর সহযোগীদের। পরে দেহরক্ষীসহ গ্রেপ্তার হন যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা জি কে শামীম।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে পৌঁছেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে অভিযানের সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছেন। এ সময় তিনি র‌্যাবের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থা সমন্বিত অভিযানে না নামায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং চলমান অভিযানকে আরো দীর্ঘায়িত করার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, এর পরই প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন যাচাই করেন। প্রতিবেদনে দেড় শতাধিক নেতা ও ব্যক্তির অপরাধমূলক কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য উঠে আসে। প্রাথমিক এই তালিকায় একাধিক বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী, দলের প্রভাবশালী নেতা, সরকারদলীয় সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশনের এক মেয়রসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিতর্কিত নেতাকর্মীরা রয়েছে। যাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, কর্মরত ও অবসরে যাওয়া কয়েকজন প্রকৌশলী এবং বেশ কিছু সাবেক ও বর্তমান উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে কার সম্পর্কে কী অভিযোগ তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের
সম্পদের খোঁজে দুদক
ক্যাসিনো-জুয়া, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করা আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের বিতর্কিত নেতাকর্মীদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান করবে দুর্নীতি দমন কমিশন। ইতোমধ্যে সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতার অবৈধ সম্পদের খোঁজ নেয়া শুরু করেছে দুদক। দুদকে নামে-বেনামে অনেক অভিযোগও জমা হয়েছে।
দুদক জানায়, ছাত্রলীগ ও যুবলীগসহ দুর্নীতির সঙ্গে যারাই জড়িত সবার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততা কিংবা টেন্ডার কমিশনের সঙ্গে যাদের নামই আসছে সবারই তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। অনেক নেতাকর্মীর নামেই অনুসন্ধান করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। শিগগিরই দুদক তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি অনুসন্ধান করবে।

নজরদারিতে থাকা অনেকে আত্মগোপনে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যায়কারী, দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেবেন না তিনি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। গ্রেপ্তার হয়েছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ ভূঁইয়া। গ্রেপ্তার করা হয়েছে যুবলীগের নেতা নামধারী জি কে শামীম ও কৃষক লীগের নেতা মোহাম্মদ শফিকুল আলম ফিরোজকে।
জানা গেছে, এই তালিকায় রয়েছেন আরো অনেক রাঘব বোয়াল, যাদের শিগগিরই গ্রেপ্তার করা হতে পারে। নজরদারিতে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও বর্তমান এমপিরাও। প্রায় ১ হাজার জনের তালিকা নিয়ে সারাদেশে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মাদক, জুয়া, টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ-অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে তালিকাভুক্ত এসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। সারাদেশে চলমান অভিযানে বিতর্কিত অনেক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে আত্মগোপনে গেছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই এমপিদের সার্বিক কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করেন শেখ হাসিনা। এমপিদের জন্য ১০টি বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। এগুলো হলো টেন্ডারে হস্তক্ষেপ না করা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা, উন্নয়নকাজে হস্তক্ষেপ না করা, নিয়োগ-বাণিজ্য না করা, থানা-পুলিশে জামিন ও মামলায় তদবির থেকে বিরত থাকা, অন্য দল থেকে লোক না ভেড়ানো, গ্রুপ তৈরি না করা, দলীয় কোন্দল নিরসন করা, স্থানীয় প্রশাসনে রদবদলে ভূমিকা না রাখা, ক্ষমতা ও প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসাবাণিজ্য না করা এবং মাদকসহ অবৈধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখা। এই নির্দেশনা অমান্যকারী এমপিরা এখন নজরদারিতে রয়েছেন।

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীরাই
আসলে টাকার কুমির
ক্যাসিনো পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারকৃতরা প্রায় সবাই যুবলীগ-আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী বলে তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর আগে তারা বিভিন্ন সময় অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে তারা অবস্থান পাল্টাতে থাকে। টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজি করে রোজগার করা কোটি কোটি টাকা দিয়ে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ে।
জানা গেছে, ঢাকায় ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত রাজধানীর ৭ নেতা এসেছে ফ্রিডম পার্টি, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি থেকে। এদের হাত ধরেই প্রথমে মতিঝিলের ক্লাবপাড়া, পরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনোর প্রসার ঘটে। এই ৭ জন হচ্ছে যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোমিনুল হক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া, সমবায় সম্পাদক জি কে শামীম, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল আলম ফিরোজ (কালা ফিরোজ) এবং মোহামেডান ক্লাবের লোকমান হোসেন ভুইয়া। এর মধ্যে চারজনকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে, বাকিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এছাড়া অপর নেতা হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এসেছেন যুবদল থেকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) হয়ে আওয়ামী লীগে।

শেষ কথা
সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে বিশেষ করে গ্রেপ্তারকৃত যুবলীগের নেতা জি কে শামীম ও খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া এবং পুরান ঢাকার ওয়ারি থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হারুনুর রশিদ, গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক ভূঁইয়া ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়া এবং এনামুলের কর্মচারী স্থানীয় যুবলীগ কর্মী আবুল কালাম আজাদের নিকট নগদ কোটি কোটি টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হওয়ার পর টাকা নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে দুর্নীতিবাজ নেতারা। অনেকে নগদ টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছে গ্রামের বাড়িতে; অনেকে স্বপ্নের মহামূল্যবান টাকা আবার নষ্টও করে ফেলছে। তাছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কঠোর অবস্থানের কারণে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের অনেক দুর্নীতিবাজ নেতা ও প্রভাবশালীরা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, অনেক দুর্নীতিবাজ আবার আতঙ্কিত হয়ে দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছে।
এ নিয়ে সারাদেশের মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়ে গেছে। দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে ভীষণ খুশি। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা ছাড়া বাকি সবারই সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের ত্যাগী ও সৎ নেতাকর্মীরা এ অভিযানে উচ্ছ্বসিত। তারা মনে করেন, কিছুসংখ্যক দুর্নীতিবাজের কারণে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। তারা চান এই অভিযানের মধ্য দিয়ে সব দুর্নীতিবাজ, বিশেষ করে বড় দুর্নীতিবাজরা চিহ্নিত হোক এবং দুর্নীতিবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকুক। এতে দলের কিছু লোক অখুশি হলেও সামগ্রিকভাবে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে বহুগুণ।